জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দলটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান, জোটনীতি ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা সামান্তা শারমিন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে গত ২৩ অক্টোবর ঘোষিত নতুন কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়, যা তার পদাবনতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সামান্তা শারমিন বলেন, এনসিপির জোট গঠন নিয়ে তিনি শুরু থেকেই ভিন্নমত পোষণ করে আসছিলেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত প্রস্তাব ও মতামত দিয়েছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা করলেও এনসিপি তার প্রাথমিক মূল্যবোধ থেকে সরে গেছে বলে তিনি মনে করছেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে সামান্তা শারমিন বলেন, সংগঠনটির রাজনৈতিক দর্শন ও প্রস্তাবিত রাষ্ট্রব্যবস্থা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ মানুষের একটি অংশ এনসিপির সংস্কারের রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপির সামনে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আলাদা অবস্থান তৈরির সুযোগ ছিল। কিন্তু দলটি সেই সুযোগ কাজে না নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে নিজস্ব রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এনসিপির নারীনীতি নিয়েও সমালোচনা করেন সামান্তা শারমিন। তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, দলটি তা ধারণ করতে পারেনি।
এ ছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। কাউন্সিল ছাড়া কমিটি পুনর্গঠন এবং ভিন্নমতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রয়োজন যেখানে ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস ও পরিচয়ের মানুষ জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। এ লক্ষ্য নিয়ে যারা কাজ করতে চান, তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আহ্বান জানান তিনি।





