Home > রাজনীতি > নীরব বিএনপিতে নজর রাখছে আ.লীগ

নীরব বিএনপিতে নজর রাখছে আ.লীগ

সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি। মাঠের রাজনীতিতে নীরব দলীয় কার্যক্রম। ভেতরে ভেতরে চলছে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কাজ। দলটির বর্তমান এমন হালচাল নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিলেও বিএনপির গতিবিধিকে নজরে রাখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশে ও দেশের বাইরে কী কূটকৌশল করছে বিএনপিনেতা তীক্ষভাবে নজরদারি-পর্যবেক্ষণ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কাছে জানাচ্ছেন।

তথ্য মতে, গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন দলের শীর্ষ নেতারা।

চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবিতে আগামী জুলাই মাসে আন্দোলনে নামবে ২০ দলীয় জোট, এমন সিদ্ধান্তের কথা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। জুলাইয়ে ২০ দলীয় জোট ঢাকাসহ সারা দেশে কর্মসূচি পালন করবে বলেও ঘোষণা দেয়া হয়। দলটির এ ঘোষণার পরই এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

তারা বিএনপির আন্দোলনের সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এখন পর্যন্ত তেমন জোরালো কোনো আন্দোলন করতে পারেনি বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট। এর ধারাবাহিকতায় বিএনপি দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে আগামী মাসেও শক্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না বলে মনে করে আওয়ামী লীগ।

সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন যাত্রা শুরুর কিছুদিন পরই কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেয় সরকার। বিএনপির প্রধান নেতার প্যারোলের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতা করেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের তিন নেতা।

এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক উপদেষ্টা। প্যারোলের বিষয়ে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় এ বিষয়ে আগের নমনীয় অবস্থানে আর নেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের সরকার। প্যারোলের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনরা যে নমনীয়তা দেখিয়েছেন এতদিন, সেখান থেকে অনেকটাই সরে এসেছেন তারা।

খালেদার মুক্তির পথ বিএনপিই ‘রুদ্ধ’ করে রেখেছে বলেও অভিযোগ আওয়ামী লীগের। রাজনৈতিক সমঝোতায় প্যারোল আবেদনে মুক্তি না চাওয়ায় এখন তার মুক্তির বিষয়ে আদালতের মাধ্যম ছাড়া আর ‘কোনো পথ খোলা নেই’ বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীনরা।

জুলাই মাসে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট আন্দোলনের নামে আগের মতো নাশকতা চালালে তা কঠোরভাবে প্রতিহতের হুঁশিয়ারিও দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেন, ‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করে আন্দোলন করলে সে আন্দোলনকে আমরা অবশ্যই অভিনন্দন জানাব। বিএনপির আন্দোলন যদি আগের মতো হয় জামায়াত, শিবির ও জঙ্গিদের নিয়ে দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, সে ক্ষেত্রে তাদেরকে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।

আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা মনে করেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি ও দলটির নেতৃত্বের জোট কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে না। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সরকারবিরোধী শক্ত কোনো আন্দোলন কর্মসূচি পালনের দিকে আপাতত যেতে পারছে না।

দলটির চেয়ারপারসন কারাবন্দি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে থাকা ও শীর্ষ নেতৃত্বে কোন্দলের কারণে জোরালো কোনো কর্মসূচি দলটি পালন করতে পারছে না বলে মনে করেন তারা। নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে চললেও শক্ত কোনো কর্মসূচি দলটি ঘোষণা করতে পারেনি সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বে সমস্যার কারণে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংবাদকর্মীদের বলেন, বিএনপি আন্দোলন করবে, তা বারবার বলেই যাচ্ছে। এখনো তারা পুরোনো কথাই বলছেন।

১০ বছর ধরে তাদের আন্দোলন করতে দেখছি, এখন কবে দেখবো তারাই জানেন। বিএনপির ক্ষমতা থাকলে আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনুক। বিএনপির চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন, নির্বাচন বয়কট আন্দোলনের কর্মসূচি দিলেও মাঠে শক্ত অবস্থান গড়তে সক্ষম হয়নি দলটির বর্তমান নেতৃত্ব।

দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেই দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে মাঠে নামতে চায় দলটি। শুধু বিএনপি নয়, দলটির সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্বকে ঢেলে সাজাতে কাজ করতে শুরু করেছে দলটির নীতিনির্ধারকরা।

আগামী দিনের সরকারবিরোধী আন্দোলন সফল করতে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও মাঠে শক্তি প্রদর্শনে সক্ষম এমন নেতৃত্ব এগিয়ে আনার জন্য কাজ করছেন তারা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আমার সংবাদকে বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের ১০ হাজার আন্দোলনের কথা বিএনপির নেতাকর্মীদের মুখে শুনেছি। কিন্তু একটি আন্দোলনে তাদের মাঠে পাওয়া যায়নি। তাদের এই আন্দোলন কথা প্রতিদিনের অভ্যাস।

এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু ভাবার নেই। পারলে তারা (বিএনপি) আন্দোলন করে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করে দেখাক। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে আবার যদি কেউ এই দেশের সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারতে চায়, আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিহত করবে।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ