Home > খেলাধুলা > এক মিড-ফিল্ড জেনারেলের বিদায়

এক মিড-ফিল্ড জেনারেলের বিদায়

আগামী ৬ জুন যদি
জুভেন্টাসকে চ্যাম্পিয়ন
লিগের ফাইনালে
হারাতে পারে
বার্সেলোনা, তবে
চতুর্থবারের মতো চ্যাম্পিয়ন
লিগের শিরোপা হাতে
উঠবে জাভি
হার্নান্দেজের। শেষ
ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন লিগের
মতো মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা
জয়ের মধ্যেই
বার্সেলোনার সাথে দেড়
যুগের আবেগের সম্পর্ক ছিন্ন
করবেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন
করে আনুষ্ঠানিকভাবে
বার্সেলোনা ছাড়ার
ঘোষণা দিয়েছেন জাভি।
তিনি কাতারের ক্লাব আল
সাদের সঙ্গে দুই বছরের জন্য
চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
৩৫ বছর বয়সী এই মিড-
ফিল্ডার বলেন, ‘এ মৌসুম
শেষেই বার্সা ছেড়ে আল
সাদে যোগ দিচ্ছি। কঠিন
হলেও এটিই আমার চূড়ান্ত
সিদ্ধান্ত।’
জাভি বলেন, ‘ক্লাব
আমাকে চুক্তি নবায়নের
ভালো একটি প্রস্তাব
দিলেও আমি আগেই আমার
সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি।
আমার মতে, ন্যু ক্যাম্প
ছাড়ার এখনই উৎকৃষ্ট সময়।’
জাভি হার্নান্দেজ, যাকে
বলা হয় স্পেনের সর্বকালের
সেরা খেলোয়াড়।
পৃথিবীর সর্বকালের সেরা
মিড-ফিল্ডার, সর্বজয়ী
বার্সেলোনার সাফল্যের
কারিগর। কেউ ডাকে
‘মিড-ফিল্ড জেনারেল’,
কারো কাছে তিনি ‘দ্য
পাপেট মাস্টার’।
প্রথম প্রতিযোগিতামূলক
খেলায় জাভির অভিষেক
১৯৯৮ সালের ১৮ আগস্ট,
স্প্যানিশ সুপার কোপায়
মায়োর্কার বিপক্ষে। একই
বছরের ৩ অক্টোবর,
ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে
লা লিগায়ও অভিষেক হয়
জাভির।
জাভি বার্সেলোনার যুব
প্রকল্প লা মাসিয়াতে তার
শৈশব কাটিয়েছেন। প্রথম ১৮
বছর বয়সে বার্সার হয়ে তার
অভিষেক হয় ১৯৯৮ সালের ১৮
আগস্ট। জাভিই প্রথম
খেলোয়াড় যিনি
বার্সেলোনার হয়ে ১৭২টি
আন্তর্জাতিক খেলায়
অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি
বার্সেলোনার হয়ে ৭৬৪টি
ম্যাচে মাঠে নেমেছেন।
গোল করেছেন ৮৪টি।
২০০০ সালে আন্তর্জাতিক
অভিষেকের পর থেকে
তিনি স্পেনের হয়ে ১১৯টি
খেলায় মাঠে নেমেছেন।
তিনি স্পেনের হয়ে ২০০৮
সালে ইউরো, ২০১০ সালে
বিশ্বকাপ এবং ২০১২
আবারো ইউরো জিতেছেন।
২০০৮ সালের ইউরোতে
তিনি টুর্নামেন্ট সেরা
নির্বাচিত হন।
জাভি অন্য কোনো
স্পেনীয় খেলোয়াড়ের
চেয়ে বেশিসংখ্যক
শিরোপা জিতেছেন।
তিনি পাঁচবার ফিফা
ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের
জন্য মনোনীত হয়েছেন, যার
মধ্যে ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১
সালে তৃতীয় হয়েছেন।
ব্রাজিলের বর্তমান কোচ
দুঙ্গার পাশাপাশি একমাত্র
খেলোয়াড় হিসেবে
বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমস,
কনফেডারেশন্স কাপ ও
মহাদেশীয়
চ্যাম্পিয়নশিপের
ফাইনালে খেলার
সৌভাগ্য অর্জন করেছেন
জাভি হার্নান্দেজ।
ক্যারিয়ারের অর্জন
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বার্সার
হয়ে ২৩টি শিরোপা
জিতেন জাভি। এর মধ্যে
তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ
আটি লিগ শিরোপা
রয়েছে। এ মৌসুমে কোপা
দেল রে ও চ্যাম্পিয়নস
লিগের ফাইনাল ম্যাচ
জিতলে সংখ্যাটা গিয়ে
দাঁড়াবে ২৫-এ।
বার্সেলোনার হয়ে লা
লিগা জিতেছেন ৮ বার।
১৯৯৮–৯৯, ২০০৫–০৬, ২০০৮–০৯,
২০০৯–১০, ২০১০–১১, ২০১২–১৩
ও ২০১৪–১৫ মৌসুমে। কোপা
দেল রে জিতেছেন ২ বার।
২০০৮–০৯ ও ২০১১–১২
মৌসুমে। তার দল রানারআপ
হয়েছে ২০১০–২০১১ মৌসুমে।
জাভি স্পেনীয় সুপার কাপ
জিতেছেন ৬ বার। ২০০৫,
২০০৬, ২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও
২০১৩, আর রানারআপ হয়েছে
২০১২ সালে।
তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স
লিগের শিরোপা
জিতেছেন ৩ বার। ২০০৫–০৬,
২০০৮–০৯, ২০১০–১১ মৌসুমে।
ইউরোপিয়ান সুপার কাপ
জিতেছেন ২বার, ২০০৯ ও
২০১১ সালে। আর রানারআপ
হয়েছে ২০০৬ সালে।
জাভির সাফল্যের ঝুলিতে
রয়েছে- ফিফা ক্লাব
বিশ্বকাপ ২ বার, ২০০৯ ও
২০১১ সালে। আর রানারআপ
২০০৬ সালে।
স্পেনের হয়ে জাভি
ফিফা বিশ্বকাপ
জিতেছেন ২০১০ সালে।
উয়েফা ইউরোপিয়ান
ফুটবলে তার দেশকে
চ্যাম্পিয়ন করেছেন ২০০৮ ও
২০১২ সালে দুবার। তিনি
ফিফা যুব চ্যাম্পিয়নশিপ
জিতেছেন ১৯৯৯ সালে।
এছাড়া স্পেনের হয়ে
গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে
রৌপ্যপদক (২০০০) ও ফিফা
কনফেডারেশন্স কাপের
(২০০৯) শিরোপা শোভা
পাচ্ছে জাভির শোকেসে।
জাভি ফিফা ব্যালন
ডি’অরে তৃতীয় হয়েছেন
তিনবার, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১
সালে। এরে মধ্যে ২০০৯
সালে তিনি ফিফা
বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের
তৃতীয় স্থানও অর্জন করেন।
উয়েফা ইউরোপীয় সেরা
খেলোয়াড় হন ২০১১ সালে।
ওয়ার্ল্ড সকার বর্ষসেরা
খেলোয়াড় হন ২০১০ সালে।
জাভি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স
লিগের বর্ষসেরা
মাঝমাঠের খেলোয়াড় হন
২০০৮–০৯ মৌসুমে।
আইএফএফএইচএস বর্ষসেরা
প্লে-মেকার হন চারবার,
২০০৮, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১
সালে।
লা লিগার স্পেনীয়
বর্ষসেরা খেলোয়াড় হন
২০০৫ সালে। লা লিগা
বর্ষসেরা মাঝমাঠের
খেলোয়াড় হন দুবার, ২০০৯ ও
২০১১ সালে। ট্রফিও
আলফ্রেডো ডি
স্টেফানোতে দ্বিতীয় হন
২০১০ সালে আর ২০১১ সালে
হন তৃতীয়।
জাভি উয়েফা ইউরো
প্রতিযোগিতার সেরা
খেলোয়াড় হন ২০০৮ সালে।
উয়েফা ইউরো
প্রতিযোগিতার সেরা
একদশে স্থান করে নেন
দুবার, ২০০৮ ও ২০১২ সালে।
ফিফা বিশ্বকাপ অল-স্টার
দলে জায়গা করে নেন ২০১০
সালে।
তিনি ফিফা/ফিফপ্রো
বিশ্ব একাদশে সর্বাধিক
পাঁচবার, ২০০৮, ২০০৯, ২০১০,
২০১১ ও ২০১২ এবং উয়েফা
বর্ষসেরা দলেও পাঁচবার,
২০০৮, ২০০৯, ২০১০, ২০১১ ও
২০১২ সালে জায়গা করে
নেন।
ইএসএম বর্ষসেরা দলে
তিনবার, ২০০৮–০৯, ২০১০–১১
ও ২০১১–১২ এবং উয়েফা
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে
ম্যান অব দ্য ম্যাচ হন ২০০৯
সালে।
জাভি হার্নান্দেজ ফিফা
ক্লাব বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ
গোলক জেতেন ২০০৯
সালে। ফিফা ক্লাব
বিশ্বকাপ রৌপ্য গোলক
জিতেন ২০১১ সালে।
আর তিনি সম্মানসূচক রয়্যাল
অর্ডার অফ স্পোর্টিং
মেরিট স্বর্ণপদক জিতেন
২০১০ সালে। প্রিন্স অফ
অ্যাস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড
পান ২০১০ ও ২০১২ সালে।
স্পেন ও বার্সার সাফল্যের
কারিগর জাভি
হার্নান্দেজকে স্যালুট,
বিদায় মিড-ফিল্ড
জেনারেল!

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ