Home > রাজনীতি > আচরণবিধিতে অখুশি সাংসদেরা, প্রচারে সুযোগ চান

আচরণবিধিতে অখুশি সাংসদেরা, প্রচারে সুযোগ চান

দলীয় পরিচয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে মাঠপর্যায়ে নিজেদের কর্তৃত্ব খর্ব হওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদেরা। কর্তৃত্ব ধরে রাখতে তাঁরা পৌরসভা নির্বাচনের প্রচারে নামার সুযোগ চান। এ জন্য তাঁরা কাল রোববার নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মেয়র পদে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য তৈরি করা নতুন আচরণবিধির বিষয়ে সরকারি দলের মন্ত্রী-সাংসদদের বেশির ভাগই অখুশি। কারণ, এ আচরণবিধি অনুযায়ী সাংসদদের প্রচারে নামার সুযোগ নেই। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ ও সংসদীয় বোর্ডের জরুরি সভায় আলোচনা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সাংসদেরা যাতে প্রচারে নামার সুযোগ পান, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনে “সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তি” বলতে যাদের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ আছে, তাদের বোঝানো হয়েছে। কিন্তু সাংসদদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই যে তারা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করবে। সে জন্যই আমরা কমিশনের কাছে আবেদন করব, যাতে “অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের” তালিকা থেকে সাংসদদের নাম বাদ দেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, কাল রোববার এ বিষয়ে তাঁরা কমিশনে লিখিত আবেদন জানাবেন।
অবশ্য নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর মতো নির্বাহী কোনো ক্ষমতা সাংসদদের নেই, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সাংসদেরা এলাকায় গেলে এসপি-ডিসিরা (জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক) তাঁদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষায় থাকেন। তাঁরা চলাফেরা করেন পুলিশ নিয়ে। নির্বাচনে তাঁরা যাতে এসব অনৈতিক সুবিধা ব্যবহার না করতে পারেন, সে জন্যই তাঁদের প্রচারে নামার সুযোগ রাখা হয়নি।
কমিশন সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে অনেক এলাকায় সাংসদেরা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে এবার সাংসদদের প্রচারে নামার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কয়েকজন সাংসদসহ মাঠপর্যায়ের আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আইনগত ভিত্তি না থাকলেও বর্তমানে স্থানীয় সরকারের সব ধরনের উন্নয়নকাজ সাংসদদের পরামর্শে হয়ে থাকে। অরাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা সাংসদের সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করার সাহস পান না। কিন্তু এবারের পৌরসভা নির্বাচন হবে রাজনৈতিকভাবে। এতে নির্বাচিত মেয়রের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব বাড়বে। সাংসদেরা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়ররা তাঁদের কথামতো কাজ করবেন না। ভবিষ্যতে মেয়ররা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করতে পারেন। এই আশঙ্কা থেকে সাংসদেরা মাঠের কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য পৌর নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে চান। প্রচারসহ সব কর্মকাণ্ড নিজে তদারকি করতে চান। যাতে নির্বাচিত দলীয় মেয়র সব সময় সাংসদের নিয়ন্ত্রণে থাকেন।
ক্ষমতাসীন দলের এই দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক পাল্টা প্রশ্ন তুলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আচরণবিধি সরকারের আইন মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করেছে। সাংসদেরা তখন কেন আপত্তি করেননি? এখন তফসিল ঘোষণার পর কেন আপত্তি জানাচ্ছেন?’ তিনি বলেন, এখন যদি আচরণবিধি সংশোধন করে সাংসদদের নির্বাচনী প্রচারে নামার সুযোগ দেওয়া হয়, সেটা হবে অনৈতিক। মানুষ বলবে, ক্ষমতাসীন দলকে সুবিধা দিতে কমিশন আচরণবিধি সংশোধন করেছে।
প্রসঙ্গত, পৌর নির্বাচনের জন্য করা নতুন আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না। অতিগুরুত্বপূর্ণ বলতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপ, সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বিরোধীদলীয় উপনেতা বা তাঁদের সমমর্যাদার সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তি, সিটি করপোরেশনের মেয়র ও সাংসদদের বোঝানো হয়েছে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ