রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী থাকবেন: জামালগঞ্জের এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্টে তোলপাড়

নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দায়ী থাকবেন উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনমনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইউএনও শিল্পী রানী মোদকের দাবি, এসিল্যান্ড মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে ফেসবুকে পৃথক দুটি পোস্ট দেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য শিল্পী রানী মোদক (ইউএনও) দায়ী থাকবেন’। অপর এক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আই রিজাইন ফ্রম অ্যাডমিন ক্যাডার’ (আমি প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগ করলাম)।

জানা গেছে, আরিফুর রহমান প্রায় দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরেই বসবাস করতেন। শুক্রবার রাতে এমন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পরপরই পুলিশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর বাসায় ছুটে যান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক জানান, শুক্রবার রাতে তাঁর তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে স্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান। জন্মদিনের কেক কাটার পর বাসা থেকে বের হয়েই তিনি ফেসবুকে এই পোস্ট দেন।

ইউএনও আরও অভিযোগ করেন, রাতে বাসা থেকে বের হয়ে এসিল্যান্ড রাস্তায় অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এমনকি রাস্তায় যাদের সঙ্গেই দেখা হয়েছে, তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। ফেসবুকে তাঁর নাম জড়িয়ে কেন এমন পোস্ট দেওয়া হলো, তা তাঁর কাছেও স্পষ্ট নয় বলে দাবি করেন তিনি।

ইউএনও শিল্পী রানী মোদক বলেন, “ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয়রা তাঁর বাসায় গিয়ে দেখেন তিনি অত্যন্ত অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক এসে ওষুধ দিলেও কোনো উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে তাঁর স্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাতেই তাঁকে সিলেট পাঠানো হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেছেন।”

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়া জানান, ফেসবুকে পোস্ট দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁরা এসিল্যান্ডের বাসায় যান। চিকিৎসকের পরামর্শ ও তাঁর স্ত্রীর অনুরোধে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হলেও কাজ না করায় এবং প্রয়োজনীয় ইনজেকশন স্থানীয়ভাবে না পাওয়ায় রাত আনুমানিক একটার দিকে তাঁকে সিলেট পাঠানো হয়।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top