Home > খেলাধুলা > দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে টিকে রইল পাকিস্তান

দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে টিকে রইল পাকিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুই দলের জন্যই ম্যাচটা ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। যেখানে শেষ হাসি হাসল পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৯ রানে হারিয়ে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল সরফরাজ আহমেদের দল। গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিণ আফ্রিকা এবার বিদায় নিল প্রথম পর্ব থেকেই।

রোববার লর্ডসে হ্যারিস সোহেল ও বাবর আজমের ফিফটিতে ৭ উইকেটে ৩০৮ রান করেছিল পাকিস্তান। ৫৯ বলে ৮৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন হ্যারিস। ৮০ বলে ৬৯ রান করেন বাবর।

পরে পাকিস্তানের ফিল্ডাররা পাঁচ-ছয়টি ক্যাচ ফেলার পরও দক্ষিণ আফ্রিকা সেভাবে জয়ের সম্ভাবনাই জাগাতে পারেন কখনো। প্রোটিয়ারা ৯ উইকেটে করতে পারে ২৫৯ রান। আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালের লড়াই থেকে ছিটকে গেল ফাফ ডু প্লেসির দল।

বিশ্বকাপে কখনো তিনশ রান তাড়া করে জিততে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০১১ সালের আসরে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল তারা। রোববার তাই দক্ষিণ আফ্রিকাকে গড়তে হতো নতুন রেকর্ড।

কিন্তু শুরু থেকেই মন্থর ব্যাটিং করেছে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। কুইন্টন ডি কক সুযোগ দিয়েছিলেন ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই। তবে মোহাম্মদ হাফিজের বলে মিড অনে ক্যাচটা নিতে পারেননি ওয়াহাব রিয়াজ।

যদিও ব্রেক থ্রুর জন্য পাকিস্তানকে বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। পরের ওভারে মোহাম্মদ আমির প্রথম বলে এলবিডব্লিউ করে ফেরান হাশিম আমলাকে। পাকিস্তান উইকেটটা পেয়েছে অবশ্য রিভিউ নিয়ে।

দ্বিতীয় উইকেটে ডি কক ও ডু প্লেসির ৮৭ রানের জুটি আশা দেখিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। যদিও এ জুটিতে রান এসেছে ধীরগতিতে। বিশেষ করে ডি কক শুরু থেকেই ব্যাটিং করেছেন ধীরলয়ে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান প্রথম বাউন্ডারি মারেন মুখোমুখি ৩৩তম বলে!

শাদাব খান আর ওয়াহাবকে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ডি কক যখন রানের গতি বাড়াচ্ছিলেন, তখনই ফিরেছেন সাজঘরে। শাদাবকে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ইমাম উল হকের দারুণ ক্যাচে ফেরেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান (৬০ বলে ৪৭)।

বেশিক্ষণ টেকেননি এইডেন মার্করাম। শাদাবকে ব্যাক ফুটে খেলতে গিয়ে তিনি বোল্ড হন ৭ রানে। ডু প্লেসি তুলে নিয়েছিলেন ফিফটি। কিন্তু ফিফটির পর তিনিও আর বেশিক্ষণ টেকেননি। দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে ফিরেই বড় উইকেটটা নেন মোহাম্মদ আমির। ৭৯ বলে ৫ চারে প্রোটিয়া অধিনায়ক করেন ৬৩ রান।

পঞ্চম উইকেটে ৫৩ রানের জুটিতে আশা বাঁচিয়ে রেখেছিলেন ফন ডার ডুসেন ও ডেভিড মিলার। মিলার ফিরতে পারতেন অবশ্য শুরুতেই, আমির যদি ফিরতি ক্যাচটা নিতে পারতেন। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জীবন পেয়েছেন পরেও। জীবন পেয়েছেন ডুসেনও।

অবশেষে শাদাবের বলে ডুসেন (৩৬) হাফিজের দারুণ এক ক্যাচে ফিরলে ভাঙে জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকাও ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সেখানেই। এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। পরের ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার হওয়ার আগে ৩১ রান করেন মিলার।

ওয়াহাব ১০ ওভারে ৪৬ রানে ও শাদাব ৫০ রানে নেন ৩টি করে উইকেট। আমির ২৯ রানে ২টি ও আফ্রিদি ৫৪ রানে নেন একটি উইকেট।

এর আগে ​টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার ফখর জামান ও ইমাম-উল-হক। দুজন প্রথম ১০ ওভারে তোলেন বিনা উইকেটে ৫৮ রান। ১৫তম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসে ৮১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন ইমরান তাহির। লেগ স্পিনারকে স্কুপ করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে স্লিপে হাশিম আমলার হাতে ধরা পড়েন ফখর (৫০ বলে ৪৪)।

পরে আরেক ওপেনার ইমামকেও তাহির ফেরান দুর্দান্ত এক ফিরতি ক্যাচে। এই উইকেটটা নিয়ে অ্যালান ডোনাল্ডকে (৩৮ উইকেট) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে যান ৪০ বছর বয়সি তাহির (৩৯ উইকেট)। ইমামও করেন ৪৪ রান, ৫৮ বলে।

মোহাম্মদ হাফিজ তাহিরের বলে জীবন পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। এইডেন মার্করামের বলে এলবিডব্লিউ হন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান (৩৩ বলে ২০)। চতুর্থ উইকেটে ৮১ রানের বড় জুটিতে দলের স্কোর দুইশ পার করেন বাবর ও হ্যারিস। বাবরকে (৮০ বলে ৬৯) ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন আন্দিলে ফিকোয়াও।

অন্য প্রান্তে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা হ্যারিস ফিফটি তুলে নেন ৩৮ বলে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এরপর রান তোলার গতি বাড়ান আরো। পঞ্চম উইকেটে ইমাদ ওয়াসিমকে নিয়ে ৩৯ বলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। লুঙ্গি এনগিডির শিকার হওয়ার আগে ইমাদ ১৫ বলে করেন ২৩।

শেষ ওভারে ঝড় তুলতে পারেনি পাকিস্তান। এনগিডির ওভার থেকে মাত্র ৪ রান তুলতেই হারায় ২ উইকেট। প্রথম বলে ওয়াহাব রিয়াজের পর পঞ্চম বলে ফেরা হ্যারিস ৫৯ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় সাজান ৮৯ রানের ইনিংসটি।

৯ ওভারে ৬৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার এনগিডি। তাহির ১০ ওভারে ৪১ রানে ২টি, মার্করাম ও ক্রিস মরিস নেন একটি করে উইকেট।

পরে ব্যাটসম্যানরা সেভাবে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে না পারায় লক্ষ্যের ধারাকাছেও যেতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। চার ম্যাচ পর শোয়েব মালিকের জায়গায় সুযোগ পেয়ে ঝোড়ো ফিফটি করে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক হ্যারিস।

ছয় ম্যাচে দুই জয়, তিন হার ও একটিতে বৃষ্টিতে এক পয়েন্ট পেয়ে মোট ৫ পয়েন্ট নিয়ে সাতে আছে পাকিস্তান। সাত ম্যাচের পাঁচটিই হেরে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিক আছে নয়ে। একটি জয়ের পাশাপাশি বৃষ্টিতে এক পয়েন্ট পেয়েছে প্রোটিয়ারা।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ