Home > খেলাধুলা > ২৭ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

২৭ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ফাইনালে ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের দারুণ বোলিং সামলে অস্ট্রেলিয়াকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তবে বোলাররা গড়তে পারলেন না প্রতিদ্বন্দ্বিতাই। জেসন রয়ের ঝোড়ো ইনিংসে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উড়িয়ে দিয়ে ইংল্যান্ড উঠে গেল ফাইনালে।

এজবাস্টনে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচটি ইংল্যান্ড জিতেছে ৮ উইকেটে। অস্ট্রেলিয়া আগে ব্যাট করতে নেমে ১৪ রানেই হারিয়েছিল ৩ উইকেট। সেখান থাকে তারা ২২৩ রানের পুঁজি পায় স্মিথের ৮৫ রানের দারুণ ইনিংসে। শতরানের উদ্বোধনী জুটির সুবাদে লক্ষ্যটা ইংল্যান্ড পেরিয়ে যায় ১০৭ বল হাতে রেখেই।

২৭ বছর পর ইংল্যান্ড উঠল বিশ্বকাপের ফাইনালে। যেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছে নিউজিল্যান্ড। আগের দিন ভারতকে হারিয়ে কিউইরা নিশ্চিত করে টানা দ্বিতীয় ফাইনাল। আগামী রোববার লর্ডসে হবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ। বিশ্বকাপ পেতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন, নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড কেউই যে এখনো বিশ্ব জয়ের স্বাদ পায়নি।

ইংল্যান্ড সবশেষ ফাইনাল খেলেছিল ১৯৯২ সালে। এরপর তারা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচই জিতল প্রথমবারের মতো। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া সাতবার সেমিফাইনাল খেলে হারল এই প্রথম। প্রথম পর্বে এই অস্ট্রেলিয়ার কাছেই বড় ব্যবধানে হেরেছিল ইংল্যান্ড। এবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ইংলিশরা নিল মধুর প্রতিশোধ।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ক্রিস ওকসকে প্রথম বলে চার মেরে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। তবে পরের ওভারে জোফরা আর্চারের প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন অ্যারন ফিঞ্চ। ইন-সুইঙ্গারে এলবিডব্লিউ হওয়া ফিঞ্চ নষ্ট করেন একমাত্র রিভিউটাও।

ওয়ার্নারও টেকেননি এরপর। ওভার দ্য উইকেটে ওকসের অফ স্টাম্পের বাইরে কিছুটা বাড়তি বাউন্সে দ্বিতীয় স্লিপে জনি বেয়ারস্টোর হাতে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। উসমান খাজার জায়গায় বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা পিটার হ্যান্ডসকম্ব ওকসের বলে প্লেড-অন হন আলগা শটে। সাত ওভারের মধ্যে তখন ১৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে অস্ট্রেলিয়া।

অসিরা প্রাথমিক বিপর্যয় সামলে ওঠে স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারির ব্যাটে। ক্যারির জন্য কাজটা যদিও সহজ ছিল না। আর্চারের বলে হেলমেটে আঘাত পেয়েছিলেন শুরুতেই। থুতনি কেটে বেরিয়েছিল রক্ত। ফিজিও এসে প্রথমে করে দেন ব্যান্ডেজ, পরে আবার মাথার পেছন দিয়ে পুরোটা ঢেকে দেওয়া হয় আরো মোটা ব্যান্ডেজে।

দুজনই শুরুতে খেলেছেন দেখেশুনে। এরপর বাড়িয়েছেন রান তোলার গতি। তাদের চতুর্থ উইকেট জুটি পঞ্চাশ পেরিয়ে স্পর্শ করে শতরান। এরপরই আবার জোড়া ধাক্কা। লেগ স্পিনার আদিল রশিদ পাঁচ বলের মধ্যে তুলে নেন দুই উইকেট।

লেগ স্পিনারকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কায় উড়াতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন ক্যারি। ৭০ বলে ৪ চারে উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান করেন ৪৬ রান। ভাঙে ১০৩ রানের বড় জুটি। ব্যাট হাতে আরো একবার ব্যর্থ মার্কাস স্টয়নিস এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন দুই বলে ডাক মেরে।

জোড়া ধাক্কার মাঝেই স্মিথ তুলে নেন আরেকটি ফিফটি, ৭২ বলে। তাকে ভালোই সঙ্গ দিচ্ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দুই চার ও এক ছক্কায় ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। আর্চারের স্লোয়ারে কাভারে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৩ বলে ২২ রান করা ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

রশিদ এরপর তুলে নিয়েছেন প্যাট কামিন্সকে। স্মিথ চালিয়ে গেছেন এরপরও। অষ্টম উইকেটে মিচেল স্টার্ককে নিয়ে গড়েন ৫১ রানের জুটি। ৪৮তম ওভারের শুরুতে জস বাটলারের সরাসরি থ্রোয়ে স্মিথের রান আউটে ভাঙে জুটি। ১১৯ বলে ৬ চারে ৮৫ রানের দারুণ ইনিংস খেলে স্মিথ ফেরার পরের বলে আউট হন স্টার্কও, ৩৬ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় করেন ২৯ রান।

আর জেসন বেহরেনডর্ফকে বোল্ড করে এক ওভার বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস গুটিয়ে দেন মার্ক উড। ৬ রানের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া হারায় শেষ ৩ উইকেট!

ওকস ৮ ওভারে ২০ রানে ও রশিদ ১০ ওভারে ৫৪ রানে নেন ৩টি করে উইকেট। আর্চার ১০ ওভারে ৩২ রানে নেন ২ উইকেট। একটি উইকেট উডের।

বিস্তারিত আসছে…

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ