ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শামোন্ডা ভাইরাসের (এসএইচএভি) সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে মারা যাওয়া এক রোগীর শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, গবাদিপশুর ‘শামোন্ডা ভাইরাস’ প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শনাক্ত হলেও জনসাধারণের জন্য বর্তমানে কোনো ঝুঁকি নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ভাইরাসটি এত দিন মূলত গবাদিপশু ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে পরিচিত ছিল।
ফরাসি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মারা যাওয়া ওই রোগীটির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল ছিল। তাদের ভাষায়, এটি ‘অত্যন্ত দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন একজন রোগীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ঘটনা’।
শামোন্ডা ভাইরাস মূলত গবাদিপশুকে আক্রান্ত করে। সংক্রমিত একধরনের ক্ষুদ্র রক্তচোষা পোকা বা মিজের কামড়ে ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। ভেড়া, ছাগল, আলপাকা ও ঘোড়ার শরীরেও এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। তবে এর আগে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণের কোনো ঘটনা জানা যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ইসিডিসি) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কীভাবে ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে পৌঁছাল, তা নিয়ে তদন্ত করছেন ফরাসি কর্মকর্তারা।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে মিজ পোকার কামড়ের মাধ্যমে ওই রোগীটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ওই অঞ্চলে বসন্তকালেই প্রথমবার প্রাণীর শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল।
মন্ত্রণালয় জানায়, রোগীটি গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে লিওঁ শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে তার স্নায়বিক জটিলতার সঙ্গে ভাইরাসটির সংক্রমণের ‘সম্ভবত সরাসরি সম্পর্ক’ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোগীটির রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল ছিল। ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিও তার বেশি ছিল। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এত দিন পর্যন্ত শামোন্ডা ভাইরাসকে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে অক্ষম বলে মনে করা হতো’। আফ্রিকা ও এশিয়ায় কয়েক দশক ধরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে থাকলেও এত দিন শুধু প্রাণীর শরীরেই এর উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছিল।
শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত গবাদিপশুর মধ্যে জ্বর, ডায়রিয়া এবং দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সংক্রমিত মিজ পোকার কামড়ের মাধ্যমে গবাদিপশুতে ভাইরাসটি ছড়ায়।
এদিকে মানুষের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার এটিই প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঝুঁকি মূল্যায়ন করেনি। তবে বর্তমানে পাওয়া তথ্য এবং একই ধরনের রোগ সম্পর্কে বিদ্যমান জ্ঞান অনুযায়ী, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন বলেই মনে হচ্ছে। আপাতত এর মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও কম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরও বলেছে, ‘পোকাবাহিত ভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত বছরের শীতল মাসগুলোতে কমে আসে।’
অন্যদিকে ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সংক্রমণটির ‘জনস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব’ খতিয়ে দেখতে তারা ফ্রান্স ও ইউরোপের অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে ভাইরাসটির প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল জুলাইয়ের শেষ দিকে। এরপর থেকে আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি ও স্পেনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের খামারের প্রাণীর শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। জার্সিতেও এর সংক্রমণ পাওয়া গেছে।





