রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ এলেই হামলার হুঁশিয়ারি

পারস্য উপসাগর ও ইরানের জলসীমার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ভিড়লেই তা লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। বিপরীতে, ইরানে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হবে নাকি নৌ-অবরোধ ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হবে-তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে ওয়াশিংটন। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অবস্থানের কথা জানান।

বার্তা সংস্থা আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সমাবেশে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের ব্যাপক বোমাবর্ষণ অভিযান আবারও শুরু করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, বৃহৎ পরিসরে হামলা চালিয়ে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা অথবা কঠোর নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে তেহরানকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিয়ে শনিবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ প্রধান আলী আবদোল্লাহি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সামরিক সক্ষমতার কারণে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষে এ অঞ্চলের জলসীমায় সহজে ফিরে আসা সম্ভব নয়। জেনারেল আবদোল্লাহির দাবি, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের যেকোনো মার্কিন সামরিক জাহাজকে নিখুঁতভাবে নিশানা করার পূর্ণ সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার জবাবে ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

এদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে হু-হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে, যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, সাগরে একের পর এক তেলবাহী ট্যাংকার মাইন ও হামলার শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের সংঘাত নতুন মাত্রা নিয়েছে। সম্প্রতি রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার জবাবে ইয়েমেনের মারিব ও তাইজ প্রদেশে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও গোলাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এড়াতে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুক্রবার এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও সরাসরি উপস্থিত ছিল না সংঘাতের মূল দুই পক্ষ-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

বৈঠক শেষে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ সংঘাতকে আরও ভয়াবহ রূপ দেবে এবং পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের আগুনে ঠেলে দেবে। বর্তমানে সামরিক হস্তক্ষেপ কোনো সমাধান নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক দেশগুলো সমঝোতা ও আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনে আহ্বান জানালেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তেহরানভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমাগত হামলা, নিষেধাজ্ঞা ও চুক্তি ভঙ্গের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ইরান আর আগের অবস্থানে ফিরতে রাজি নয়। বোমাবর্ষণের মুখে কোনো আলোচনায় না গিয়ে নিজেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তেহরান বদ্ধপরিকর।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top