বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

কাউখালীতে নদীভাঙনে দেবে গেছে আমরাজুরি ফেরিঘাটের ডালা, যানবাহন পারাপার বন্ধ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সঙ্গে পিরোজপুর সদর ও নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার সড়ক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম আমরাজুরি ফেরিঘাট। নদীভাঙনে ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ের ডালা দেবে যাওয়ায় এ ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে যানবাহন পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারী হাজারো মানুষ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। হঠাৎ করে ফেরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদেরও পড়তে হচ্ছে বিপাকে।

ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রী ট্রলারে নদী পারাপার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ট্রলারে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মতো যানবাহনও পার করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, ফেরি বন্ধ থাকার সুযোগে ট্রলারে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

কলেজছাত্র রাকিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাবখান চ্যানেল ও সন্ধ্যা নদী পার হতে হচ্ছে। এতে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী রুহুল আমিন বলেন, ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আমরাজুরি ফেরিঘাটের ইজারাদার শাহিন হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘাটের আশোয়া নদী অংশে ভাঙনের কারণে ফেরির গ্যাংওয়ের ডালা দেবে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত করা হলে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, মেরামতের কাজের জন্য কারিগরি লোক আসছেন। রাতের মধ্যেই ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি দেখছি। ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top