শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু দীপকে হেফাজতে নিল পিবিআই

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিচিত ‘জুনিয়র বন্ধু’ দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাহসিফ সৌরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিবিআই সদস্যরা নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের ‘বি’ ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে আটক করেন পিবিআই সদস্যরা। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ হওয়ার আগে সিসিটিভি ফুটেজে দীপের সঙ্গে দেখা

তাহসিফ সৌরি নিখোঁজ হওয়ার আগে বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এতে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার শেষবারের মতো দেখা হওয়ার দৃশ্য পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা ফুটেজ দেখে ওই ব্যক্তিকে দীপ বলে শনাক্ত করেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে দেখা করেন দীপ। সেখানে দুজন হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে করে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন।

তাহসিফের পরিবারের অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যায় দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দীপ দাবি করেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা দুজন একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। মেরামতের কাজ শেষ হলে বাসায় ফিরে একসঙ্গে খাবার খান। খাওয়া শেষে দীপ নিজের গন্তব্যে চলে যান।

তবে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া এবং পরে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শেষ সময়ে তার সঙ্গে থাকা দীপের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় মরদেহ

তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন।

মরদেহের হাতে থাকা বিশেষ ধরনের ঘড়ি এবং প্যান্টের পকেটে পাওয়া আইফোন দেখে স্বজনেরা নিশ্চিত হন, এটি নিখোঁজ সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ।

মরদেহ উদ্ধারের পরদিন বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের সময় তার নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং পেট অস্বাভাবিকভাবে ফোলা ছিল। নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের অভিযোগ, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তুরাগ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় দীপকে হেফাজতে নিয়ে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের বিষয়গুলো সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top