Home > খেলাধুলা > হারে শুরু চ্যাম্পিয়নদের

হারে শুরু চ্যাম্পিয়নদের

গত আসরে চিটাগাং ভাইকিংস হার দিয়ে শুরু করেছিল। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরে তাদের যাত্রাটা সুখকর হয়নি। ১১ ম্যাচ খেলে মাত্র ৩টিতেই জয় পেয়েছিল। তবে এবার শুরুটা দারুণ। চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে চতুর্থ আসর শুরু ভাইকিংসদের। টসে হারা চিটাগাং ভাইকিংসের ১৬১ রানের জবাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩২ রানে থামে কুমিল্লার ইনিংস। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের তরুণ তারকা নাজমুল হাসান শান্ত অভিষেক ম্যাচে কুমিল্লার পক্ষে ৪৪ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত। এর আগে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তামিম ইকবাল একবার জীবন পেয়ে ৩২ বলে ৫০ করেন। তার ব্যাট থেকেই আসরে চতুর্থ আসরের প্রথম ফিফটি। তবে ৫৪ রানের সময় এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে রান নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝিতে তার ইনিংসের অপমৃত্যু হয়। ম্যাচ সেরা হয়েছেন আফগান ক্রিকেটার মোহাম্মদ নবী। তিনি ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মূলত কুমিল্লার ব্যাটিং লাইন গুঁড়িয়ে দেন।
গতকাল দারুণ সূর্যের হাসি নিয়ে দুপুর ২টায় মাঠে গড়ায় একেএস বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ চতুর্থ আসরের প্রথম ম্যাচ। পাঁচ-ছয় হাজারের মতো দর্শকদের আনন্দে ভাসায় চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার টসে জয়। কিন্তু অধিনায়ক মাশরাফি শুরুতেই নিলেন ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত। ব্যাট করতে নেমে চিটাগং বড় পুঁজি পায় তামিম ও শোয়েব মালিকের দারুণ দুটি ইনিংসে। ১৬২ রান মিরপুরের মন্থর উইকেটে তাড়া করা ছিল এমনিতেই কঠিন। সেই কাজটা আরও কঠিন করে তোলেন কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা। ভালো শুরুর জন্য দলের বড় ভরসা ছিলেন যিনি, সেই ইমরুল কায়েসই ৬ রানে সবার আগে আউট। ডোয়াইন স্মিথের অনেক বাইরের বল তাড়া করে আউট হন তিনি।
এরপর খানিকটা প্রাণ এনেছিলেন মারলন স্যামুয়েলস। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাকের বলে ২৩ রান করে আউট। এমনকি ব্যর্থ লিটন দাস, আসহার জাইদিরাও। গত আসরে এই চিটাগাংয়ের বিপক্ষেই পাঁচে নেমে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিলেন মাশরাফি। এবার নেমেছিলেন ছয়ে। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি। এমনকি পাকিস্তানি ইমাদ ওয়াসিমও পারেননি ব্যাট হাতে দলের জন্য ভূমিকা রাখতে।
কিন্তু দলের জন্য রুখে দাঁড়িয়েছিলেন  দুই তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ও আল আমিন। জুটি গড়েন ৭ম উইকেটে ৩০ রানের। এর মধ্যে ১৪ রান করে আউট হন আল আমিন। শান্তর শেষটা করেছেন অসাধারণ।  ইনিংসের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদকে মেরেছেন চারটি চার। অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ বলে অপরাজিত থাকেন ৫৪ রানে। কিন্তু কুমিল্লার হার বাঁচাতে পারেননি এই তরুণ।
এর আগে কুমিল্লার বোলারদের উড়িয়েছেন তামিম। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বেরিয়ে এসে মাশরাফিকে কাভার দিয়ে উড়িয়ে মারেন চার। মিতব্যয়ী বোলিংয়ের জন্য পরিচিত সোহেল তানভীরকে দুটি চার মারার পর ছক্কা মারেন মাথার ওপর দিয়ে। আরেক পাশে আক্রমণাত্মক ডোয়াইন স্মিথকে উইকেটে বেঁধে রাখেন ইমাদ ওয়াসিম ও তানভীর। শেষ পর্যন্ত ইমাদকে ছক্কা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অনে। ইমাদের ওই ওভারেই জীবন পান তামিম। ২৩ রানে কাভারে তার ক্যাচ ছাড়েন নাহিদুল ইসলাম। যেটির খেসারত সরাসরিই দিতে হয় টি-টোয়েন্টি অভিষিক্ত এই অলরাউন্ডারকে। নাহিদুলের অফ স্পিনে বেরিয়ে এসে কাভারের ওপর দিয়ে বল ওড়ান তামিম। ওই ওভারেই মারেন আরেকটি চার। ৩২ বলে ফিফটি করেন অধিনায়ক। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এনামুল হক ছিলেন তামিমের সহকারীর ভূমিকায়। তবে শেষ পর্যন্ত সম্ভাবনাময় এই জুটি ভেঙেছে দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে। দ্বিতীয় রান নেয়ার চেষ্টায় দুজনই চলে আসেন এক প্রান্তে! এতে রান আউট হয়ে ফেরেন তামিম ৩৮ বলে ৫৪ রান করে। যাওয়ার আগে রাগ ঝাড়তে ঝাড়তে যান এনামুলের ওপর। এরপর রান আউটের ভাগ্য বরণ করতে হয় এনামুলকেও। ফেরেন স্যামুয়েলসের সরাসরি থ্রোতে আউট হয়ে ১৮ বলে ২২ রান করে।  সেখান থেকেই চিটাগংয়ের হাল ধরেন পাকিস্তানের মালিক। তাকে সঙ্গ দেন জহুরুল। দুজনের জুটিই দলকে টেনে নিয়ে যায় বাকি পুরো সময়। মালিক উইকেটে গিয়ে তৃতীয় বলেই লং অন দিয়ে ছক্কা মরেন জাইদিকে। মাশরাফির বলে মিড উইকেট দিয়ে তার ছক্কাটিও ছিল দেখার মতো। ১ রানে মাশরাফির বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে জীবন পান জহুরুল। সেটি তিনি কাজে লাগিয়েছেন যথাসাধ্য। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২১ বলে ২৯ করে। ২৮ বলে অপরাজিত ৪২ শোয়েব মালিক। দুজনের জুটিতে আসে ৪১ বলে ৬০ রান।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ