বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

নির্বাচনে হারের পর চাপে ট্রাম্প, হোয়াইট হাউসে অসন্তোষ

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নীতি পরিবর্তনের চাপ বাড়ছে। নিজ দলের নেতারাই এবার হোয়াইট হাউসে রদবদল, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ইরান যুদ্ধ ও শুল্কনীতির মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনি আসনে তাঁর মনোনীত প্রার্থীরাও পরাজিত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান মিত্র ও রাজনৈতিক কৌশলবিদেরা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবর্তন এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে নতুন শৃঙ্খলা আনার দাবি তুলেছেন।

অভিজ্ঞ রিপাবলিকান কৌশলবিদ জন ফিহেরি নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের জন্য বড় বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, হোয়াইট হাউসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তবে নির্বাচনের ফলকে নিজের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি এটিকে আমার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছি না।’

নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং মনোনয়নপ্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে পারেন ট্রাম্প।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নির্বাচনের পর হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে পদত্যাগ, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগেই অভ্যন্তরীণ জরিপে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা জানানো হলেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করেননি ট্রাম্প।

রিপাবলিকানদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ ইরান যুদ্ধ। আট মাস ধরে চলা এই সংঘাতের প্রভাব নির্বাচনে পড়েছে বলে ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন। তবে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে এখনো নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।

এদিকে ট্রাম্পের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুধবার নির্বাচনি বিপর্যয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। এতে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের পাশাপাশি শুল্কনীতি এবং হোয়াইট হাউসে বলরুম নির্মাণ ও ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সংস্কারকাজ নিয়েও রিপাবলিকানদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দলটির রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের আশঙ্কা, আগামী দুই বছরও ট্রাম্প এসব বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিলে পরবর্তী নির্বাচনেও দলকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

তবে নির্বাচনের পরও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসের নির্মাণাধীন বলরুম পরিদর্শন করে তিনি প্রকল্পটির পক্ষে কথা বলেন। এদিকে হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের ছবি প্রকাশ করে জানায়, ‘ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসের তদন্ত থেকে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনকে পুরোপুরি সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না। ফলে আগামী দিনগুলোতে প্রশাসনিক রদবদলের পাশাপাশি কংগ্রেসের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বিরোধ আরও বাড়তে পারে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top