Home > খেলাধুলা > প্রতীক্ষার টেস্টে ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ

প্রতীক্ষার টেস্টে ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ

চলতি বছর দেশের মাটিতে প্রথম ও একমাত্র টেস্ট খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।

২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। দশ মাস বিরতির পর দেশের মাটিতে টেস্ট খেলার প্রহর গুনছেন সাকিব, মুশফিকরা। অভিষেক বছরের পর এবারই দেশের মাটিতে সবচেয়ে কম টেস্ট খেলল বাংলাদেশ।

এই বিশাল বিরতির বড় কারণ ছিল বিশ্বকাপ। যেখানে বাংলাদেশ সুপার-ডুপার ফ্লপ! বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি। কিন্তু দশ দলের বিশ্বকাপ বাংলাদেশ শেষ করেছে আটে থেকে।

বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ গিয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। সেখানেও ভরাডুবি। ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। বাংলাদেশ যেখানে ১১৫তম টেস্ট খেলার অপেক্ষায়, সেখানে আফগানিস্তান খেলবে তৃতীয় টেস্ট। অভিজ্ঞতার বিচারে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। কিন্তু আফগানিস্তান-বাংলাদেশ একই মেরুতে অবস্থান করছে! ভাবছেন, সেটা কীভাবে?

টেস্ট ক্রিকেটে প্রায় দুই দশক পার করলেও বাংলাদেশ এখনো পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে পারেনি। টেস্ট ক্রিকেটে এখনো অনভ্যস্ত বাংলাদেশ। আর আফগানিস্তান পার করছে ‘হানিমুন পিরিয়ড’।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের লড়াইটা অন্যরকম। তাদের বিপক্ষে জিতলে তা হয় প্রত্যাশিত। আর হারলে শুরু হয় সমালোচনা। এমন কথা মানতে নারাজ বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব। বুধবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাকিব চট্টগ্রামে বললেন,‘প্রশংসা হয় না, আমার কাছে মনে হয় ভুল ধারণা। কারণ আমরা ক্রিকেটাররা জানি এটা কত গুরুত্বপূর্ণ মাচ এবং প্রতিটি ম্যাচ জিততে হলে কতটা পারফর্ম করতে হয় ও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমরা আমাদেরকে প্রশংসা করি। মানুষ বা আপনারা কতটা প্রশংসা করেন, এটা আসলে আমাদের জন্য খুব একটা ম্যাটার করে না।’

অকুতোভয়, নির্ভীক ও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে অভ্যস্ত রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীরা। সম্প্রতি তাদের ‘এ’ দল বাংলাদেশে পেয়েছে একাধিক সাফল্য। ইমরুল, বিজয়দের নিয়ে গড়া বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে জিতেছিল চার দিনের ম্যাচের সিরিজ, ড্র করেছিল ওয়ানডে সিরিজ। তাদের নিয়ে ভয় আছে বাংলাদেশ শিবিরে, তা মনে হলো সাকিবের কথায়।

‘আমাদের এটা চিন্তা করতে হবে যে ওরা যখন ‘এ’ দলের হয়ে এবং এখান থেকে জিতে গিয়েছে। এখানে এসে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটিও খেলেছে, ওদের খেলোয়াড়রা ওরকম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়েছে। ওরা আসলে এতদিন ধরে শর্ট ফরম্যাট খেলছে এবং ভালো ক্রিকেট খেলছে। স্বাভাবিকভাবেই ফরম্যাট ভিন্ন বলে আমরা ভিন্নভাবে চিন্তা করছি। কিন্তু ওদের দলে তো এরকম ক্রিকেটার আছে যারা ম্যাচ জেতাতে সক্ষম।’

প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবনা থাকলেও সাকিব আত্মবিশ্বাসী নিজেদের দল নিয়ে, ‘আমাদের যেটা করতে হবে, মৌলিক কাজগুলো ঠিকঠাক করতে হবে। আমরা আমাদের মৌলিক কাজগুলো ঠিক করতে পারলে ও মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে, আমার মনে হয় আমরা ভালো কিছু করব।’

সবকিছু ছাপিয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট কয়দিনে যাবে, তা নিয়েই যত আলোচনা। বাংলাদেশ বন্দরনগরীতে সবশেষ টেস্ট খেলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, গত নভেম্বরে। স্পিন বিষে নীল করে বাংলাদেশ ক্যারিবীয়দের হারিয়েছিল মাত্র তিন দিনে। একই রণকৌশল নিয়ে এবার মাঠে নামছে বাংলাদেশ।

এবার কি স্পিনে আফগান-বধ করবে বাংলাদেশ? দলের পরিকল্পনা গণমাধ্যমে আনতে নারাজ সাকিব, ‘পরিকল্পনা বলে দিলে তো গোপনীয়তা থাকে না। স্বাভাবিকভাবেই পরিকল্পনা আমি বলতে পারব না। যে দলই তৈরি করি, আমাদের চেষ্টা থাকবে জয়ের।’

বিজয়ের পতাকা উড়ানোর চিন্তা করেই চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় মাঠে নামার অপেক্ষায় সাকিব-মুশফিকরা। দুই দলের স্পিন আক্রমণ শক্তিশালী। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মালা কারা পরে, সেটাই দেখার। একটা বিষয় জানিয়ে রাখা ভালো, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখিতে জেতেনি। সাকিবরা এবার পারবেন ইতিহাস বদলাতে?

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ