বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

আগামীকাল খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখতে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও মোংলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে হেলিকপ্টারে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কথা রয়েছে তাঁর।

নির্বাচনের পর সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম খুলনা ও মোংলা সফর। তাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, এ সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণের পর দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে কোস্টগার্ডের দ্রুতগতির নৌযানে আকরাম পয়েন্ট হয়ে মোংলার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নলিয়ানে প্রস্তুতি চলছে। বিদ্যালয় মাঠ ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। তাকে একনজর দেখতে অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর নলিয়ান সফর সরকারি কর্মসূচির অংশ। সেখানে স্থানীয় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। তবে তার আগমন উপলক্ষে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নলিয়ান থেকে নৌপথে আকরাম পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা হবেন। দাকোপে তার কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।

মোংলায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বন্দরের জেটি ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করবেন। এসব স্থাপনা ঘিরে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলোর একটি মোংলা বন্দর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বন্দরটিকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, জেটি ও পণ্য ওঠানো-নামানোর সুবিধা বাড়ানো এবং আধুনিক বন্দরসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

অন্যদিকে, মোংলাসংলগ্ন প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে শিল্পকারখানা স্থাপন ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনও এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে পরিবেশের ভারসাম্য ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে, আগামী ৫ নভেম্বর আবারও খুলনা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেদিন খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন তিনি।

সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ আরও গতি পাবে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top