Home > খেলাধুলা > সুখস্মৃতি নিয়ে বাড়ির পথে

সুখস্মৃতি নিয়ে বাড়ির পথে

সেদিনই তিনি নাম বলেননি।  গতকালও না।  ‘টুডে ইয়র লাস্ট ওয়ার্কিং ডে।’ রিপ্লাই দিলেন,‘হ্যাপি এন্ড স্যাড।’

বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ড থেকে বিদায় নেবে, তার মিলবে ছুটি তাই হ্যাপি। তাহলে স্যাড কেন? ‘পরিবার’ ভেঙ্গে যাচ্ছে বলে! ৪৭ দিন একসঙ্গে উঠা-বসা করলে তো পরিবারই হয়ে যায়, নাকি? বিশ্বকাপ চলাকালীন বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। ইংল্যান্ডে পা দেওয়ার পরপরই বাংলাদেশ দলের অতন্দ্র প্রহরী। কঠিন পেশাদার মানুষ।

ওভালে যেদিন প্রথম দেখা সেদিন নাম জিজ্ঞেস করতেই পরিচয় চেয়ে বসলেন।  গতকাল লন্ডনে আবার নাম জিজ্ঞাসা করতে বললেন,‘আই এম নট অ্যালাউড টু টেল।’ ৪৭ দিন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ফ্যাবিকলের মতো মিশে ছিলেন।  তাইতো শেষ বেলায় তার হৃদয়ে ভাঙন! মিরাজ, সাকিব, লিটন ও সাব্বির বাদে বাংলাদেশের সব ক্রিকেটার এখন দেশের পথে।  লন্ডন থেকে গতকাল রাত সোয়া দশটার বিমান ধরেছেন ক্রিকেটাররা।  বিকেল সোয়া পাঁচটায় বাংলাদেশ দলকে বহনকারী এমিরেটসের বিমান ল্যান্ড করবে ঢাকায়।

মাশরাফি, তামিমরা যখন হিথরো বিমানবন্দরে তখন বড় দুঃসংবাদ পেয়েছিল দল। দক্ষিণ আফ্রিকা বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ আটে থেকে শেষ করেছে বিশ্বকাপের মিশন।  নিজেদের এমন অবস্থায় কি দেখতে চেয়েছিল বাংলাদেশ? মাশরাফি যাবার বেলায় যেমন বলে গেলেন,‘সেমিফাইনাল খেলার সব সামর্থ্য ছিল। কিন্তু আমরা পারিনি। এর থেকে বড় সত্য আর হতে পারে না।’ মাশরাফি নিজেদের ব্যর্থতার দায় মেনে নিয়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের পর।

 

বিশ্বকাপের শুরু থেকে দুই ভায়রা মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ একসঙ্গে চলাফেরা করছেন। গতকালও শেষ বেলা পর্যন্তও দুজন একসঙ্গে। উবারে মুশফিক বড় ভ্যান কল করেছিলেন। কিন্তু গাড়ি এল সেডান। তাই বাধ্য হয়ে টিম হোটেল থেকে দুই ভায়রা আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন বিমানবন্দরে।

মুশফিক পুরো বিশ্বকাপে নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছিলেন কিন্তু গণমাধ্যমের সামনে আসেননি একদিনও।  শেষদিনও তার কাছে আর্জি রাখা হয়েছিল। সেই আবেদনও রিফিউজ।  খালু মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে মায়াংয়ের (মুশফিকের ছেলে) রসায়ন দারুণ।  মাহমুদউল্লাহর কোলে যতক্ষণ কাল ছিলেন ততক্ষণ দুষ্টুমিতেই কাটল।  মাহমুদউল্লাহ বারবার বলছিলেন, টাইগার কি করে দেখাও তো? মায়াংও দুই হাত উঠিয়ে দেখালেন, টাইগার, টাইগার….। ’ জুনিয়র টাইগার ওমন ভাবে জ্বলে উঠলেও মাঠের টাইগাররা পারলেন না কিছুই।

শুধু সাকিব ছিলেন ব্যতিক্রমী। সাকিবময় বিশ্বকাপে বাকিরা জ্বলে উঠতে পারেনি। বিশ্বকাপ জিততে চাই দলীয় পারফরম্যান্স। কিন্তু সাকিব ছিলেন ওয়ান ম্যান আর্মি। নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট সাকিব বিশ্বকাপের আগে পরিবারকে দূরে রেখে মনোযোগী ছিলেন নিজের ফিটনেস আর স্কিল ট্রেনিংয়ে। এবার পরিবারকে সময় দেওয়ার পালা। চলে যাচ্ছেন ইউরোপ সফরে। এরপর যাবেন আমেরিকাতে। সেখানে মেয়ের স্কুলের ভর্তি নিয়ে কিছু কাজ সেরে ফিরবেন দেশে।

 

তামিম অন্যদের থেকে নিজেকে অনেকটা গুটিয়ে নিয়েছেন। পরিচিত কাউকে টিম হোটেলের রিসেপশনে জার্সি দিয়েছেন। সেই ছবি তুলতে মানা করেছেন। হোটেল থেকে বেরিয়ে টিম বাসে না গিয়ে গেছেন আইসিসির মাইক্রোতে।  সাথে মিথুন, সাইফউদ্দিন, মোসাদ্দেক ও রাহী।

অধিনায়ক মাশরাফি, ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ, কোচ রোডস, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক, ফিজিও মারিও ভিল্লাভারায়েনে বিমানবন্দরে গিয়েছেন টিম বাসে। হোটেল থেকে বের হওয়ার পথে মাশরাফি পেয়েছেন প্রবাসীদের বুক ভরা ভালোবাসা। বিশ্বকাপের মিশন যেমনই হোক, শেষ চার বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁপিয়ে বেড়ানোর কৃতিত্ব তাকে দিতেই হবে।

তিন জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে বাড়ির পথে বাংলাদেশ। আপাতত কয়েকদিনের বিশ্রাম। ২০ জুলাই মিরপুরে শুরু হবে শ্রীলঙ্কা সফরের প্রস্তুতি। এর আগ পর্যন্ত বিশ্বকাপ নিয়ে অনেক কথাই হবে, অনেক আলোচনা হবে।  কিন্তু কোথায় থাকবে না বাংলাদেশ।  ‘ক্লাসের দশ শিক্ষার্থীর মধ্যে অষ্টম শিক্ষার্থীকে নিয়ে আলোচনা হয় সামান্যই।’

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ