Home > খেলাধুলা > দিনশেষে জিম্বাবুয়ে ২৫/১

দিনশেষে জিম্বাবুয়ে ২৫/১

ক্রীড়া প্রতিবেদক:

মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ৫২২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছে। জবাবে জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেট হারিয়ে ২৫ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে। বাংলাদেশের চেয়ে তারা পিছিয়ে রয়েছে ৪৯৭ রানে। ক্রিজে আছেন ডোনাল্ড ত্রিপানো ও ব্রিয়ান চারি। তারা দুজন আগামীকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামবেন।

স্কোর: জিম্বাবুয়ে ২৫/১ (১৮ ওভার)।

দিনশেষে জিম্বাবুয়ে ২৫/১ : বাংলাদেশের ৫২২ রানের জবাবে জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৮ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২৫ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে। বাংলাদেশের চেয়ে তারা ৪৯৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে। ক্রিজে আছেন ডোনাল্ড ত্রিপানো ও ব্রিয়ান চারি। তারা দুজন আগামীকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে ব্যাট করতে নামবেন। জিম্বাবুয়ের যে উইকেটটির পতন ঘটেছে সেটি নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। দলীয় ২০ রানের মাথায় মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে ফেরত পাঠান তাইজুল।

মাসাকাদজাকে ফেরালেন তাইজুল : দলীয় ২০ রানের মাথায় পনেরতম ওভারের প্রথম বলেই হ্যামিলটন মাসাকাদজাকে ফিরিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তার বলে এজ জয়ে প্রথম স্লিপে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ধরা পড়েন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক। ৪৪ বল খেলে ২ চারে ১৪টি রান করেন তিনি।

বাংলাদেশ: ৫২২/৭ ডি. (মুশফিক ২১৯*, মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৮*, মুমিনুল হক ১৬১, মাহমুদউল্লাহ ৩৬)।

সাকিবের রেকর্ডও ভাঙলেন মুশফিক: টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি এতদিন সাকিব আল হাসানের দখলে ছিল। ২১৭ রান নিয়ে এতদিন শীর্ষে ছিলেন বিশ্বেসেরা এ অলরাউন্ডার। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ইনিংসটি খেলেছিলেন সাকিব। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অসাধারণ এক ডাবল সেঞ্চুরির পর আজ সে রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন ‍মুশফিক। ইনিংসের ১৬০ তম ওভারে শন উইলিয়ামসের বলে সিঙ্গেল নিয়ে সাকিবকে ছাড়িয়ে যান মুশফিক। শেষপর্যন্ত ৪২১ বলে খেলে ২১৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি।

যেখানে মুশফিকই প্রথম : টেস্টে  উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রথমবারের মতো দুটি ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড গড়লেন মুশফিকুর রহিম। এর আগে একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি নিয়ে কুমার সাঙ্গাকারা ও মহেন্দ্র সিং ধোনীদের কাতারে ছিলেন তিনি। এবার মিরপুর টেস্টে অসাধারণ এ ডাবলসে তাদের ছাড়িয়ে গেলেন মুশফিক। এছাড়া বাংলাদেশের হয়েও দুটি ডাবল সেঞ্চুরি এখন শুধু তার নামের পাশেই।

 

মুশফিকের ২০০: অবশেষে কাঙ্খিত ডাবল সেঞ্চরির দেখা পেলেন মুশফিক। ইনিংসের ১৫৪তম ওভারে  সিকান্দার রাজার বলে সিঙ্গেল নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। ৪০৭ বলে ১৬ চার ও ১ ছক্কায় ব্যক্তিগত দুইশত রানের মাইলফলকে পৌঁছান বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যান। এর আগে ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি পেয়েছিলেন মুশফিক। ওই ম্যাচে মুশফিকের সঙ্গে ১৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

ছক্কায় মিরাজের ফিফটি:  সিকান্দার রাজার বলে  ছক্কা মেরে ব্যক্তিগত ৫০ রান পূরণ করেছেন মিরাজ। ডাবল সেঞ্চুরির ঠিক আগে মুশফিক যখন স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন ঠিক তখনেই রাজাকে লং অনের উপর দিয়ে বাউন্ডারের বাইরে আছড়ে ফেলে ফিফটি তুলে নেন মিরাজ। ৭৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায়  ফিফটি করেন বাংলাদেশি এ অলরাউন্ডার।

মুশফিক-মিরাজ জুটির সেঞ্চুরি: অষ্টম উইকেট জুটিতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছে মুশফিক ও মিরাজ। ১৫৭ বলেই তিন অঙ্কে যায় জুটির রান। এই  ম্যাচে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় তিন অঙ্কের জুটি।

জীবন পেলেন মিরাজ: মুশফিকের সঙ্গে জুটির ফিফটি হওয়ার পর  জীবন পেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। স্লিপে তার ক্যাচ ছেড়েছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। সিকান্দার রাজার অফ স্পিনে ঠিক মতো কাট করতে না পারায় ক্যাচ উঠে যায়। কিন্তু  সেই ক্যাচ ঠিক মতো মুঠোয় জমাতে পারেননি জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক। ফলে  ব্যক্তিগত ৩১ রান থেকে ইনিংসটাকে আরো বড় করার দারুণ এক সুযোগ পান তিনি।

বাংলাদেশের ৪৫০: ইনিংসের ১৪৩তম ওভারের পঞ্চম বলে মাভুতাকে বাউন্ডারিতে পাঠান মুশফিকুর রহিম। আর তাতেই দলীয় সাড়ে চারশ পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। এই সময়ে মুশফিক ১৮৮ ও মিরাজ ২৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

মুশফিক-মিরাজ জুটির ফিফটি : দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পর মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। অষ্টম উইকেট জুটির রান পঞ্চাশ ছুঁয়েছে ৬৪ বলে। সিকান্দার রাজাকে কাভার দিয়ে চার হাঁকানোর পর বেরিয়ে এসে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কায় উড়ান মুশফিক। ম্যাচে এটাই প্রথম ছক্কা। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে জুটিকে নিয়ে যান পঞ্চাশে।

বাংলাদেশের চারশ: ত্রিরিপানোর ফুলটস বল কড়া শাসন করলেন মিরাজ। মিড উইকেট দিয়ে বল গেল বাউন্ডারিতে। মিরাজ পৌঁছে গেলেন ১৪ রানে। ৩৯৬ থেকে বাংলাদেশের রান  চারশ’তে। প্রথম ইনিংসে চারশ’ ছোঁয়ার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য পূরণ হল বাংলাদেশের। 

মুশফিকের দেড়শ: ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো দেড়শ রান করলেন মুশফিকুর রহিম। ত্রিরিপানোর বলে বাউন্ডারি মেরে ১৪৭ থেকে ১৫১ রানে পৌঁছান বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান। ৩৩৪ বলে ১৩ বাউন্ডারিতে দেড়শ ছুঁয়েছেন মুশফিক। তার দেড়শ ছোঁয়ার সময় বাংলাদেশের রান ৭ উইকেটে ৩৯১।

জারভিসের পঞ্চম শিকার আরিফুল: মাহমুদউল্লাহর দেখানো পথে হাঁটলেন আরিফুল হক। ২২ গজে টিকলেন না বেশিক্ষণ। ১৮ বলে ৪ রান করে ফেরেন গালিতে চারির হাতে ক্যাচ দিয়ে। তার উইকেট নিয়ে টেস্টে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট পেলেন জারভিস। প্রথম দিন তার বলে আউট হন ইমরুল, লিটন ও তাইজুল। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি তার প্রথম পাঁচ। এর আগে নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন জারভিস। আরিফুলের ফেরার সময় বাংলাদেশের রান ৭ উইকেটে ৩৭৮।

জুটি ভাঙলেন জারভিস: ‘উইকেট উপহার না দিলে বোলারদের উইকেট পাওয়া কঠিন।’ কথাটা মিলে গেল। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে মাহমুদউল্লাহ যেভাবে নিজের উইকেট উপহার দিলেন তা শুধু আক্ষেপ বাড়িয়েছে। জারভিসের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বেরিয়ে যাওয়া বলে খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ দেন ৩৬ রান করা মাহমুদউল্লাহ। বিরতির পর ১ রান যোগ করেই ফিরলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ৩৭২। ষষ্ঠ উইকেটে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান।

৩০ ওভারে ৬২ রান: প্রথম সেশনে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ নিজেদের করে নিয়েছেন সকালের সেশন। ৩০ ওভারে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে যোগ করেছে ৬২ রান। এতে মাহমুদউল্লাহর অবদান ৩৫, মুশফিকের ২৭। প্রথম সেশনে জিম্বাবুয়ের বোলাররা বলার মতো কোনো আগ্রাসন দেখায়নি। দুই ব্যাটসম্যান ব্যাটিং করেছেন স্বাচ্ছন্দে। তাদের ৬৬ রানের জুটি দ্বিতীয় সেশনে বড় হলে বড় হবে বাংলাদেশের পুঁজিও।

বড় লক্ষ্যের পথে বাংলাদেশ: মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ১১৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৫০ রান। মুশফিক ১২৪ ও মাহমুদউল্লাহ ৩১ রানে অপরাজিত আছেন। দুজনের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এসেছে ৫১ রান।

মন্থর ব্যাটিং বাংলাদেশের: দ্বিতীয় দিনের প্রথম ঘন্টায় কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। তবে দ্রুত রানও তুলেনি। মন্থর ব্যাটিং করেছেন দুই ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক। ১৪ ওভারের খেলায় স্কোরবোর্ডে জমা হয়েছে ২২ রান। ১১২ রানে মুশফিক জীবন পান চাকাভার হাতে। যদিও ক্যাচটি ধরতে দারুণ কিছু করতে হতো চাকাভাকে।

মাঠের বাইরে চাতারা: টানা পঞ্চম ওভার করছিলেন টেন্ডাই চাতারা। কিন্তু ওভার শেষ করতে পারলেন না। তৃতীয় বল করার পর বাম পায়ের পেশিতে টান পড়ে। স্ট্রেচারে তাকে দ্রুত মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। ম্যাচে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। ওভারের বাকি চার বল করেন ডোনাল্ড ত্রিরিপানো।

দেখে-শুনে খেলছেন মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ: দ্বিতীয় দিনের খেলায় প্রথম ত্রিশ মিনিটে দেখেশুনে ব্যাটিং করছেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। ৭ ওভার শেষে এখন পর্যন্ত ১৬ রান যোগ করেছেন । জিম্বাবুয়ের দুই পেসারকে দারুণভাবেই সামলাচ্ছেন তারা।

চারশ ছাড়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের: প্রথম ইনিংসে চার’শ-সাড়ে চার’শ রান ডিফেন্ড করার মতো বলে মনে করছেন মুমিনুল হক। বাংলাদেশের লক্ষ্য চারশ ছাড়ানো। প্রথম দিন সেঞ্চুরি পাওয়া মুমিনুলের বিশ্বাস প্রথম ইনিংস ঠিক করে দেবে মিরপুর টেস্টের গতিপথ।

মুশফিক-মুমিনুলে রঙিন দিন বাংলাদেশের: ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনই বাংলাদেশ তুলেছে ৩০৩ রান। ৫ উইকেট হারিয়ে এ রান পেয়েছে বাংলাদেশ। সিলেট টেস্টে ব্যাটসম্যানদের যে মানসিকতা ছিল, ঢাকায় তা ভুলিয়ে দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। দুজনই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। দুজনই ছুঁয়েছেন ল্যান্ডমার্ক। হয়েছে রেকর্ড রানের জুটি। চতুর্থ উইকেটে তাদের রেকর্ড ২৬৬ রানের জুটিতে প্রথম দিন রাঙিয়ে রাখে বাংলাদেশ।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ