রেফারির ‘অবিচারে’ ক্ষুব্ধ জাভি

ইন্টার মিলানের কাছে ১-০ গোলে হেরে খাদের কিনারায় বার্সেলোনা। টানা দ্বিতীয় মৌসুম চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের পথচলা শেষ হতে পারে গ্রুপ পর্বেই। সান সিরোতে হারের জন্য বিতর্কিত রেফারিংকে দায়ী করলেন কোচ জাভি হার্নান্দেজ। দুইবার হ্যান্ডবল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে রেফারির অবিচার বললেন বার্সা কোচ।

হাকান কালহানোগলু প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে একমাত্র গোল করেন। কিন্তু ম্যাচ শেষ হয় বিতর্ক তুলে যখন বার্সার সমতাসূচক গোল বাতিল হয় হ্যান্ডবলের সিদ্ধান্তে। এরপর নিজেদের বক্সের মধ্যে যখন ডেঞ্জেল ডুমফ্রাইসের হ্যান্ডবল হলো, তখন তাদের পেনাল্টি বঞ্চিত করা হয়।

 

‘সি’ গ্রুপে তিন ম্যাচ থেকে মাত্র ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে বার্সা। অন্যদিকে শীর্ষে থাকা বায়ার্ন মিউনিখের (৯) সঙ্গে ব্যবধান তিনে নামিয়েছে ইন্টার (৬)। আগামী বুধবার ন্যু ক্যাম্পে আবারও মুখোমুখি হবে বার্সা ও ইন্টার।

বিতর্কিত হারের পর খ্যাপাটে জাভি সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘আমরা যা দেখলাম তাতে আমি ক্রুদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ, এটা অন্যায়। সোমবার আমি এটা বলেছিলাম, আবারও বলতে হচ্ছে: রেফারিদের এগিয়ে আসতে হবে এবং নিজেদের ব্যাখ্যা দিতে হবে কারণ আমি কোনও কিছু বুঝি না।’

রেফারির কাছ থেকে ওই দুটি সিদ্ধান্তের কোনও ব্যাখ্যা পাননি স্প্যানিশ কোচ, ‘(রেফারি) ম্যাচ শেষে আমাকে কোনও ব্যাখ্যা দিতে চায়নি। রেফারিদের কথা বলতে হবে, আমি যে সিদ্ধান্ত নেইনি সেটা নিয়ে তো কথা বলতে পারি না। আমার কাছে, (সিদ্ধান্তগুলো) ছিল পানির মতো পরিষ্কার। বুঝলামই না তারা কী করলো।’

 

৬৬তম মিনিটে পেদ্রি গোল করে সমতা ফেরান। কিন্তু বিল্ডআপের সময় আনসু ফাতির হ্যান্ডবল হয়েছিল। তাই গোল বাতিল করেন রেফারি। কিন্তু জাভি বললেন, এটা ছিল অনিচ্ছাকৃত এবং ফাতি তো গোল করেননি, গোল বহাল থাকা উচিত ছিল।

এরপর আরেকটি রেফারিং সিদ্ধান্ত বার্সার বিরুদ্ধে যায়। ডুমফ্রাইসের সম্ভাব্য হ্যান্ডবলেও পেনাল্টি দেননি রেফারি। বার্সা খেলোয়াড়ের একটি ক্রস ফাতির কাছে পৌঁছাতে পারেনি তার হাতে আলতো ছোঁয়া লাগার কারণে। পেদ্রির গোল বাতিলে পিচ সাইড মনিটরে রিপ্লে দেখলেও এবার আর সেটার প্রয়োজন মনে করেননি রেফারি।

জাভি বলে গেলেন, ‘আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, কেমন লাগছে। আমি ক্ষুব্ধ। আনসুর যদি হ্যান্ডবল (অনিচ্ছাকৃত) হয়ও, কিন্তু গোল তো করেছে অন্য কেউ, তাহলে তো এটা গোল। কিন্তু তারা সেটা বাতিল করলো। আরেকটির (ডুমফ্রাইসের সম্ভাব্য হ্যান্ডবল) কথা ধরুন। আমি বুঝলামই না। এটা অবিচার, আমি চেপে রাখতে পারি না। রেফারিদের কথা বলতে হবে।’

 

অবশ্য নিজেদের ঘাটতিও লুকাননি জাভি, ‘রেফারিং সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে আমাদেরও আত্মসমালোচক হতে হবে। আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে, যদিও অন্তত ড্র আমাদের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু এই মৌসুমে এটাই আমাদের সবচেয়ে বাজে খেলা নয়। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালো ছিলাম, বিশেষ করে শেষ আধঘণ্টা খুব ভালো। আমরা তাদের ধাক্কা দিতে চেষ্টা করেছিলাম।’

শেষ তিন ম্যাচকে ফাইনাল হিসেবে দেখছেন জাভি, ‘আমাদের আরও গতিময় ফুটবল খেলতে হবে। এখন আমরা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি আছি। তিন ম্যাচ বাকি, সবগুলো ফাইনাল এবং দুটি ঘরের মাঠে। হারের কারণে আমি দুশ্চিন্তায় কারণ আমাদের পয়েন্ট ৩, ইন্টারের ৬ ও বায়ার্নের ৯। আমরা কঠিন অবস্থানে, আবার কোনও হোঁচট খাওয়া চলবে না।’

%d bloggers like this: