Home > রাজনীতি > সভাপতি-সম্পাদক পদে আলোচনায় শীর্ষে শ্রাবণ-জুয়েল

সভাপতি-সম্পাদক পদে আলোচনায় শীর্ষে শ্রাবণ-জুয়েল

ছাত্রদলের ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন সংগঠনের সাবেক বৃত্তি ও ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।

তার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমানের সঙ্গে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি সাজিদ হাসান বাবুও আলোচনায় আছেন।

নেতাকর্মীরা জানান, সংগঠনের শীর্ষ দুই পদের বিপরীতে প্রার্থীদের মধ্যে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মামলা (১৭টি) রয়েছে।

জানা গেছে, শ্রাবণের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হলেও শ্রাবণের রাজনৈতিক জীবন ছাত্রদল দিয়েই শুরু ।

পারিবারিক রাজনৈতিক স্রোতের সম্পুন্ন বিপরীতে অবস্থান নিয়ে শ্রাবণ একদিকে যেমন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন, তেমনি বিগত দিনে যোগ্যতা ও ত্যাগ থাকার পরও ছাত্রদলের কমিটিতে অবমূল্যায়িত হয়েছেন। আন্দোলন ও সংগঠনমুখি কার্যক্রমের জন্য এবার তার মূল্যায়ণ নিয়ে আশার সঞ্চার ঘটেছে নেতাকর্মীদের মাঝে।

তারা বলছেন, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের বিবেচনায় এতোদিন তাকে মূল্যায়নের জায়গায় নিয়ে যেতে না পারলেও এবার শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থানকে জানান দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

ছাত্রদলের একজন সাবেক সহ-সভাপতি বলেন, শ্রাবণের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যত ছিলো। পারিবারিক রাজনৈতিক কারণে সে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে ভালো করতে পারতো। দীর্ঘ এক যুগের বেশি ক্ষমতায় থেকে অনেক কিছুই সে করতে পারতো। কিন্তু শ্রাবণ তা করেনি।

পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একদিকে মানবেতর জীবনযাপন করেছে, অন্যদিকে জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে আকড়ে রেখে নিজের ক্ষতি করেছে। এখন পদের ক্ষেত্রে এসে তাকে পরিবার দিয়ে মূল্যায়ণ করতে চাইছি। এটা যারা করেন তারা হীনমন্যতায় ভূগেন বলেই নানান অপপ্রচার করছেন। দলের জন্য তাদের ত্যাগের উদাহরণ নাই বলে এটা করছেন।

শ্রাবণের বিষয়ে যশোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর জানান, রাজনৈতিকভাবে শ্রাবণের পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত থাকায় শ্রাবণ দীর্ঘ ১১ বছর ঈদ করতে এলাকায় আসেন না। দলের জন্য তার ত্যাগ রয়েছে। আমরা পরিবার নয়, প্রার্থীর যোগ্যতাকে বিবেচনায় নিতে চাই। দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা কেমন তা বিবেচনায় নিতে চাই।

সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পি বলেন, দলের প্রতি শ্রাবণের ত্যাগ রয়েছে। পরিবার দিয়ে বিবেচনা করলে আওয়ামী লীগ থেকে কেউ বিএনপিতে আসতে চাইবে না।

শ্রাবণের জন্মস্থান যশোরের কেশবপুর পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ বিশ্বাস জানান, শ্রাবণ এলাকার রাজনীতিতেও ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত ছিলো। কেশবপুর ডিগ্রি কলেজেও ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদে ছিলো শ্রাবণ। শ্রাবণ আগাগোড়া বিএনপির আদর্শের সৈনিক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্রাবন বিএনপির দলীয় প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদের পক্ষে প্রত্যক্ষ প্রচারণায় অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তিনি নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারেননি। পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে তার এলাকায় যান ও কাজ করেন। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাচনে তার বাবার পক্ষে ক্যাম্পেইন করতে তিনি এলাকায় আসেননি।

২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি তৎকালীন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তাদের অনুসারীরা শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে মারাত্মক আহত করেন। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাকে ৩ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

তবে সভাপতি পদে শ্রাবণের সাথে হাফিজুরের প্রতিদ্বন্দীতা হওয়া সম্ভাবনা থাকলেও হাফিজুরের বিরুদ্ধে একটিও মামলা নেই।

সাধারণ সম্পাদক পদে মূল আলোচনায় রয়েছেন সাইফ মাহমুদ জুয়েল। তার সঙ্গে আমিনুর রহমান, মো. হাসান (তানজিল হাসান), ইকবাল হাসান শ্যামল আর শাহনেওয়াজকে নিয়েও আলোচনা চলছে। স্লোগান মাস্টার হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক জুয়েলকে নিয়ে একাট্টা নেতাকর্মীরা। তার বিপরীতে ইকবাল হাসান শ্যামলকে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। ধারণা করা হচ্ছে- বিগত দিনে সারাদেশে কমিটি গঠন করায় আকরামুলের নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক রয়েছে।

তবে একই সিন্ডিকেটের আরেকজন প্রার্থী নোয়াখালী অঞ্চল কেন্দ্রীক শাহনেওয়াজ থাকায় ভোটের মাঠে উভয়ের ক্ষতি হবে। ধীরে চলো নীতিতে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন আমিনুর রহমান। আর বরিশাল কেন্দ্রীক ভোটের মাঠে প্রভাব রাখতে চাইছেন মো. হাসান (তানজিল হাসান)।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ