বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

কোনো অপশক্তিকে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না: প্রেসিডেন্ট

গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কোনো অপশক্তিকে জাতীয় ঐক্য ও দেশের অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না।

বুধবার (২১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত চললেও বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছেন। এই সম্প্রীতি দেশের শক্তি ও অস্তিত্বের ভিত্তি। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে। গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিয়ে সবাইকে সম্মিলিতভাবে দেশ গড়তে হবে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজার মূল শিক্ষা অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠীগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য বা নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য নয়। সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার।’ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। এসব অধিকার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সবাই যেন নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন ও উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রেসিডেন্ট উপস্থিত হলে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে তিনি অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ সময় প্রেসিডেন্টের সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top