বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

পোশাকশিল্পের সংকট নিরসনে জামায়াতের ১৫ দফা দাবি

অনলাইন ডেস্ক

পোশাকশিল্পের সংকট নিরসনে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, বেআইনি ছাঁটাই বন্ধ, বকেয়া বেতন পরিশোধ, বন্ধ কারখানা চালু ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তাসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব দাবি বাস্তবায়নে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত ত্রিপক্ষীয় সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ, কারখানায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও একের পর এক কারখানা বন্ধের ঘটনায় লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতে।

শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি জানান তিনি। মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান।

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে সংঘর্ষে নিহত তৌফিক শেখের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসারও আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সহস্রাধিক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। শত শত কারখানা সাময়িক বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি।

সিপিডির উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সাম্প্রতিক সময়ে শতাধিক পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। কর্মসংস্থান হারিয়েছেন প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক। জামায়াতের ১৫ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে- শ্রমিকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অযাচিত বলপ্রয়োগ ও হয়রানি বন্ধ, নিরপরাধ শ্রমিক ও নেতাদের মুক্তি, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে হামলা বন্ধ।

এ ছাড়া বন্ধ কারখানা চালু, বেআইনি ছাঁটাই বন্ধ, বকেয়া বেতন-ভাতা ও ওভারটাইম পরিশোধ, শ্রমিকদের রেশনিং, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। নারী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও রয়েছে দাবিতে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, শিল্প বাঁচলে দেশের অর্থনীতি বাঁচবে।’ শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভাঙচুর ও সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

তিনি সরকারকে শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়ন, নিরপরাধ শ্রমিকদের মুক্তি ও বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। মালিকদের শ্রমিকদের শিল্পের অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পরিচালনার আহ্বান জানান।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top