Home > রাজনীতি > সাংগঠনিক অভিযানে নামছে আ.লীগ

সাংগঠনিক অভিযানে নামছে আ.লীগ

দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে শুরু হওয়ার সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

তৃনমূলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ চাইছে, আগামী ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর আগে গোছানো, সুশৃঙ্খল ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী দল দেখতে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকে সাংগঠনিক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতালি যাওয়ার আগ মুহূর্তে সাংগঠনিক অনেকগুলো বিষয় নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। ২১শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

দলীয় সূত্র বলছে, গত বছরের ডিসেম্বরে দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া জেলাগুলোর কমিটির সম্মেলন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সে সময় তড়িঘড়ি করে বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঝাঁপিয়ে পড়েন কাজে।

তবে সম্মেলনের আগে ২৭টি জেলার কমিটি করতে পেরেছে তারা। সময় স্বল্পতার কারণে সবগুলো জেলায় হাত দেয়া সম্ভব হয়নি। যদিও ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে গঠিত ওই কমিটি মেয়াদ শেষ হয়ে আসার আগে মাত্র একটি জেলায় সম্মেলন করতে পেরেছে। সেটি হলো সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার। এরপর আর কোনো জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

মৌলভীবাজারসহ এখন পর্যন্ত মোট জেলা কমিটির সম্মেলন হয়েছে ২৮টির। ৭৩টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখনো মেয়দোত্তীর্ণ কমিটি রয়েছে ৪৫টি। এগুলোর মধ্যে অনেক জেলায় দীর্ঘদিন কমিটি হয় না। সেইসব জেলাসহ মেয়াদোত্তীর্ণ যেসব সাংগঠনিক উপজেলা/থানা/পৌর বা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ইউনিট রয়েছে, সেগুলোর সম্মেলন আগামী ৬ মার্চের মধ্যে শেষ করতে হবে। এমন নির্দেশনা পাঠিয়েছে আওয়ামী লীগ।

এর মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে দলের দপ্তর থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাতীয় কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে শেষ হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সারাদেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করতে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, যেসব সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, দ্রুততম সময়ে সেসব জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি যেসব জেলায় সাংগঠনিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি, বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেসব জেলায় সম্মেলন শেষ করতে হবে।

দলীয় সূত্র বলছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজন মুজিববর্ষ সামনে রেখে দলকে ঢেলে সাজাতেই সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। পাশাপাশি দলের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমকেও গতিশীল করার দিকে মনোযোগী হচ্ছে দলটি। চিঠিতে সেই নির্দেশনাও আছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক আট বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে মাহবুব উল-আলম হানিফ (সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ), ডা. দীপু মনি (ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ), ড. হাছান মাহমুদ (রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ) এবং আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম (খুলনা ও বরিশাল বিভাগ)।

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে চট্টগ্রাম বিভাগ, বি. এম মোজাম্মেল হককে খুলনা বিভাগ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে রংপুর বিভাগ, এস. এম কামাল হোসেনকে রাজশাহী বিভাগ, মির্জা আজমকে ঢাকা বিভাগ, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনকে বরিশাল বিভাগ, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলকে ময়মনসিংহ বিভাগ এবং সাখাওয়াত হোসেন শফিককে সিলেট বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম রাইজিংবি‌ডি‌কে বলেন, ‘সিটি নির্বাচনের কারণে আমাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কম হয়েছে। সে কারণে কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা যায়নি। এগুলো পূর্ণাঙ্গ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। নেত্রী বলেছেন, এগুলো পূর্ণাঙ্গ করতে অতি দ্রুত কাজ করতে হবে। আমরাও সেভাবেই এগুচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘খুলনা ও বরিশাল বিভাগের যেসব কমিটির মেয়াদ নেই সেগুলো পুনর্গঠন করা হবে এবং যেসব জেলার কমিটির হয়েছে সেগুলো পূর্নাঙ্গ করা হবে। এক্ষেত্রে দেখে শুনে খোঁজ নিয়ে সুন্দরভাবে কমিটি করা হবে। কমিটিতে ত্যাগী, যোগ্য ও পরীক্ষিত কর্মীরাই আসবে। এই বিষয়গুলো আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। আমরা আগামীকাল বৃহস্পতিবারই রাজশাহী জেলা-উপজেলার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রতিনিধি সভা করব। সেসময় মেয়াদোত্তীর্ন কমিটিগুলোর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। বিকেলে রাজশাহী মহানগরের নেতাদের নিয়ে বসব। আমরা চাচ্ছি ৬ মার্চের আগেই এই সম্মেলন প্রক্রিয়া শেষ করতে।’

সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে আমরা যৌথসভা করে দ্রুতই এই কর্মকাণ্ড শুরু করছি।’

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ