বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিক

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের প্রতারণা ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে মস্কো। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং কম শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ভ্রমণ সংস্থা ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর রুশ ভাষায় লেখা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তিতে তাঁদের স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। চুক্তির ভাষা তাঁরা বুঝতে পারতেন না। পরে যখন জানতে পারেন, রুশ সেনাবাহিনীর হয়ে সরাসরি ইউক্রেনের যুদ্ধে অংশ নিতে হবে, তখন তাঁরা হতবাক হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিশন।

কমিশন ৪৮টি দেশের নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য অনুসন্ধান করে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন ও জিম্বাবুয়ে।

প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। কমিশনের ভাষ্য, প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার এ ধরনের কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে বলেন, জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা যুদ্ধাপরাধ, কারণ এসব আক্রমণে সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এর ফলে তীব্র শীতের মধ্যে অন্ধকারে সাধারণ মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় অনেক বয়স্ক মানুষ লিফট ব্যবহার করে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি। একই সঙ্গে হাসপাতালের জীবনরক্ষাকারী যন্ত্রের সহায়তায় থাকা রোগীরাও গুরুতর ঝুঁকিতে পড়েন। ২০২৫-২৬ সালের শীতকালে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংগঠনের সদস্যের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন কমিশনের প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি। তাদের দাবি, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং ভুয়া তথ্যের ওপর নির্ভরশীল।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top