বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
»
সংবাদ বিবরণী

চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান সাধারণ মানুষ, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততা নিয়ে চলছে আলোচনা

কেরানীগঞ্জে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় হাজী মোহাম্মদ শামীম হাসান

শাহিন চৌধুরী:

ঢাকার কেরানীগঞ্জে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে আসছেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী মোহাম্মদ শামীম হাসান। তাঁকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে মত প্রকাশ করছেন স্থানীয় কিছু সাধারণ মানুষ ও তাঁর সমর্থকেরা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তাঁর নাম নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

সরেজমিনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শামীম হাসানের রাজনৈতিক জীবন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং এলাকাভিত্তিক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, উপজেলা পরিষদের নেতৃত্বে এমন একজন ব্যক্তিকে দেখতে চান, যিনি স্থানীয় মানুষের সমস্যা বোঝেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখতে পারেন।

শামীম হাসানের বাড়ি কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন ভাড়ালিয়া গ্রামে। স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর পরিচিতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তাঁকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান তাঁর সমর্থকেরা। জিনজিরা থেকে হযরতপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন বলে তাঁদের দাবি। স্থানীয় সমর্থকদের ভাষ্য, কেরানীগঞ্জের উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল পর্যায়ের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমন নেতৃত্বই তাঁরা প্রত্যাশা করেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখাও একজন জনপ্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

আমান উল্লাহ আমান ও ইরফান ইবনে আমানের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা

রাজনৈতিকভাবে শামীম হাসান ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমান উল্লাহ আমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমির সঙ্গেও তাঁর সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে বলে দলীয় সূত্র ও তাঁর সমর্থকেরা উল্লেখ করেন।

স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার সুবাদে তিনি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন বলে তাঁর অনুসারীদের দাবি। তাঁদের মতে, দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, দলের দুঃসময়ে পাশে থাকা এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার অভিজ্ঞতা তাঁকে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিতি এনে দিয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি উপজেলা পরিষদের নেতৃত্বে আসতে পারলে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও ত্যাগের প্রসঙ্গ

শামীম হাসানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত দিক হিসেবে তাঁর সমর্থকেরা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলসহ দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে বাধা, হুমকি-ধমকি ও হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি, মিটিং-মিছিল এবং দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন বলে তাঁর অনুসারীরা জানান।

তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিবার থেকে দূরে থাকা, ব্যক্তিগত ঝুঁকি নেওয়া এবং দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। এসব ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে তাঁকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে দেখতে চান তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ।

বর্তমানে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে শামীম হাসান দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, মূল দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে তিনি দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসতে হলে রাজনৈতিক পরিচিতির পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা থাকা জরুরি। তাই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় আসবে।

সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের দাবি

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শামীম হাসান সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকেরা দাবি করেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা, অসচ্ছল পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে সহায়তা এবং অসহায় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে থাকেন।এ ছাড়া এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের খোঁজখবর নেওয়া, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তাঁর অনুসারীরা। তাঁদের মতে, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগকে আরও দৃঢ় করেছে।

শামীম হাসানকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে যে আলোচনা চলছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে উপজেলা পরিষদের নেতৃত্বে তাঁকে দেখতে চাওয়ার প্রত্যাশা। তাঁর সমর্থকদের মতে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এনেছে। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে তিনি উপজেলা পরিষদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ পেলে কেরানীগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে দল-মতনির্বিশেষে সাধারণ

মানুষের জন্য কাজ করবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তাঁর সমর্থকেরা: 

তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং ভোটারদের চূড়ান্ত সমর্থন—সবই নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পরিস্থিতির ওপর। ফলে তাঁকে ঘিরে বর্তমান আলোচনা ভবিষ্যতে কতটা জনসমর্থনে রূপ নেয়, তা সময়ই বলে দেবে।

কেরানীগঞ্জের রাজনীতিতে হাজী মোহাম্মদ শামীম হাসানকে ঘিরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলে তাঁর সমর্থকেরা দাবি করছেন, তা স্থানীয় রাজনীতির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক ভূমিকা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের দাবিকে সামনে রেখে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে আগামী উপজেলা নির্বাচনে নেতৃত্বের আসনে দেখতে চান।

এখন দেখার বিষয়, এই প্রত্যাশা কতটা বিস্তৃত জনসমর্থনে রূপ নেয়, দলীয় পর্যায়ে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং কেরানীগঞ্জের ভোটাররা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেন। শেষ পর্যন্ত জনগণের আস্থা, কার্যকর জনসেবা এবং উন্নয়নের সুস্পষ্ট পরিকল্পনাই একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top