Home > রাজনীতি > আ.লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত চিঠি বিলি শুরু

আ.লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত চিঠি বিলি শুরু

আওয়ামী লীগ ২৩৫টি পৌরসভায় মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। গতকাল মঙ্গলবার আবারও দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে বৈঠকে বসে। সেখানেই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে কাউকে কাউকে গত রাতেই প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সই করা চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই চিঠি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার পর নৌকা প্রতীক পাবেন প্রার্থীরা।
মনোনয়ন বোর্ডের গতকালের বৈঠক শেষ হয় রাত সাড়ে ১০টার দিকে। এরপর দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সব পৌরসভার প্রার্থীই চূড়ান্ত করে মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান শেখ হাসিনা চিঠিতে সই করেছেন। চিঠি বিলি করা হচ্ছে।
গত সোমবার ও গতকাল আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক হয়। এ দুই দিনই আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ভিড় করেন। রাতে গণভবনে বৈঠক শেষ হওয়ার পরও অনেকে ধানমন্ডি কার্যালয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বৈঠক শেষে দলীয় সভানেত্রী সব চিঠি সই করেন। কিছু কিছু প্রার্থীর নামের বানান ভুল ছিল, সেগুলো শোধরাতে গিয়ে অনেক রাত হয়ে যায়। ধানমন্ডি কার্যালয়ে উপস্থিতদের মধ্যে যাঁরা মনোনীত হয়েছেন, তাঁদের ডেকে চিঠি দেওয়া হয়। দলের সাংগঠনিক সম্পাদকেরা নিজ নিজ বিভাগের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে চিঠি বিলি করছেন।
মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য বৈঠকের বিরতিতে প্রথম আলোকে বলেন, মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের করা জরিপ প্রতিবেদন গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিতে বিবদমান বিভিন্ন পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণে কোনো এক পক্ষ যেন কোণঠাসা হয়ে না পড়ে, সে জন্য ভারসাম্য রক্ষারও চেষ্টা করা হয়েছে মনোনয়নের ক্ষেত্রে। এর বাইরে বর্তমান পৌর মেয়র, প্রতিপক্ষের আর্থিক অবস্থা, শক্তি-সামর্থ্য, কেন্দ্রীয় কিছু নেতা ও সাংসদের পছন্দ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু কিছু সাংসদ পকেট কমিটির মাধ্যমে একক প্রার্থীর প্রস্তাব করেছেন, জনপ্রিয়তা কিংবা দলের প্রতি অবদান বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অনেকে নিজেদের আত্মীয়ের নাম প্রস্তাব করেছেন। দলীয় সভানেত্রী মন্ত্রী-সাংসদ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের আত্মীয়স্বজনের বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে অনেককেই বাদ দিয়েছেন। কিছু কিছু স্থানে সাংসদদের প্রভাবে পাঠানো একক প্রার্থীর বাইরে বিকল্প প্রার্থীদের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম রাতে প্রথম আলোকে বলেন, তৃণমূল নেতৃত্বের সবার ঐকমত্যের প্রার্থী, বর্তমান মেয়র ও তরুণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রার্থী মনোনয়ন করা হয়েছে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যোগ্য প্রার্থীই ঠিক করা হয়েছে।
সূত্র বলেছে, পঞ্চগড় সদরে চারজন প্রার্থী মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম সুজন অনেকটা একক সিদ্ধান্তে জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা সারোয়ার হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। কিন্তু জরিপ ও মনোনয়ন বোর্ডের মূল্যায়নের পর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকিয়া আক্তারের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তিনি ওই আসনের সাবেক সাংসদ মোজাহারুল হক প্রধানের লোক বলে পরিচিত। মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য বলেন, এখানে দলীয় সভানেত্রী ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে তৃণমূল থেকে নয়জনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাঁদের সবাই জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা। কিন্তু মনোনয়ন বোর্ডে জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক তাহমিনা মোল্লার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
কুষ্টিয়ায় তৃণমূল থেকে নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রবিউল ইসলামের। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদরের সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমান মেয়র আনোয়ার আলীর বিষয়টি মনোনয়ন বোর্ডের নজরে আনেন দলীয় সভানেত্রী। হানিফ ও আনোয়ার আলীর মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবারের বৈঠকে আনোয়ার আলীর নামই চূড়ান্ত হয়।
রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভার বর্তমান মেয়র নার্গিস খাতুনের নামও তৃণমূল থেকে প্রস্তাব করা হয়নি। কিন্তু মনোনয়ন বোর্ডে নার্গিসের প্রার্থিতার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন সদস্যরা। শেষমেশ তাঁকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়।
মুন্সিগঞ্জ সদরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদের ছেলে ফয়সাল বিপ্লব এবং মীরকাদিমে শহিদুল ইসলামের নাম তৃণমূলের প্রস্তাবে আসে। এই দুই পৌরসভা সাংসদ মৃণাল কান্তি দাসের নির্বাচনী এলাকায়। এখানে মহিউদ্দিন ও মৃণাল কান্তি দাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। মীরকাদিমের শহিদুল মৃণালের ঘনিষ্ঠ। এখানে মহিউদ্দিন ও মৃণাল দুজনেরই মুখরক্ষা করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
টাঙ্গাইল সদরে পৌরসভার বর্তমান মেয়র শহিদুর রহমান খান। তাঁর ভাই সাংসদ আমানুর রহমান খান। টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগের নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় সাংসদ, পৌর মেয়রসহ তাঁদের চার ভাই পলাতক। এবার সেখানে পৌর মেয়র পদে সাবেক মেয়র জামিলুর রহমানের মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। তিনি কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। অবশ্য তৃণমূলও জামিলুরের নামই প্রস্তাব করেছিল।
সূত্র বলেছে, টাঙ্গাইল, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কয়েকটি পৌরসভার মেয়র মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের কেন্দ্রীয় কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের মতামত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলে অধিকাংশ পৌরসভার জন্যই তৃণমূল একক প্রার্থী প্রস্তাব করেছিল।
নেত্রকোনা সদরে বর্তমান মেয়র প্রশান্ত কুমার রায়, ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খানের ভাই মাসুদ খান, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খানসহ নয়জনের নাম কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সূত্র বলেছে, নজরুল ও প্রশান্ত দুজনই উপমন্ত্রীবিরোধী বলয়ের লোক। এঁদের মধ্যে নজরুল ধনী হিসেবে পরিচিত। তাঁর চাচা বিএনপির সাবেক সাংসদ আশরাফ উদ্দিন। নজরুল কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের ঘনিষ্ঠজন। এখানে নজরুলকেই বেছে নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

-প্রথম আলো

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ