বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

তিস্তা ও পদ্মার পানির হিস্যা আদায়ে যত দূর যেতে হয়, যাব: প্রধানমন্ত্রী

তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করে পানির সমস্যা দূর করা হবে এবং পানির হিস্যা আদায়ে যতদূর যাওয়া প্রয়োজন, ততদূর যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মিত হলে ১৪ জেলার মানুষ উপকৃত হবে। তবে এ জন্য বিএনপির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, এ দেশ আমাদের, এ দেশ আমাদেরই গড়তে হবে। বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ গড়ে দেবে না। কুচক্রী মহল সজাগ হওয়ার চেষ্টা করছে। উন্নয়নের গতিকে কেউ যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমাদের স্লোগান, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এ কারণে আট মাস আগে নির্বাচনী জনসভাগুলোতে বিএনপি সরকার গঠন করলে কী কী করবে, তা তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সাত দিনের মাথায় ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিএনপি কৃষক কার্ড দিতে চায়। এ কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক ও বড় কৃষকদের কাছে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্তত একটি ফসলের জন্য সার, বিষ ও কীটনাশক সরবরাহের চেষ্টা করা হবে, যাতে কৃষকদের কষ্ট লাঘব হয়। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা বিমা করতে পারবেন, ব্যাংকঋণ নিতে পারবেন এবং আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না, তা-ও জানতে পারবেন। কৃষক কার্ডে ১০টি সুবিধা থাকবে।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। উত্তরাঞ্চল দেশের শস্যভান্ডার। এ অঞ্চলের কৃষকেরা পানির সংকটে ভোগেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়ে বরেন্দ্র প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে খাল ও নদী খনন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর মধ্যে ৮ হাজার কিলোমিটার খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে মানুষ পানি ও সেচের সুবিধা পাবে। ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণও হবে।

রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় নেতারা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছেন। বর্তমানে শয্যাসংখ্যা ১ হাজার ৩০০। সেটি ২ হাজার ৫০০ করার প্রস্তাব এসেছে। বিএনপি জনগণের সরকার। দলটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হবে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top