Home > খেলাধুলা > ওয়েলিংটন টেস্ট- কিছু দুঃখ অনেক প্রশ্ন

ওয়েলিংটন টেস্ট- কিছু দুঃখ অনেক প্রশ্ন

একেই বলে অবিশ্বাস্য ক্রিকেট। এটাই কী তাহলে টেস্ট ম্যাচ! পাঁচদিনে ১৪ সেশন এগিয়ে থেকেও একটি সেশনের ব্যর্থতায় ম্যাচটাই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। যেখানে শেষ বলে কিছু নেই। অকল্পনীয় হারের পর যদি, কিন্তুর সঙ্গে কিছু প্রশ্ন জুড়ে দিয়ে হতাশা ভোলার চেষ্টা করে যেতে হয় কেবলই।

বাংলাদেশ কী আদৌ ওয়েলিংটন টেস্টের দুঃখ ভুলতে পারবে? একগাদা রেকর্ড গড়ে যেখানে প্রথম চারদিনের ১১ সেশনই এগিয়ে ছিল টাইগাররা। সদ্য সতেজ থাকা টেস্টটা এখনও সাকিব আল হাসানের ডাবল, মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি আর ৫৯৫/৮-এ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ইনিংস ঘোষণার তৃপ্তিতে স্বস্তি খুজে ফেরার চেষ্টা চলছে। ক্রিকেটের আরও কয়েকযুগ পর ম্যাচটাকে জয় পরাজয়ের হিসেবে কেবলই সাত উইকেটে হার হিসেবে দেখবে অনেকে।

কিন্তু এতো এতো রেকর্ড আর ড্রেসিংরুমটাকে হাসপাতাল বানানো টেস্টটা কী স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে পারবে বাংলাদেশের ক্রিকেট? এ ম্যাচেই কী মুশফিকুর রহিমকে দু’বার ইনজুরিতে পড়তে হবে? এই ম্যাচেই কী ইমরুল কায়েসকে ক্র্যাচে করে মাঠের বাইরে বেরোতে হবে? ক্রিকেটের রেকর্ডগুলো খুব যতœ করেই খুঁজে দেখার চেষ্টা চলে ক্রিকেটীয় জগতে। কোনো এক কালেও প্রথম ইনিংস প্রায় ৬০০-র কাছাকাছি গিয়ে ঘোষণার পর ম্যাচ হারের বাজে রেকর্ডটিও স্বস্তি ও অস্বস্তিতে পোড়াবে বাংলাদেশকে।

টেস্টের শেষদিনে বারবার ফিল হিউজের কথা মাথায় ঘুর পাক খাচ্ছিল। মুশফিকুরের যেখানে লেগেছে ঠিক এরকম একটা জায়গায় লেগেই তো হিউজ পরপারে চলে গেছেন। ক্র্যাচে করে যখন মাঠ থেকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হল মুশফিককে তখন আরও বেশি ভয় ধরে গেল। একটি টেস্টে দু’জনকে হাতপাতালে যেতে হল, দু’জনই আবার বাংলাদেশের মূল এবং দ্বিতীয় উইকেট কিপার। ইনজুরির দু:খটা ভুলতে পারবে না বাংলাদেশ। কিন্তু যে টেস্ট তৃতীয় দিনেই অনেকে ড্র বলে ধরে নিয়েছেন সেই টেস্ট যদি হারতে হয়! এই কষ্ট সারাজীবনই তো বয়ে বেরাতে হবে। প্রথম ইনিংসে আগে পাঁচশোর বেশি রান করে এখন পর্যন্ত হারের রেকর্ড পাঁচটি ম্যাচে। এর মধ্যে শেষ চার বছরেই বাংলাদেশ দু’বার এই হারের রেকর্ড গড়লেন।

আধুনিক ক্রিকেটে এমন হারটা নিজেদের পরিকল্পনা ও চিন্তার অক্ষমতাকেই প্রকাশ করে। ঘুরে ফিরে ক্রিকেটে বিশ্লেষকদের মাথায় একটা প্রশ্ন-মুমিনুল হক কেন আরও সংযত হয়ে খেললেন না? সাকিব আল হাসান ডাবল সেঞ্চুরি করে দ্বিতীয় ইনিংসে শট খেলার জন্য কেন উত্তেজিত হয়ে উঠলেন? সাব্বির রহমান কেন তাদের ফাঁদে পা দিতে গেলেন? প্রথম ইনিংসে এতো ভালো ব্যাটিং করার পরও প্রাক্তন বাংলাদেশ অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু হারের জন্য সরাসরি সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের দায়ি করলেন। বিশেষ করে তার কাঠগড়ায় সাকিব, মুমিনুল ও সাব্বির! যাদের ব্যাটেই এতো রেকর্ডও হয়েছে এই ম্যাচে।

এই একটি টেস্ট বাংলাদেশকে যেটা শেখাল সেটা আরও ২০ টেস্ট থেকে নাও শেখা হতে পারে। এখানে শেষ না হওয়া পর্যন্ত আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কিছু নেই। টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডে ক্রিকেটের ভিড়ে পাঁচদিনের ম্যাচের মেজাজ বোঝার ধৈর্য্য অনেকেরই নেই। কিন্তু অনেকের কাছেই টেস্টের আমেজটা শীতের দিনে খেঁজুর রসের মতো আস্বাদন দেয়। পাঁচদিনের শেষ রসের জন্য ওত পেতে থাকা ক্রিকেটীয় মাথায় অনেকদিন ঘুরপাক খাবে এই হারের হতাশাটা। এরপরও বাংলাদেশের কিছু হারাবার নেই। তিনদিনে টেস্ট শেষ হবে এমন চিন্তাও তো করেছিলেন অনেকে। সেখান থেকে ইনিংস ঘোষণা, জয়ের চিন্তা, এরপর নিশ্চিত ড্র এমন চিন্তাও তো করতে হয়েছে। পরে ম্যাচটা হার। অবশ্য এমন সুযোগ বাংলাদেশের সামনে বারবার আসবে না। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তো ভাবা আরও কঠিন। এখানকার অর্জন বলতে বাংলাদেশের লড়াইটাই!

ভদ্রতায় নিউজিল্যান্ডের কোনো জুড়ি নেই। কিন্তু জয়ের জন্য তারা যে কোনো ধরনের কাজই করতে পারে! এমনই অভিযোগ উঠছে এখন। নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় এমনটাই অভিযোগ এসেছে। চতুর্থদিনের রাতে বেসিন রিজার্ভের উইকেটে নাকি পানি দিয়েছিলেন কিউরেটর। যেকোনো উইকেটে পানি দিলেই ব্যাটসম্যানদের জন্য সেটা মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায়। ওয়েলিংটনেও পাশের উইকেটে প্রচুর পানি দিয়েছিলেন কিউরেটর। আর সেটা শুষে নিয়েছে মূল উইকেট। সকালে ব্যাটসম্যানদের জন্যও উইকেট তখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারই শিকার বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা।

কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে উইকেটের চরিত্রও বদলেছে। সেই সুবিধা পেয়েছেন স্বাগতিকরাও। মুশফিকুর রহিমকে আউট করার জন্য তারা বডি লাইনে বল করেছেন। এ ‘বাজে’ ক্রিকেটীয় চিন্তায় তারা সফলও হয়েছে মুশফিকের মাথায় আঘাত এনে। এতো নাটক আর সমালোচনার টেস্ট ভুলে গিয়ে বাংলাদেশ নিশ্চই ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ