রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

ইরানে নতুন সামরিক হামলার বিপক্ষে ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্যের ৮ দেশ

ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা না চালিয়ে কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

বৈঠকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, বৈঠকে অংশ নেওয়া কোনো দেশই ইরানে নতুন করে সামরিক হস্তক্ষেপ বা হামলার পক্ষে নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়িয়ে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। তাঁর মতে, যুদ্ধ বন্ধের একমাত্র পথ কূটনীতি ও সংলাপ।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হলে কোনো পক্ষই লাভবান হবে না। এতে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন জ্বালানিপণ্যের বাজারে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে উত্তেজনা প্রশমিত করা জরুরি। শুধু সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে শনিবার বা রোববারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালাতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্যও প্রস্তুত বলে দাবি করেন তিনি। ব্যারাকের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ইরানের সরকার পরিবর্তন নয়; বরং হুমকি ও জিম্মি পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে বিশ্বে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

বৈঠকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ, ইয়েমেনের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংকট বিশ্বের অন্যান্য অংশেও প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে, পৃথক এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিসর ইসরায়েলের দখলদারত্বকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশগুলো ফিলিস্তিনে ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয় বন্ধের আহ্বান জানায়। পাশাপাশি হুতি গোষ্ঠীর সামরিক তৎপরতার নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।

বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতেই তুরস্ক এ বৈঠকের আয়োজন করেছে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top