রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ডিবির হাতে চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে বিত্তবান ও ব্যবসায়ী পুরুষদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করা চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে সম্পর্ক তৈরি করে পরে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন— জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান (৩৮), প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ (৩০), অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ (২০), সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা (২২) এবং সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি (২১)।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার জিৎ ভক্ত ওরফে আব্দুর রহমান চক্রটির মূলহোতা। প্রীতম বিশ্বাস তার ভাগনে এবং সাবরিন কবির প্রেমা তার ভাগনের স্ত্রী।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হানি ট্র্যাপের শিকার চারজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, চক্রের নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পরিচয় ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক, বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও বিত্তশালী পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে কৌশলে তাদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলে ডেকে নেওয়া হতো।

ভুক্তভোগীরা সেখানে গেলে চক্রের পুরুষ সদস্যরা তাদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখাত এবং শারীরিক নির্যাতন করত। এ সময় নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। পরে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো।

ডিবিপ্রধান জানান, একবার টাকা পাওয়ার পরও চক্রটি থেমে থাকত না। বিভিন্ন সময়ে ছবি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে একই ব্যক্তিদের কাছ থেকে একাধিকবার অর্থ আদায় করা হতো।

তিনি আরও জানান, চক্রের সদস্যরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন। পাশাপাশি ভুয়া নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করায় তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে তুরাগ থানা এলাকার একটি আবাসিক ভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, তিনটি ফাঁকা চেক, একটি টর্চার বেল্টসহ নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top