Home > খেলাধুলা > ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনায়াস জয়

ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনায়াস জয়

ক্রীড়া ডেস্ক : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৭ উইকেটে হার মেনেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় সকালে সেন্ট কিটসে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। ১৪৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার আগেই বৃষ্টি এসে হানা দেয়। ‍বৃষ্টির কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য নতুন টার্গেট দাঁড়ায় ১১ ওভারে ৯১ রান।

সেই রান তাড়া করতে নেমে মারলন স্যামুয়েলস ও আন্দ্রে রাসেলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ৯.১ ওভারেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে তারা। স্যামুয়েলস ২ চার ও ২ ছক্কায় ১৩ বলে ২৬ রান করেন। রাসেল ২১ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৩৫ রান করেন। ৯ বলে ২ ছক্কায় অপরাজিত ১৫ রান করেন রোভম্যান পাওয়েল।

বল হাতে মুস্তাফিজ দ্বিতীয় ওভারে মেইডেনসহ ২ উইকেট তুলে নেন। অপর উইকেটটি নেন রুবেল হোসেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৯৩/৩ (৯.১ ওভারে, টার্গেট ১১ ওভারে ৯১)
উইকেট পতন : ১০/১ এভিন লুইস (২), ১০/২ আন্দ্রে ফ্লেচার (৭), ৫২/৩ স্যামুয়েলস (২৬)।

স্কোর : বাংলাদেশ ১৪৩/৯ (২০ ওভার)।

রুবেল ফেরালেন বিপদজ্জনক হয়ে ওঠা স্যামুয়েলসকে :
রুবেলের করা ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ বলে লং অন দিয়ে মারতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ধরা পড়েন মারলন স্যামুয়েলস। ১৩ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রান করে যান তিনি।

মুস্তাফিজের জোড়া আঘাত :
বল হাতে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ওভারে ১০ রান তোলেন এভিন লুইস ও আন্দ্রে ফ্লেচার। পরের ওভারে আসেন মুস্তাফিজ। এসেই নিজেদের দ্বিতীয় বলে এলিন লুইসকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে লিটন কুমার দাসের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান। শেষ বলে আন্দ্রে ফ্লেচারকে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দি করে সাজঘরের পথ দেখান। কোনো রান না দিয়ে দুটি উইকেট তুলে নেন ফিজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের নতুন টার্গেট :
বাংলাদেশ ১৪৩ রান করলেও বৃষ্টির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাট করতে নামতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বৃষ্টিতে কার্টেল ওভারে গড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। স্বাগতিকদের নতুন টার্গেট ১১ ওভারে ৯১ রান।

দুর্দান্ত কেসরিক উইলিয়ামস: দশম ওভারে অধিনায়ক ব্রাফেটের থেকে বল পান কেসরিক উইলিয়ামস। প্রথম ওভারেই উইকেট উইলিয়ামসের। ডানহাতি পেসারের শর্ট বলে আউট মুশফিক। ১৭তম ওভারে দ্বিতীয় স্পেলের বোলিংয়ে এসে প্রথম বলে সাফল্য ডানহাতি পেসারের। তার স্লোয়ার ডেলিভারীতে বোল্ড মারকুটে ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ। শেষ ওভারে উইলিয়ামস তুলে নেন মিরাজ ও অপুর উইকেট। সব মিলিয়ে ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন উইলিয়ামস।

বাজে শুরু, বাজে শেষ: ইনিংসের শুরুর মতো ইনিংসের শেষটাও হয়েছে বাজে। প্রথম ওভারেই বাংলাদেশ হারায় দুই ওপেনারকে। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে হারায় আরও ২ উইকেট। পরের ৪ ওভারে প্রতিরোধ পায় বাংলাদেশ। ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ৯৫। পরের ১০ ওভারে রান মাত্র ৪৮। উইকেট হারায় ৪টি। বাজে শুরুর মতো শেষটাও হয়েছে বাজে। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা প্রতিরোধ গড়েন। পরবর্তীতে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানরা হাঁটেন উল্টো পথে। মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৩৫ রান। লিটন করেন ২৪ রান।

মিরাজ ও অপু ফিরলেন ১৯তম ওভারে: কেসরিক উইলিয়ামসের করা শেষ ওভারের প্রথম বলে স্লগ খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন মিরাজ। ১৩ বলে ১১ রান করেন মিরাজ। দুই বল পর নাজমুল ইসলাম অপুকে উইকেটের পিছনে তালুবন্দি করান উইলিয়ামস। অপু ৯ বলে করেন ৭ রান। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ২৮ রানে ৪ উইকেট নেন কেসরিক।

মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে বড় সাফল্য স্বাগতিকদের: মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। আস্থার প্রতিদান দিয়ে ডানহাতি ব্যাটসম্যান করেছেন ৩৫ রান। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ১৬তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদউল্লাহ। কেসরিক উইলিয়ামসের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বোল্ড হন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। উইলিয়ামসের স্লোয়ার বল পিক করতে না পারায় উইকেট হারান ব্যাটসম্যান। ২৭ বলে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। ৩ চার ও ২ ছক্কায় সাজিয়েছেন ইনিংসটি।

রাসেলের বলে বোল্ড আরিফুল: শুরুটা ভালো করেছিলেন আরিফুল। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। আন্দ্রে রাসেলের করা ১৫তম ওভারের প্রথম বলে বোল্ড হন ১৮ বলে ১৫ রান করা আরিফুল। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ১১৬।

শতরান পেরিয়ে বাংলাদেশের রান: ৬.৪ ওভারে দলীয় হাফ সেঞ্চুরি পূরণ হয় বাংলাদেশের। ১১তম ওভারের শেষ বলে শতরানের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

মুশফিককে ফেরালেন কেসরিক: পাওয়ার প্লে’ শেষ হওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ করছিল বাংলাদেশ। সপ্তম ওভারে ১৭, অষ্টম ওভারে ১২ এবং নবম ওভারে ১৩ রান তুলেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। পঞ্চম উইকেটে ৪৭ রানের জুটি গড়েন তারা। বিপদজনক হয়ে উঠা এ জুটি দশম ওভারে ভাঙেন প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে আসা কেসরিক উইলিয়ামস। ডানহাতি পেসারের শর্ট বল তুলে মারতে গিয়ে থার্ড ম্যান অঞ্চলে ক্যাচ দেন ১১ বলে ১৫ রান করা মুশফিক। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ৯০।

বাজে শুরু: পাওয়ার প্লে’তে ৪৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এ রান তুলতে হারিয়েছে ৪ উইকেট। সাকিব ও সৌম্য প্রথম ওভারে এবং ষষ্ঠ ওভারে লিটন ও সাকিব সাজঘরের পথ ধরেন। এর আগে পাওয়ার প্লে’তে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারায়নি কোনো ম্যাচে। আজ সেন্ট কিটসে সবচেয়ে বাজে শুরু করল টাইগাররা।

প্রতিরোধের পর লিটন-সাকিব সাজঘরে: প্রথম ওভারে দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে সাকিব ও লিটন ৩৮ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ৪৩ রানে দুই ব্যাাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন পরপর দুই বলে। কিমো পলের করা পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে আউট হন লিটন ও সাকিব।

ডানহাতি পেসারের শর্ট বল উইকেট থেকে সরে গিয়ে শট নেন ২৪ রান করা লিটন। ডিপ স্কয়ারে তার সহজ ক্যাচ ধরেন ফ্লেচার। পরের বলে সাকিবকে আবার শর্ট বল দেন পল। থার্ড ম্যানের ওপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন ১ রানে জীবন পাওয়া সাকিব। কিন্তু কেসরিক উইলিয়ামসের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন ১৯ রান করা সাকিব। তাদের আউটের সময় বাংলাদেশর রান ৪৩।

সাকিবের ক্যাচ ছাড়লেন স্যামুয়েলস: আন্দ্রে রাসেলের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে কভারে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব। দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা স্যামুয়েলস বল তালুবন্দি করতে ব্যর্থ। ১ রানে জীবন পান সাকিব।

ব্যাটিং ভুলেই গেলেন সৌম্য? দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে নিজের উইকেট বিসর্জন দিলেন সৌম্য সরকার! নার্সের সোজা ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন বাঁহাতি ওপেনার। তার শট দেখে মনে হচ্ছিল ব্যাটিং ভুলেই গেছেন? ব্যাটের সঙ্গে নেই পায়ের কোনো সংযোগ। ছিল না বল বল বোঝার ক্ষমতা। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ২ উইকেটে ৫ রান।

তামিমের অনাকাঙ্খিত রেকর্ড: প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বলে স্ট্যাম্পড হওয়ার অনাকাঙ্খিত রেকর্ড যুক্ত হলো তামিম ইকবালের নামের পাশে। আশলে নার্সের করা ইনিংসের প্রথম বলে তেড়েফুঁড়ে এগিয়ে এসে মারতে যান তামিম। বল মিস করে স্ট্যাম্পড হন ওয়ানডে সিরিজে ২৮৭ রান করা তামিম। তার আউটের সময় বাংলাদেশের রান ১ উইকেটে শূন্য রান।

টস: টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়ক কার্লোস ব্রাফেট বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

বাংলাদেশ দল: লিটন কুমার দাস, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাজমুল ইসলাম ও রুবেল হোসেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: কার্লোস ব্রাফেট (অধিনায়ক), স্যামুয়েল বদ্রি, আন্দ্রে ফ্লেচার, এভিন লুইস, অ্যাশলে নার্স, কিমো পল, রোভমান পাওয়েল, দিনেশ রামদিন, আন্দ্রে রাসেল, মারলন স্যামুয়েলস, কেশরিক উইলিয়ামস।

হেড টু হেড: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এর আগে ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ২টিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ৩টিতে। একটি ম্যাচ কোনো বের হয়নি। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবার ক্যারিবীয়ানদের টি-টোয়েন্টিতে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১২ সালে ঘরের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি জিতেছিল টাইগাররা।

টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের আশায় সাকিব: টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি পারফরম্যান্সে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। সাকিবের নেতৃত্বে দল ভালো কিছুই করতে পারেনি। সেই সাকিবের হাত ধরে বাংলাদেশ আবার মাঠে নামছে টি-টোয়েন্টিতে। মাঝে মাশরাফির নেতৃত্বে ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে টাইগাররা।

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জয়ের আশায় অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও নিজেদের সামর্থ্যে যথেষ্ট আস্থা আছে সাকিবের, ‘আমরা জানি, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব শক্তিশালী দল। ওদের সবচেয়ে পছন্দের ফরম্যাট এটা। আর আমাদের জন্য এটা একটু কঠিন। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সামর্থ্য আছে ওদের বিপক্ষে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলে সিরিজটা জেতার।’

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ