Home > খেলাধুলা > করোনা এবং নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাকিবের সৌভাগ্য

করোনা এবং নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাকিবের সৌভাগ্য

জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করার দায়ে ক্রিকেট থেকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। যার মধ্যে এক বছরের স্থগিতাদেশ ছিল। প্রথম বছরের নিষেধাজ্ঞার সময় নতুন করে কোনো বিতর্কে জড়ালে আরেকবছর নিষিদ্ধ থাকতে হতো সাকিবকে। কিন্তু সতর্কতার সঙ্গেই নিষেধাজ্ঞার প্রথম বছর পার করেন বাংলাদেশের সেরা এই তারকা।

ফলে আজই শেষ দিন সাকিবের নিষেধাজ্ঞার। আগামীকাল থেকে ক্রিকেটে ফেরার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকবে না সাকিবের। নভেম্বরে দেশের মাটিতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়ে মাঠে ফিরবেন সাকিব। এরপর জাতীয় দলের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা সফরও করার কথা এই টাইগার অলরাউন্ডারের।

গত বছর ভারত সফরের এক সপ্তাহ আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল থেকে নিষেধাজ্ঞার আদেশ পান সাকিব। সেই সফর থেকে এক বছরে সাকিবের মোট মিস করার কথা ছিল ৩৬টি ম্যাচ। কিন্তু বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস অনেকটা সৌভাগ্য বয়ে আনে সাকিবের জন্য। করোনার হানায় দীর্ঘ প্রায় সাত মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে টিম টাইগার।

এর আগে বাংলাদেশ দল খেলেছিল কেবল চার টেস্ট, তিন ওয়ানডে এবং সাত টি-টোয়েন্টি। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যেকটি মিস করেছে সাকিব। তবে নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাকিবের মিস করার কথা ছিল আরও বেশি ম্যাচ। সাকিব নিষেধাজ্ঞায় থাকায় কি কি খেলা মিস করেছেন তার একটি তালিকা দেওয়া হলো।

ভারত সিরিজ

টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা সাকিব নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়লে মুমিনুল হককে সাদা পোষাকের দলের নেতৃত্ব দিয়ে ভারত সফরে পাঠানো হয়। সেখানে দুই টেস্টে পরাজয় দেখে দল। এছাড়াও সাকিবের অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দায়িত্ব পেয়ে প্রথম ম্যাচেই দলকে ভারতের বিপক্ষে জয় উপহার দেন এই ক্রিকেটার। কিন্তু বাকি দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোঁয়ায় টাইগাররা।

পাকিস্তান সিরিজ

জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে যায় টাইগাররা। সেখানে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হারে দুটিই। এরপরে ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি টেস্ট খেলতে যায়। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সেই ম্যাচেও হারের লজ্জায় ভাসে বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ে সিরিজ

আগের দুই সিরিজের ব্যর্থতা ঘরের মাঠের এই সিরিজ দিয়ে পুষিয়ে দিয়েছিল টিম টাইগার। অধিনায়ক মুমিনুল হক প্রথম টেস্ট জয় দেখে। এরপর টি-টোয়েন্টিতেও জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে টাইগাররা। এই সিরিজ দিয়ে ওয়ানডে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

করোনার হানা না থাকলে আরও যেসব খেলা মিস করতেন সাকিব

পাকিস্তান সিরিজ

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আরও একটি টেস্ট এবং একটি ওয়ানডে খেলার কথা ছিল। এপ্রিলের মধ্যেই যার সূচিও চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝিতে করোনার হানায় ভেস্তে যায় সেই সিরিজ।

আয়ারল্যান্ড সিরিজ

মে মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে যুক্তরাজ্য সফর করার কথা ছিল বাংলাদেশের। সফরটি অনির্দিষ্ট সময়ের জন্যই পিছিয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

জুন মাসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আসার কথা ছিল অস্ট্রেলিয়ার। এই সফরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। করোনার প্রকোপে সেই সিরিজটিও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে আছে।

শ্রীলঙ্কা সিরিজ

জুলাই মাসেই শ্রীলঙ্কায় গিয়ে তিন টেস্ট খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের। সফরটিও অনুমিতভাবেই স্থগিতের খাতায় চলে গিয়েছে। পরবর্তীতে করোণা সঙ্কট কাটিয়ে সিরিজটি হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন জটিলতায় স্থগিত হয়ে আছে সিরিজটি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়ায় ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। সে সময় শুরু হলে প্রথম রাউন্ডের ন্যূনতম তিন ম্যাচ মিস করার কথা ছিল সাকিবের। কিন্তু করোনার কারণে আসরটি পিছিয়ে গেছে এক বছর। তাই কোনো ম্যাচ মিস করা লাগলো না সাকিবের।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ