রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

সাংবাদিক নিপীড়ন ও গণমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে উত্তাল তুরস্কেের রাজপথ

সাংবাদিকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং সংবাদ প্রচারে কঠোর সরকারি বিধিনিষেধের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে তুরস্ক। স্বাধীন সাংবাদিকতার নিশ্চয়তা ও কারাবন্দি গণমাধ্যমকর্মীদের মুক্তির দাবিতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেশটির দুই প্রধান শহর ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি তুরস্কে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ও কারাদণ্ড, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রবেশে কড়াকড়ি এবং স্বাধীন গণমাধ্যমে সরকারি প্রশাসক বসানোর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এর প্রতিবাদে শনিবার ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ মিছিলে প্রধানত সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পুলিশ ও আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় অন্তত ৩০০০ মানুষ সমবেত হন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কারারুদ্ধ সাংবাদিকদের ছবি হাতে নিয়ে ‘আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না’ এবং ‘আমরা চাপের কাছে মাথা নত করব না’ বলে স্লোগান দেন।

তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ গত দুই মাসেই ১১ জন সাংবাদিককে কারারুদ্ধ করেছে এবং বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে, সরকারের সমালোচনা করায় দেশটির সর্বাধিক দেখা সংবাদ চ্যানেল ‘হাল্ক টিভি’-তে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে সরকার-নিযুক্ত প্রশাসক বসায়। এ ছাড়া ‘এলজিবিটি প্রচারণা’র অভিযোগে শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘টি২৪’-এর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট জাফের আরাবকিরলি বলেন, ‘এই সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নয়, বরং স্বাধীন গণমাধ্যমের মাধ্যমে সমাজের সঠিক তথ্য জানার অধিকার রক্ষার লড়াই।’

তুর্কি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোকান দুরমুস অভিযোগ করেন, সরকার সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে সমাজে একপেশে ধারা ও একক কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

আঙ্কারার বিক্ষোভে কারাবন্দি সাংবাদিক ইসমাইল আরির একটি চিঠি পাঠ করা হয়। সিনকান কারাগার থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে আরি জানান, সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করা ছাড়া অন্য কোনো অপরাধ ছাড়াই তাকে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার জীবন থেকে দিনগুলো কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতা রক্ষায় সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান মেনে যেন তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, তুরস্কের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান আবুবকির শাহিনের অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাকে অপমান এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ইসমাইল আরিকে গত সাত মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো চলতি মাসে গ্রেপ্তার করা হয়।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top