শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

বিনিয়োগ তহবিল কেলেঙ্কারিতে তুরস্কের সাবেক মন্ত্রী কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক

তুরস্কে বিনিয়োগ তহবিলের কেলেঙ্কারির তদন্তে দেশটির সাবেক এক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন একে পার্টির জ্যেষ্ঠ নেত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ভোরে এ আদেশ দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
রয়টার্স জানায়, গত সেপ্টেম্বরে দলের উপপ্রধানের পদ ছাড়ার পর একে পার্টি থেকেও পদত্যাগ করেন কায়া। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিনিয়োগ তহবিলে সংকট শুরুর ঠিক আগে শেয়ার বিক্রি করে তিনি বড় অঙ্কের মুনাফা করেন। ওই সংকটের কারণে দেশটির শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইস্তাম্বুলের একটি আদালত কায়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হলো পুঁজিবাজার আইন লঙ্ঘন এবং অপরাধের উদ্দেশ্যে গঠিত একটি সংগঠনের সদস্য হওয়া।

ইস্তাম্বুলের প্রধান আইনজীবীর কার্যালয়ের অর্থপাচার তদন্ত বিভাগে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।একই মামলায় তার স্বামী ইলিয়াস কায়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

আইনজীবীর অভিযোগ, পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের দাম বা মূল্যকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন গোপন তথ্য কায়ার কাছে ছিল। আনাদোলুর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সংকটের কেন্দ্রে থাকা একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা এমরে তেজমেনের সঙ্গে কায়ার যোগাযোগ ছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরে প্রধান বিরোধী দল ইয়েনি পার্টির এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, কায়া ও তার স্বামী বিনিয়োগ বিক্রি করে প্রায় ২১৭ কোটি লিরা বা ৪ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার ডলার পেয়েছেন। তাদের মোট ১৬ কোটি ৩০ লাখ লিরা বা ৩২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বিনিয়োগ বিক্রির মাধ্যমে এ অর্থ আসে বলে অভিযোগ করা হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে এসব বিনিয়োগ বিক্রি করা হয়েছিল। এর বেশির ভাগই ছিল জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওজাতা দেনিজিলিকের শেয়ার। এপ্রিলের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ২২০ লিরা। ১৫ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯৮০ লিরায়। অর্থাৎ, বিনিয়োগ তহবিল খাতে অস্থিরতা শুরুর আগেই শেয়ারটির দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের সন্দেহ, কম লেনদেন হওয়া কয়েকটি শেয়ারের দাম কারসাজির মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে বাজারে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এসব শেয়ারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top