Home > রাজনীতি > হরতালের প্রভাব পড়েনি জনজীবনে

হরতালের প্রভাব পড়েনি জনজীবনে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারা দেশে বাম গণতান্ত্রিক জোটের আধাবেলা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগে রাস্তা অবরোধ, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশি বাধা ছাড়া কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বামজোটের আধাবেলা হরতালে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। অফিস আদালত চলেছে। দোকান পাটও ছিল খোলা। হরতালে জনজীবনে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

বামজোটের সমন্বয়ক ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু দাবি করেন, সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। যান চলাচল করলেও হরতালে মানুষের সমর্থন ছিল। জীবিকার তাগিদে মানুষ হয়তো বাইরে বের হয়েছেন। কিন্তু গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা এই হরতালে মানুষের মৌন সম্মতি ছিল।

রোববার ভোর ৬টা থেকে হরতাল শুরু হয়। চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। বাম গণতান্ত্রিক জোটের এই হরতালের প্রতি নৈতিক সমর্থন দিয়েছিল বিএনপি।

হরতাল চলাকালে রাজধানীর পল্টন মোড়ে সকালে মিছিল সমাবেশ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

সকাল ৭টার পর থেকে পুরানা পল্টন মোড়ে অবস্থান নেন জোটের নেতা-কর্মীরা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তারা যান চলাচলে বাধা দিলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় বাম জোট সমর্থিত বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক হযরত আলীকে আটক করে পুলিশ। পরে উপস্থিত জোটের নেতা-কর্মীদের জোরাল প্রতিবাদের মুখে আধা ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বামজোটের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

সকাল ৭টার দিকে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতা-কর্মীরা টিএসসি থেকে মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি ঘুরে শাহবাগ মোড় অবস্থান নেন। তারা সড়কে বসে পড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। সেখানে বসেই তারা সমাবেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সায়েন্স ল্যাব ও প্রেসক্লাব মোড় থেকে আসা যানবাহনগুলো আটকে যায়। শুধু বাংলামোটরের দিক থেকে প্রেসক্লাবের দিকে যাওয়া সড়কে যানবাহন চলে। ওই এলাকায় বেশকিছু সময় যানজট দেখা দেয়। দুপুর ১২টার দিকে যানজট নিয়ন্ত্রণে আসে।

হরতাল চলাকালে পল্টন মোড়, প্রেসক্লাব, শাহবাগ এলাকা ছাড়া বামজোটের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। অফিস আদালত, স্কুল কলেজ, গণপরিবহন, দূরপাল্লার বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বিমান সবকিছুই ঠিক মত চলেছে। রাজধানীতে তেমন কোনো অপ্রীতিকর খবর পাওয়া যায়নি।

হরতালের সমর্থনে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে মিছিল, সমাবেশ ও পিকেটিং হয়। ঢাকার বাইরেও হরতালের প্রভাব তেমনভাবে কোথাও লক্ষ করা যায়নি। যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক।

আধাবেলা হরতাল শেষে পল্টন মোড়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে পুলিশি হামলার অভিযোগ করা হয়। গ্যাসের দাম কমানো না হলে ১৪ জুলাই জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও এর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। তাদের ডাকা হরতাল পালন করায় দেশবাসীর প্রতি অভিনন্দন জানানো হয়।

হরতাল সফল হওয়ায় অভিনন্দন

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে হরতাল দেশবাসীর পূর্ণ সমর্থনে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হওয়ায় দেশবাসীর প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছেন দুর্নীতি প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান।

তিনি বলেন, বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার জনগণের মতের তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে দরিদ্র ও খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠীর ওপর অর্থনৈতিক নিপীড়ন কায়েম করেছে।

তিনি অবিলম্বে এই মূল্য বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ