Home > রাজনীতি > অনুগত ইসি মানবে না বিএনপি

অনুগত ইসি মানবে না বিএনপি

নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতি আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন, এ আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপির নেতারা বলেছেন, কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ইসির মতো ‘দল অনুগত’ ইসি গঠন হলে সেটি মানবেন না তারা।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে এক আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এর আয়োজন করে দলটি।

নির্বাচনকালে একটি নির্দলীয় সহায়ক সরকার’ গঠনের দাবি তুলে নেতারা বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে ইসি নিরপেক্ষ হলেও প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এজন্য প্রথম দফায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ২৩টি দলের সঙ্গে এবং দ্বিতীয় দফায় আরো আটটি দলের মতামত নিয়েছেন তিনি।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হচ্ছে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ। নতুন যে নির্বাচন কমিশন হবে তাদের অধীনে হবে ২০১৯ সালের একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে সরকারি দল আলোচনা করতে চায় না। তাহলে রাষ্ট্রপতি ডাকলেন কেন? এর মধ্যে কোনো ছলচাতুরি আছে কি না জানিনা। তবে আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে, আন্তরিকতার সঙ্গেই রাষ্ট্রপতি ডেকেছেন এবং আন্তরিকতার সঙ্গেই একটি নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি গঠন করবেন, যার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ইসি গঠন করা হবে। তা না হলে আগের মতো আবার মেরুদণ্ডহীন সরকারের বশংবদ ইসি গঠন করা হবে, যা কোনোদিনই এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।’

বিএনপির আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান চায়, জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই- আলোচনা চাই, সংলাপ চাই এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হোক।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের আজ প্রধানমন্ত্রী আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। আমি জানি না, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে কি না? সেটা বলতেও চাই না। তবে বলতে চাই, রাষ্ট্রপতি যদি সত্যিকার অর্থেই আন্তরিকভাবে ডেকে থাকেন তাহলে তিনি সত্যি কথা বলেছেন যে, এ দেশের মানুষ সংলাপের মাধ্যমেই সংকটের নিরসন দেখতে চায়। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। জনগণের শাসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশ এখন অবরুদ্ধ। সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে অধিকার ফিরিয়ে আনতে লড়াই করতে হবে।’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সেটি পাঁতানো ষড়যন্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রস্তাব অনুযায়ী নিরপেক্ষ ইসি গঠন করে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের সমাধান হবে না।’

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে নিরপেক্ষ ইসি হলেও কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। কারণ, ৭৩ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। কিন্তু সহায়ক সরকার বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে সব নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। সেজন্য দলীয় সরকারকে রেখে ইসিকে ১০০ ভাগ শক্তিশালী করা হলেও কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিরপেক্ষ ইসি গঠন প্রথম পদক্ষেপ। এরপর ইসিকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে প্রয়োজন সহায়ক সরকার গঠন।’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একমাত্র আন্দোলন ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। আন্দোলনে সফল না হলে সবাই ব্যর্থ বলবে। সেজন্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি হচ্ছে। নতুন করে সংগঠন গুছিয়ে আরেকবার আন্দোলন করে এই সরকারকে পরাজিত করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’

দলীয় সরকারের প্রতি আনুগত্য আছে এমন ব্যক্তিদের দিয়ে সার্চ কমিটি গঠনের কথা শোনা যাচ্ছে, এ কথা জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সার্চ কমিটিতে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা শুধু আওয়ামী লীগের সমর্থক নয়, তারা আওয়ামী লীগের চামচা। এদেরকে নির্বাচন কমিশন গঠনের দায়িত্ব দিলে বুঝতে হবে, সরকার আবার রকীবউদ্দিনের মতো কমিশন করে প্রহসনের নির্বাচন করতে চাইছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই ধরনের নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। সেজন্য নিরপেক্ষ সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ নিবাচন কমিশন করতে হবে, যাতে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে। সেই নির্বাচন হলে আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে। সেজন্য দলের নেতা-কর্মীদের একযোগে কাজ করতে হবে।’

ইসি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি সংলাপের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘লোক দেখানোর জন্য আলোচনা করছে। নির্বাচন কমিশনের কাদের নিয়োগ দেওয়া হবে তা দুই বছর আগেই আওয়ামী লীগ ঠিক করে রেখেছে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা নিয়োগ পেলে মানব না।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বিএনপি নেতারা বলেন, তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের ভাগ্য পরিবর্তনের নায়ক। জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শন আমাদের সংস্কৃতি-কৃষ্টি-ঐতিহ্য উপলব্ধি করার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বারবার ক্রান্তিকালে জাতির হাল ধরেছেন। সেই জায়গায় জিয়াউর রহমান সবার থেকে আলাদা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের জন্য জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. খন্দকার মোস্তাহিদুর রহমান। সভা সঞ্চলনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ