Home > খেলাধুলা > অবশেষে সৌম্যর হাসি

অবশেষে সৌম্যর হাসি

নাঈম ইসলামের অফ স্টাম্পের বাইরের বলটাকে নিখুঁত কাভার ড্রাইভে পাঠালেন বাউন্ডারির বাইরে। ম্যাচে নিজের ওই প্রথম বাউন্ডারিতেই কি…? নাকি ডাউন দ্য উইকেটে এসে মিড উইকেট দিয়ে আসিফ হাসানকে মারা ছক্কায়! অথবা অন্য কোনো মুহূর্তে, অন্য কোনো শটে; সৌম্য সরকারের ঠিক কখন মনে হলো দুঃসময় কাটতে শুরু করেছে?
সৌম্য বলতে পারেন এসবের কোনোটাই নয়। এমনকি ইনিংসের ১৭তম ওভারে তিলকরত্নে দিলশানকে মারা জয়সূচক বাউন্ডারিতেও আসেনি সেই উপলব্ধি। ব্যাটে রানের প্রবাহ ফেরাতে কোনো শটকে আগে থেকে বাছাই করে রাখেননি রংপুর রাইডার্সের সৌম্য-শান্ত ক্রিকেটার। তবে প্রতিজ্ঞা ছিল, অনেকটা সময় উইকেটে থাকতে হবে। টি-টোয়েন্টি ম্যাচের বিচারে ৪০-৫০ বল তো অবশ্যই। রংপুরকে কাল ৯ উইকেটে জেতানো ম্যাচে নিজের কাছে করা প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছেন, সৌম্য পেয়েছেন বিপিএলে প্রথম ফিফটিও। আগের চার ম্যাচে সব মিলিয়ে রান করেছেন ৪৪ বলে ৬৭, এক ইনিংসে সর্বোচ্চ খেলেছেন ১৫ বল। আর কাল এক ম্যাচেই ৫৬ বলে অপরাজিত ৫৮।
সৌম্যর সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে তিনটি এক দিনের ম্যাচে ৩৪, একটি তিন দিনের ম্যাচ খেলে দুই ইনিংসে ৬২। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও বদলায়নি ভাগ্য। তিনটি এক দিনের ম্যাচে ৪৯ ও একটি তিন দিনের ম্যাচে ৫০ রান করে ফিরলেন দেশে। বিপিএলে সেই ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা কেড়ে নিয়েছিল সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখের রোশনাই। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে কাল সেটা ফিরল পূর্ণ দ্যুতি নিয়ে। ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে সৌম্য জানালেন, ‘চেষ্টা করেছিলাম ভুলটা বের করতে। ওয়ানডেতে ২৫-৩০ করে ফিরছিলাম, এখানেও তাই হচ্ছিল। বলও কম খেলছিলাম। টি-টোয়েন্টি বলে তাড়াহুড়ো হচ্ছিল বোধ হয়। এটা থেকে বের হতে পেরে ভালো লাগছে।’
বিপিএলের ‘প্লেয়ারস বাই চয়েজে’ অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ক্রিকেটার ছিলেন সৌম্য। প্রথম ডাকেই তাঁকে দলে ভেড়ায় রংপুর রাইডার্স। কিন্তু প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে না পেরে সৌম্য বয়ে বেড়াচ্ছিলেন গোপন অতৃপ্তি। জহুরুল ইসলামের সঙ্গে কালকের ১০২ রানের ওপেনিং জুটিতে দল জেতানো ইনিংস খেলেও পুরোপুরি দূর হয়নি তা, ‘যে দলেই খেলি না কেন, তাদের কিছু দেওয়া, নিজেকে প্রমাণ করাটা দায়িত্ব। এটা করতে পারছিলাম না। আজ (গতকাল) যতটুকু খেলেছি, দল খুশি হলেও আমি পুরোপুরি খুশি হইনি। আগের পাঁচ ম্যাচের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারলে আরও ভালো হতো।’
সৌম্য-জহুরুলের কালকের জুটিটা এখন পর্যন্ত এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ রানের ওপেনিং জুটি, যেকোনো জুটিতেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অবশ্য রংপুর রাইডার্সের সামনে চিটাগং ভাইকিংস দিয়েছিলই মাত্র ১১২ রানের লক্ষ্য। টানা চার ম্যাচ হারা তামিম ইকবালের দল ভাগ্য ফেরাতে পারছে না ঘরের মাঠেও। পরশু অনেক সন্দেহের জন্ম দিয়ে বরিশাল বুলসের কাছে হারের পর কাল রংপুরের কাছেও হেরে পয়েন্ট তালিকার সবচেয়ে নিচে আছে তারা।
সৌম্যর মুখে হাসি ফেরার দিনে তাই চট্টগ্রামবাসীর মুখে অন্ধকার। পরশুর ঘটনাবহুল ম্যাচটাও যাচ্ছে না কারও মাথা থেকে। কাল তো এমনও গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, এল্টন চিগুম্বুরা আর তিলকরত্নে দিলশান নাকি টুর্নামেন্ট অসমাপ্ত রেখেই চলে যাচ্ছেন! পরে জানা গেছে, ৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম পর্ব শেষে চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচ আবার ৮ ডিসেম্বর বলে দিলশান আর কোচ মারভান আতাপাত্তু তিন দিনের ছুটিতে দেশে যাবেন। ফিরে আসবেন ৭ ডিসেম্বর। আর চিগুম্বুরা কোথাও যাচ্ছেন না, থাকছেন দলের সঙ্গেই।
আলোচিত ওই ম্যাচ নিয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলেরও কোনো ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নেই। কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দারের বক্তব্য পরিষ্কার, ‘আমাদের এখন নিজস্ব দুর্নীতি দমন ইউনিট আছে। সন্দেহজনক কিছু পেলে তারাই ব্যবস্থা নেবে। এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে আমরা ওরকম কিছু শুনিনি।’
সন্দেহ সন্দেহ থেকে গেলেই ভালো। বিপিএল থাকুক কলুষমুক্ত। সৌম্যর ফিরে পাওয়া হাসির মতোই প্রাণবন্ত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চিটাগং ভাইকিংস: ২০ ওভারে ১১১/৮ (তামিম ৩৬, দিলশান ১৮, কামরান ১২, এনামুল ১৪, উমর ১, জিয়া ৩, নাঈম ১৬*, আমির ২, শফিউল ৬; স্যামি ০/১১, নবী ১/১৮, সাকিব ২/১৬, আরাফাত ২/২৭, মুক্তার ০/১০, পেরেরা ১/১৯, সাকলাইন ১/১০)। রংপুর রাইডার্স: ১৭ ওভারে ১১৩/১ (জহুরুল ৪৭, সৌম্য ৫৮*, সাকিব ১*; নাঈম ০/২৪, আমির ০/৭, দিলশান ০/২০, আসিফ ০/১৯, তাসকিন ০/১৭, শফিউল ১/২২)।
ফল: রংপুর ৯ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সৌম্য সরকার।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ