Home > খেলাধুলা > নেইমার-সুয়ারেস উড়িয়ে দিল রিয়ালকে

নেইমার-সুয়ারেস উড়িয়ে দিল রিয়ালকে

দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নেইমার-সুয়ারেস জুটির সামনে দাঁড়াতেই পারল না রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ৪-০ গোলের জয়ে লা লিগার শিরোপা লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে গেল বার্সেলোনা।স্কোরকার্ডে বার্সেলোনার নামের পাশে দুই অর্ধে দুটি করে গোল লেখা থাকলেও অনায়াসেই ৭ বা ৮ গোল করে ‘এল ক্লাসিকো’ জিততে পারতো কাম্প নউয়ের দলটি। ম্যাচে খুঁজেই পাওয়া যায়নি রিয়ালের দামি আক্রমণভাগকে। ‘বিবিসি’ ত্রয়ীর গ্যারেথ বেল আর করিম বেনজেমা নিজেদের নামের প্রতি মোটেও সুবিচার করতে পারেননি।অন্যদিকে শুরুতেই বার্সেলোনার ‘এমএসএন’ ত্রয়ীকেএক সঙ্গে মাঠে দেখা যায়নি। চোট কাটিয়ে লিওনেল মেসি দলে ফিরলেও তাকে বেঞ্চে রেখেই একাদশ সাজান কোচ লুইস এনরিকে। আর গত বেশ কয়েকটি ম্যাচের মতোইআর্জেন্টিনার এই তারকা ফুটবলারের অভাব একেবারেই বুঝতেই দেননি নেইমার-সুয়ারেস জুটি।প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শনিবার রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ম্যাচ শুরুর পরপরই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বার্সেলোনা। ফর্মে থাকা নেইমার ও সুয়ারেস তো বটেই, শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলেন প্লেমেকার আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা।ম্যাচে প্রথম গোছালো আক্রমণটা করে অতিথিরাই। সপ্তম মিনিটে লেফট ব্যাক জর্দি আলবার বাড়ানো বল পেয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে ব্যাক পাস করেছিলেন সুয়ারেস; তবে বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন নেইমার।এগিয়ে যেতে অবশ্য বেশি সময় নেয়নি বার্সেলোনা। একাদশ মিনিটে সের্হিও রবের্তোর ঠিকঠাক বাড়ানো বল থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড সুয়ারেস।তিন মিনিট পরই ইনিয়েস্তা দারুণভাবে বল বাড়িয়েছিলেন ডি-বক্সে থাকা রবের্তোকে। তবে মার্সেলোর জন্য শট নিতে পারেননি স্পেনের এই মিডফিল্ডার।১৯তম মিনিটে রোনালদোকে ডি-বক্সে বাধা দিয়েছিলেনদানি আলভেস। পেনাল্টির জন্য পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের জোরালো আবেদনে কান দেননি রেফারি।২৪তম মিনিটে নেইমারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন হামেস রদ্রিগেস। ব্রাজিল ফরোয়ার্ড নিজেই ফ্রি-কিকটি নেন, তবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। পরের মিনিটেইডি-বক্সে রাকিতিচের বাড়ানো বল পেয়েছিলেন রবের্তো, কিন্তু শটটি তিনি নিলেন লক্ষ্যভ্রষ্ট।একটু পরই ২৫ গজ দূর থেকে কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগেসের শট সহজেই ঠেকান বার্সেলোনার গোলরক্ষক ক্লাওদিও ব্রাভো।৩৮তম মিনিটে বার্সার রক্ষণে প্রবল চাপ তৈরি করেছিল রিয়াল। তবে পাল্টা আক্রমণে পরের মিনিটেইগোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে বার্সেলোনা।ইনিয়েস্তার বাড়ানো বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে ধরেন নেইমার; বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে চিলির গোলরক্ষক নাভাসকে পরাস্ত করেন ব্রাজিল অধিনায়ক। লিগে এই মৌসুমে তার গোল হলো সর্বোচ্চ ১২টি।ডাগ আউটে তখন উচ্ছ্বসিত কোচ এনরিকে। মাঠে নামতে মুখিয়ে থাকা মেসির মুখেও তখন হাসি।প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ভাগ্যেক্রমে তৃতীয় গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় রিয়াল। নেইমারের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে সুয়ারেসের শট গোললাইন থেকে হেড করে ফেরান ব্রাজিলের ডিফেন্ডার মার্সেলো। ফিরতি বল পেয়ে গোল করতে পারেননি রাকিতিচও। দশর্কদের দুয়ো ধ্বনির মধ্যে দিয়ে বিরতিতে মাঠ ছাড়ে রিয়াল খেলোয়াড়রা।বিরতির পর প্রথম কয়েক মিনিট খেলায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল রিয়াল। মার্সেলো বল নিয়ে এগিয়ে ডি-বক্সের ঢুকে শট নিলেও লাগে সাইড নেটে।৪৮তম মিনিটে রদ্রিগেসের দূরপাল্লার শট ডান দিকেঝাঁপিয়ে পড়ে ফেরান ব্রাভো। প্রতিরোধের ইঙ্গিত দেওয়া রিয়ালের আধিপত্য অতটুকুই। আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বার্সেলোনা।৫২তম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে নেইমারের বাঁকানো ফ্রি-কিক লাফিয়ে উঠে দারুণভাবে সেভ করেন নাভাস। তবে পরের মিনিটে ইনিয়েস্তাকে ঠেকাতে পারেননি কোস্টা রিকার এই গোলরক্ষক।আক্রমণের শুরুটা করেছিলেন ইনিয়েস্তাই; বল বাড়িয়েছিলেন নেইমারকে। দারুণ ব্যাক ফ্লিকে নেইমার তা ফেরত পাঠান অধিনায়ককে। ততক্ষণে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া বার্সেলোনার এই প্লেমেকার জোরাল শটে উপরের ডান কোণা দিয়ে বল জালে ঢোকান। টানা ১৯টি গোলের পর অবশেষে নেইমার-সুয়ারেস ছাড়া বার্সেলোনার অন্য কেউ প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে পেল।৫৫তম মিনিটে বল নিয়ে বিপজ্জনকভাবে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন সুয়ারেস। রামোস পা বাড়িয়ে সুয়ারেসকে ফেলে দিলেও তা রেফারির চোখ এড়িয়ে যায়।একটু পরই দারুণ খেলতে থাকা রদ্রিগেসকে উঠিয়ে ফরোয়ার্ড ইসকোকে মাঠে নামান রিয়াল কোচ রাফায়েল বেনিতেস। আর রিয়াল সমর্থকদের উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে রাকিতিচের বদলি হিসেবে প্রায় দুই মাস পর মাঠে নামেন চোট কাটিয়ে ফেরা মেসি।৬৬তম মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে সুয়ারেস শট নিতে পারেননি। নেইমারের পাস থেকে পরক্ষণেই জোরালো শটনিয়েছিলেন মেসি, তবে গোল হয়নি। দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থেকে মেসির দক্ষতায় যে মরিচা পড়েনি প্রমাণ মিলেছে আরও।৬৮ মিনিটে গোল শোধের দারুণ একটা সুযোগ এসেছিল স্বাগতিকদের। ডি-বক্সের ভেতর খুব কাছ থেকে রোনালদোর শট দারুণ দক্ষতায় সেভ করেন ব্রাভো।চার মিনিট পর মেসির বাড়ানো বল থেকে সুয়ারেসের শটকোনোমতে ফেরান রামোস। তবে দুই মিনিট পরই আবার মেসির বাড়ানো বল থেকে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে স্কোর ৪-০ করে ফেলেন সুয়ারেস। উরুগুয়ের এই ফরোয়ার্ডের লা লিগায় এ মৌসুমে গোল হলো ১১টি।৮৪তম মিনিটে হতাশায় নেইমারকে পেছন থেকে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন হামেস রদ্রিগেসের বদলি হিসেবে নামা ইসকো।খানিক বাদেই নেইমারের ক্রস থেকে নাভাসকে ফাঁকা পেয়েও গোল করতে পারেননি বদলি হিসেবে নামা মুনির এল হাদ্দাদি। একটু পর আবারও বাঁ দিক থেকে নেইমারের দারুণ ক্রসে আরও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের শেষ দিকে রোনালদোকে আবারও গোলবঞ্চিত করে চূড়ান্ত হতাশায় ডোবান ব্রাভো।বেনিতেস দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম সান্তিয়াগোবের্নাবেউতে হারল রিয়াল, তাও আবার এমন শোচনীয়ভাবে। প্রতিপক্ষ কোচের সঙ্গে সৌজন্যতা দেখিয়ে হাত মিলিয়েই সোজা টানেলের দিকে হাঁটা দিলেন স্পেনের এই কোচ।বার্সেলোনার কাছে রিয়ালের এমন অসহায় আত্মসমর্পণের ম্যাচটি মাঠের ৮০ হাজার ৫০০ দর্শকছাড়াও বিশ্বজুড়ে টিভিতে দেখেন প্রায় ৬০ কোটি ফুটবলপ্রেমী।এই জয়ে ১২ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান মজবুত হলো বার্সেলোনার। সমান ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ২৪। শিরোপা লড়াইয়ে একটু পিছিয়েই পড়লো স্পেনের সবচেয়ে সফর ক্লাবটি।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ