Home > রাজনীতি > সাংবাদিক সম্মেলনে কাদের আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এক সপ্তাহের মধ্যে

সাংবাদিক সম্মেলনে কাদের আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এক সপ্তাহের মধ্যে

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ফাঁকা পদগুলো আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। দায়িত্বলাভের পর এটিই ছিল তার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। এ সময় তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করার জন্য দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের সব কাউন্সিলরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একইসঙ্গে তার নাম প্রস্তাব করায় সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। দীর্ঘ বক্তব্যে দলের উন্নয়নে তার পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্রুত কমিটির বাকি পদগুলো পূরণের কথাও জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, আজ-কালের মধ্যে দলের সম্পাদকমন্ডলীর নেতাদের নাম, ৩-৪ দিনের মধ্যে সদস্যদের নাম প্রেস রিলিজ করে আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে। এ কাজে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ সময়ও লাগতে পারে।
দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরদিন সোমবার ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশা অনুযায়ী দলকে গতিশীল করে এগিয়ে নিতে একটি রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা চমকের কথা শুনেছিলেন। সম্মেলনে আমার নাম প্রস্তাব করেছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সেটাই হচ্ছে বড় চমক। শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ম্যাজিক পাওয়ার। তিনি বলেন, সদ্যবিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাত বছরের অভিজ্ঞতা ও সুচিন্তিত দায়িত্ব পালন তাকে এই দায়িত্বে ‘অনুপ্রেরণা যোগাবে’। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি আমার পরিশ্রমের পুরস্কার পেয়েছি। আমি আমার রাজনীতির জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়েছি।… শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ স্বীকৃতি আমাকে দিয়েছেন।
শেখ হাসিনার দলে কোনো অনৈক্য, বিভেদ কখনো প্রশ্রয় পাবে না মন্তব্য করে নতুন সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে ‘পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই’ তিনি দলকে এগিয়ে নিতে চান। তিনি বলেন, আজকেও কেবিনেট মিটিংয়ে তার সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। আমার অবাক লাগল। তার সব কিছুই ইজি। হি ইজ ডেফিনিটলি ইজি। বিচলিত হওয়া বা কোনো প্রকার হতাশার ছবি আমি তার মুখমন্ডলে দেখিনি। আগের কয়েকটি কেবিনেট মিটিং থেকে আজকে তাকে আরও প্রাণবন্ত মনে হয়েছে। এর কৃতিত্ব দল ও দলীয় সভাপতিকে দিয়ে তিনি কাদের বলেন, এটাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির মোটিভ।
আমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে মতান্তর হতে পারে, তবে মনান্তর হবে না। দলকে তৃণমূল পর্যন্ত আরও শক্তিশালী করতে চান বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের। দুটি খারাপ কাজ ১০টি বড় অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বিএনপির যোগ না দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিনন্দন জানিয়েছেন। সেটা মনেপ্রাণে জানিয়েছেন কি না জানি না। যদি তাঁরা সম্মেলনে আসতেন তাহলে বুঝতাম। তাঁরা কথা দিয়ে কথা রাখলেন না। সম্মেলনে না আসায় বুঝতে হবে এর মধ্যে ‘ডালমে কুছ কালা হ্যায়’।
দলে কোনো বিভেদ আসবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আমি জীবনে আঞ্চলিকতার রাজনীতি করিনি। সারা বাংলাদেশে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছি। রাজনীতিতে আমাদের একটা ‘কমিটমেন্ট’ আছে। আমরা এর বাইরে যেতে পারি না। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির, আবদুর রহমান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে ২৩ সদস্যের ( ২১ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হলেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে সভাপতিমন্ডলীরও সদস্য) নাম ঘোষণা করা হয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বসে পরে বাকি পদগুলোতে নাম ঘোষণা করবেন বলে কাউন্সিলে জানানো হয়।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ