Home > রাজনীতি > হিসাব মিলছে না বিএনপির

হিসাব মিলছে না বিএনপির

কিছুতেই রাজনৈতিক হিসাব মিলছে না বিএনপির। টানা ১০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটি ক্রমেই কঠিন থেকে কঠিনতর বাস্তবতার সম্মুখীন হচ্ছে। নতুন জাতীয় নির্বাচন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ রাজনীতির নানা সমীকরণে রাজনীতির কৌশলও বারবার মার খাচ্ছে বিএনপির। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বয়কট করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তও হিতে বিপরীত হয়ে দেখা দিয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারলে তাদের রাজনৈতিকভাবে অনেক লাভ হতো। জিতলে দলীয় নেতাকর্মীরা যেমন চাঙ্গা হতো তেমনি একটি অবাধ, সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে ক্ষমতাসীনদের ওপর চাপ বাড়ত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং ক্ষমতাসীনদের কাছে নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিএনপি হতভম্ব। দলটির নেতাকর্মীরা এমন পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না। শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও অবাক হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বিএনপি রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে।
৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের তিন বছরের মাথায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বড় জয়ে দারুণ উজ্জীবিত। আর নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে পরাজয় বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে আরো কঠিন করে দিয়েছে। দলটির নেতারা এখন নাসিক নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজছেন। যদিও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের চলমান গণতন্ত্রের আন্দোলনের আংশিক বিজয় হয়েছে। মির্জা আলমগীর বলেন, বিএনপি যে ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছে, তা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরশন নির্বাচনে আংশিক সফল হয়েছে। তিনি বলেন, আমি নাসিক নির্বাচনকে ভিন্নভাবে দেখি। নারায়ণগঞ্জ একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এটির ফলাফল দিয়ে জাতীয় নির্বাচন বিচার করা যাবে না। নাসিক নির্বাচনে জাতীয় ইস্যু ছিল না। বাহ্যিক দিক দিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু হলেও ভেতরে কী হয়েছে তা তদন্ত করতে হবে।
বিএনপি নেতারা নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের পরাজয় নিয়ে যাই বলুন, কার্যত এই নির্বাচন দেশের সুশীল সমাজ, পর্যবেক্ষকসহ সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছে। নাসিক নির্বাচনের পরিবেশের কথা তুলে ধরে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই ২০১৯ সালে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনও নারায়ণগঞ্জের মতো সুষ্ঠু হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বয়কট করলেও বর্তমানে দলটি তাদের পূর্বের জায়গা থেকে কিছুটা সরে এসেছে। বিএনপি এখন নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের ওপর জোর দিচ্ছে। একই সঙ্গে দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে সরে এসে নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকারের দাবি জানিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে ১৩ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন। নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান আলোচনায়ও অংশ নিয়েছেন। ১৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংলাপে অংশ নেয়। বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাধীন, শক্তিশালী কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা এখন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি কী ভূমিকা নেন তার ওপর নজর রাখছেন। জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠনে উদ্যোগ পর্যবেক্ষণ করে বিএনপি নতুন করে তার রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করবে।
এদিকে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আদায়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়েও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই বিএনপি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর দুই দফা দীর্ঘ সহিংস আন্দোলনের পর বিএনপির রাজপথের আন্দোলন কার্যত সভা, সেমিনারেই সীমাবদ্ধ। ৭ নভেম্বর উপলক্ষে রাজধানীতে কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তন করেও দলটি একটি সমাবেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে ঘুরে দাঁড়ানের স্বপ্ন দেখে বিএনপি। কিন্তু সেই আশাও কাউন্সিলের পর ম্লান হয়ে যায়। কাউন্সিলের চার মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করেও দলটি রাজপথে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। একের পর এক ইস্যু হাতছাড়া হয়েছে। জাতীয় ইস্যুই শুধু নয়, দলীয় ইস্যুতেও বিএনপি কোনো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারছে না। এমন অভিযোগও আছে দলটির নেতাকর্মীদের। জাতীয় সংসদ ভবনের জন্য করা লুই আই কানের মূল নকশা বাস্তবায়নে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর সেখান থেকে সরানোর চিন্তা-ভাবনায় রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। বিভিন্ন বক্তব্যে এর প্রতিবাদ জানালেও দলীয়ভাবে কার্যত জোরালো কোনো প্রতিবাদ গড়তে পারেনি বিএনপি। যা দলের

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ