Home > খেলাধুলা > মুশফিকদের হ্যাটট্রিক জয়ে মুস্তাফিজদের টানা চতুর্থ হার

মুশফিকদের হ্যাটট্রিক জয়ে মুস্তাফিজদের টানা চতুর্থ হার

শুক্রবার, ছুটির দিন। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম দুই দিনের চেয়ে দর্শক সংখ্যাও তাই একটু বেশি। কিন্তু ম্যাচে উত্তেজনা ছড়াল কই! একপেশে ম্যাচে রংপুর রেঞ্জার্সকে উড়িয়ে দিল খুলনা টাইগার্স।

দারুণ বোলিংয়ে রংপুরকে অল্প রানে আটকে রেখে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন শফিউল ইসলাম ও মোহাম্মদ আমির। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বাকি কাজটা সেরেছেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও রাইলি রুশো। রংপুরকে ৮ উইকেটে হারিয়ে খুলনা করেছে জয়ের হ্যাটট্রিক।

সাগরিকায় আগে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৭ রান করেছিল রংপুর। খুলনা সেটি পেরিয়ে যায় ৪৫ বল বাকি থাকতেই।

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচই জিতল খুলনা। আর রংপুর হারল প্রথম চার ম্যাচেই!

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল রংপুর। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ আমিরকে দারুণ দুটি চার মারেন নাঈম শেখ। দ্বিতীয় ওভারে রবি ফ্রাইলিঙ্ককে টানা দুটি চার মারেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ।
কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি এই আফগান ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে আমিরের কাটার বুঝতে না পেরে মিড উইকেটে স্বদেশী রহমানউল্লাহ গুরবাজের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১১ রান করা শাহজাদ।

প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া ক্যামেরন ডেলপোর্ট টিকতেই পারেননি। শফিউল ইসলামের প্রথম ওভারে তিনি মিড উইকেটে শামসুর রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্যক্তিগত ৪ রানে। বিনা উইকেটে ২০ থেকে রংপুরের সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ২৮।

চার নম্বরে নামা নাদিফ চৌধুরী ব্যর্থ হয়েছেন আরও একবার। শফিউলের পরের ওভারে শর্ট বল পুল করতে গিয়ে তিনিও ক্যাচ দেন মিড উইকেটে। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট! নিজের আগের দুই ম্যাচে ২ ও ১৫ রান করা নাদিফ এদিন ৯ বলে করেন শূন্য!

এক প্রান্ত আগলে রাখা নাঈম ফজলে মাহমুদ রাব্বীকে সঙ্গী করে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। দ্বাদশ ওভারে শহিদুল ইসলামের পরপর তিন বলে একটি ছক্কা ও দুটি চারে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন ফিফটির খুব কাছে। কিন্তু ওভারের শেষ বলে রান আউটে শেষ হয় তার ৪৯ রানের দারুণ ইনিংসটি।

লেগ সাইডে খেলে সিঙ্গেলের জন্য বেরিয়ে গিয়েছিলেন নাঈম। শামসুর রহমানের থ্রো থেকে বল ধরে স্টাম্প ভাঙেন উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম। ফেরার চেষ্টা করা নাঈম আর ফিরতে পারেননি। ৩২ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী টিকতে পারেননি। জর্জ গ্রেগরিকে সঙ্গে নিয়ে দলের স্কোর একশ পার করেন রাব্বী। ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ৩৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৪২ রান করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২০ বলে ২২ রান করেন গ্রেগরি।

৪ ওভারে ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে খুলনার সেরা বোলার শফিউল। আমির ২৪ রানে ও শহিদুল ৩২ রানে নেন ২টি করে উইকেট।

মাঝারি লক্ষ্য তাড়ায় ঝড় তোলেন খুলনার আফগান ওপেনার গুরবাজ। দ্বিতীয় ওভারে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধকে তিনি হাঁকান দুই ছক্কা। আরেক ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত অবশ্য ব্যর্থ হয়েছেন। পরের ওভারে তাকে ফিরিয়ে ২২ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মুস্তাফিজুর রহমান।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গুরবাজের সঙ্গে ঝড় তোলেন রাইলি রুশোও। তাতে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে খুলনা ১ উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলে ৮৩ রান! পরের ওভারে গুরবাজকে ফিরিয়ে ৩২ বলে ৬১ রানের জুটি ভাঙেন মুকিদুল। ২২ বলে একটি চার ও ৪ ছক্কায় গুরবাজ করেন ৩৭ রান।

গুরবাজকে থামানো গেলেও রুশোকে থামাতে পারেনি রংপুর। দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান মাত্র ২৩ বলে তুলে নেন ফিফটি। অধিনায়ক মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ৩১ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় বাঁহাতি ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ১৭ রানে।

রংপুরের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মুস্তাফিজ ও মুকিদুল। তাসকিন ৩ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ