রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ সংস্কারের পক্ষে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, মানবিক সংকট ও বৈশ্বিক বৈষম্য বৃদ্ধির এই সময়ে বহুপাক্ষিকতা কোনো বিকল্প নয়, বরং অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বার্তায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারকে সমর্থন করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক পরিসরে বহুপাক্ষিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন। হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ একটি আরও প্রতিনিধিত্বশীল, স্বচ্ছ ও কার্যকর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পক্ষে। বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে নিরাপত্তা পরিষদের অর্থবহ সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তিনি আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, সংলাপ, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন, লিঙ্গসমতা ও মানবিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে উন্নয়নশীল দেশ, স্বল্পোন্নত দেশ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। জাতিসংঘ দিবসের বার্তায় তিনি সবাইকে বিভেদ দূর করে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির বিশ্ব গঠনে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top