রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

একযোগে ২৮ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

অনলাইন ডেস্ক

বেতন ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থানাসহ বিভিন্ন ইউনিটের ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত ২৮ জনকে একযোগে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হয়েছে। এরমধ্যে পুলিশের বাবুর্চি থেকে এসআই পর্যন্ত রয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং বেতন-ভাতার বাইরে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ২৮ জনের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তালিকায় খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা, ট্রাফিক বিভাগ এবং গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত সদস্যদের নাম রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। তবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো সদস্য ব্যক্তিগত স্বার্থে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করলে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে মামলা গ্রহণ, তদন্ত, অপরাধ দমন কিংবা অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে পক্ষপাতের অভিযোগ জনসাধারণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ সদস্যদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর অন্যতম লক্ষ্য তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করা। এরপরও কেউ অনৈতিক উপায়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে শুধু প্রত্যাহার বা বদলি নয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখতে অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলছেন তারা।

এ বিষয়ে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রথমে পুলিশ বাহিনীর ভেতরেই শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের প্রতি জনআস্থা তৈরির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইজিপিরও নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় খুলনা বিভাগে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top