শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নে দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন একসময়ের প্রভাবশালী ব্রিটিশ উপস্থাপক ও হলিউডের কৌতুক অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড।

বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের জুরিরা একজন নারীকে ধর্ষণ এবং আরও তিন নারীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে তাঁকে দোষী ঘোষণা করেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা আরও দুটি ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের চেষ্টার একটি অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, মার্কিন পপ গায়িকা কেটি পেরির সাবেক স্বামী রাসেল ব্র্যান্ড যৌনতায় আসক্ত ছিলেন। বহু নারীর সঙ্গে তাঁর যৌন সম্পর্ক ছিল।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ডের স্ত্রী লরা ব্র্যান্ড। জুরির সদস্যরা একে একে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় চোখ বন্ধ করে ছিলেন অভিনেতা। তবে তাঁর মধ্যে বিশেষ কোনো আবেগের প্রকাশ দেখা যায়নি।

রায় ঘোষণার পর বিচারক জোয়েল বেনাথান বলেন, ব্র্যান্ডকে উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। আগামী সোমবার (০৯ নভেম্বর) তাঁর সাজা ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এ কারণে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের পর তাঁর সম্ভাব্য সাজা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে চার নারীর সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ব্র্যান্ড। বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বেতারকেন্দ্র, একটি রেকর্ডিং স্টুডিও এবং লন্ডনে তাঁর নিজ বাসভবন।

দোষী সাব্যস্ত হওয়া অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি ধর্ষণ ও তিনটি যৌন নিপীড়নের ঘটনা। অন্যদিকে ১৯৯৯ সালে এক নারীকে ধর্ষণ, ২০০৪ সালে আরেক নারীকে ধর্ষণ এবং ২০০১ সালে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহ ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ায় ছয় নারী ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ আনেন। তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, যৌন অপরাধের অভিযোগকারীরা আজীবন পরিচয় গোপন রাখার অধিকার পান।

আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ভুক্তভোগী এক নারী জানান, রাসেল তাঁর সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করেছিলেন। এ সময় জুরিদের উদ্দেশে প্রধান কৌঁসুলি রিয়েল কারমি-জোন্স বলেন, ৫০ বছর বয়সী রাসেল যখন চাইতেন, তখন অত্যন্ত হাস্যরসিক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ছিলেন নির্মম এবং চরম লম্পট। নারীদের কাছ থেকে কেবল নিজের স্বার্থ হাসিল করতেই তিনি আগ্রহী ছিলেন। অভিযোগকারী নারীদের প্রতি তাঁর সাক্ষ্যে একধরনের অবজ্ঞা ও ঘৃণার সুর স্পষ্ট ছিল, যা অপরাধ সংঘটনের সময় নারীদের প্রতি রাসেলের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রতিফলিত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাসেল ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে নতুন করে আইনি পদক্ষেপের মুখেও পড়তে পারেন তিনি।

তবে রাসেল ব্র্যান্ড বরাবরই পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top