বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

ঢামেকে ৭ দিনের জন্য স্থগিত অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট

নিউজ ডেস্ক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ডাকা ধর্মঘট সাত দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর।

ধর্মঘটের কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মরদেহ বাড়িতে নেওয়া কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিপাকে পড়েন অনেকে। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানে করে মরদেহ নিয়ে যান।

বুধবার সকাল থেকেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পুরোনো ও নতুন ভবন এবং বহির্বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় রোগীদের স্বজনদের দেখা যায়। কয়েকজন স্বজন অভিযোগ করেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করেও তাঁরা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাননি।

এর আগে বাংলাদেশ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাদবর জানিয়েছিলেন, ঢাকা মেডিকেলে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার রোগীর সেবায় তাঁদের ১২০ থেকে ১৩০টি অ্যাম্বুলেন্স নিয়োজিত থাকে। কিন্তু নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের জায়গা না থাকায় সড়কে গাড়ি রাখলে পুলিশ মামলা দেয় এবং ডাম্পিংয়ে পাঠায়।

তিনি জানান, হাসপাতালের পুরোনো ভবনের পাশে একটি জায়গা নিজেদের খরচে সংস্কার করেছিলেন তাঁরা। পরে সেখান থেকেও অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়। সরকারকে রাজস্ব দিতে রাজি থাকলেও অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চান মালিকেরা।

অন্যদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মো. ফরহাদ হোসেন জানিয়েছিলেন, সরকারি জায়গায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রাখার বিধান নেই। তবে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ব্যবসা করতে নিষেধ করা হচ্ছে না; তাঁদের হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করতে হবে।

বিষয়টি তদারকির জন্য শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান হাসপাতালের পরিচালক।

তিনি আরও বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেডিকেলে অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স যুক্ত করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

ধর্মঘট সাত দিনের জন্য স্থগিত হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। তবে পার্কিং সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top