ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার সম্ভাবনা সামনে রেখে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৪ নভেম্বর, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন থেকেই এ হামলা শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ওয়াশিংটন।
তিনজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় আরব কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাও এ তথ্য জানিয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক অভিযান স্বল্পস্থায়ী হলেও তা অত্যন্ত তীব্র হতে পারে। তবে নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরানের পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কা করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এ কারণে ওয়াশিংটনকে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে তারা। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর বিরোধিতা করতে পারে। এমন অবস্থান নিলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানো হবে না। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এমএস নাওকে বলেন, ‘যেসব সংবেদনশীল সামরিক পরিকল্পনা থাকতে পারে বা নাও থাকতে পারে, সেগুলো নিয়ে আমরা মন্তব্য করি না।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন।
এদিকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তবে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে এপিকে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই কূটনীতিক।
সব মিলিয়ে ৪ নভেম্বরকে সম্ভাব্য হামলার সময় হিসেবে সামনে আনা হলেও ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।





