Home > রাজনীতি > লতিফের মুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ

লতিফের মুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনতার বাণী,
ঢাকা: ধর্ম অবমাননাকারী
সাবেক মন্ত্রী আব্দুল
লতিফ সিদ্দিকীকে
জামিনে মুক্তি দেয়ায়
হেফাজতে ইসলামসহ
বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের
মধ্যে তীব্র ক্ষোভের
সৃষ্টি হয়েছে।
লতিফ সিদ্দিকীকে ফের
গ্রেপ্তার করে দ্রুত
বিচারের দাবি
জানিয়েছে দলগুলো।
অন্যথায় হরতালসহ লাগাতার
কর্মসূচি দেয়ারও ইঙ্গিত
দিয়েছে তারা।
বেশ কয়েকমাস চুপচাপ
থাকলেও গত ২৬ মে সাত
মামলায় এবং গত ২৩ জুন
আরো ১০ মামলায় তাকে
হাইকোর্ট থেকে জামিন
দেয়া হয়। এ ঘটনায় ইসলামী
দলগুলো বিক্ষোভ মিছিল ও
প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
সোমবার বিকেল ৪টা ৪০
মিনিটের দিকে বঙ্গবন্ধু
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
কলেজ থেকে মুক্তি পান
লতিফ সিদ্দিকী। এ ঘটনায়
ইসলামী দলগুলোর মধ্যে
প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ
মিছিলও করে তারা।
গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর
নিউইয়র্কের জ্যাকসন
হাইটসে টাঙ্গাইল সমিতির
এক মতবিনিময় সভায় আবদুল
লতিফ সিদ্দিকী মহানবী
হযরত মুহাম্মদ (স.) এবং
পবিত্র হজ্ব সম্পর্কে
কটূক্তি করায় দেশজুড়ে
ব্যাপক বিতর্কের ঝড় উঠে।
দেশের আলেম সমাজ ও
ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক
দল এবং সংগঠন তার
গ্রেপ্তার ও বিচারের
দাবিতে আন্দোলন শুরু
করে। বিব্রতকর আবস্থার
মধ্যে সরকার তাকে
মন্ত্রিপরিষদ থেকে
সরিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে
আওয়ামী লীগ তার
প্রাথমিক সদস্যপদ কেড়ে
নেয়।
ওই ঘটনায় লতিফ সিদ্দিকীর
বিরুদ্ধে সারাদেশে
বিভিন্ন জেলায় ২৯টি
মামলা দায়ের করে
বিভিন্ন ব্যক্তি। তার
মধ্যে ঢাকার সিএমএম
আদালতেই সাতটি মামলা
দায়ের করেন বিভিন্ন
ব্যক্তি।
দুই মাস পর ২০১৪ সালের ২৩
নভেম্বর দেশে ফেরেন
লতিফ সিদ্দিকী। এর
তিনদিন পর ২৬ নভেম্বর
ধানমণ্ডি থানায়
আত্মসমর্পণ করলে লতিফ
সিদ্দিকীকে কারাগারে
পাঠানো হয়। সেই সঙ্গে
তিনি কারাগারেই রয়েছেন।
গত ২৪ মে ঢাকা মহানগর
দায়রা জজ কামরুল হোসেন
মোল্লা ঢাকার সাত
মামলায় জামিনের আবেদন
নামঞ্জুর করলে
হাইকোর্টে জামিনের
আবেদন করেন লতিফ
সিদ্দিকীর আইনজীবীরা।
গত ২৬ মে সাত মামলায় এবং
গত ২৩ জুন আরো ১০ মামলায়
তাকে হাইকোর্ট থেকে
জামিন দেয়া হয়।
লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন
দেয়ার প্রতিবাদ এবং
তাকে দ্রুত
গ্রেপ্তারের দাবি
জানিয়ে হেফাজতে
ইসলামের ঢাকা মহানগরের
সদস্য সচিব জুনায়েদ আল
হাবীব বলেন,
‘বাংলাদেশের
স্বাধীনতার পর থেকে
কোন নাস্তিককে ছেড়ে
দেয়া হয়নি। আর এখনো
কাউকে ছেড়ে দেয়া হবে
না। লতিফ সিদ্দিকীকে
বাংলাদেশের মাটিতে
মুক্ত অবস্থায় থাকতে
পারবে না। তার স্থান
হচ্ছে কারাগার। সরকারের
প্রতি আহবান লতিফ
সিদ্দিকীকে দ্রুত আটক
করে বিচার করে ফাঁসি
দেয়া হোক।’
শুক্রবার সারা দেশে
বিক্ষোভের ডাক
লতিফ সিদ্দিকীকে
মুক্তি দেওয়ার
প্রতিবাদে শুক্রবার
দেশের সকল মসজিদে
বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে
ইসলামী ঐক্যজোট।
সম্মিলিত ইসলামী দলের
মহাসচিব মাওলানা
জাফরুল্লাহ খান বলেন, এখন
মনে হচ্ছে সরকার লতিফ
সিদ্দিকীকে নিয়ে যা
করেছে তা ছিল আইওয়াশ।
কারণ সরকার সত্যিকার
অর্থে স্বঘোষিত এই
নাস্তিকের বিচার করতে
চাইলে তাকে মুক্তি দিত
না। কোটি কোটি
মুসলমানের ধর্মীয়
অনুভূতিতে আঘাত দেয়া
এই মুরতাদকে সরকার মুক্তি
দিতে পারে না।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত
ছিল তার বিচার করা।
বিচারে নির্দোষ
প্রমাণিত হলে তিনি
খালাস পেতেন। কিন্তু
সরকার তা না করে তাকে
জামিন দিয়ে দিয়েছে।
আমরা সরকারের এই
ছলচাতুরী কোনভাবেই
মেনে নিতে পারি না,
ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতা
এটা মেনে নিবে না।
সংশ্লিষ্ট নেতাদের
সঙ্গে বৈঠক করে এ
ব্যাপারে পরবর্তী করণীয়
ঠিক করবেন বলে জানান
জাফরুল্লাহ খান।
ওদিকে লতিফ সিদ্দিকীর
জামিন বাতিল করে
অবিলম্বে তাকে
গ্রেপ্তার করে ফের
কারাগারে পাঠানোর
দাবি করেছে ঢাকা মহানগর
হেফাজতে ইসলাম। অন্যথায়
কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা
হবে বলে হুমকি দিয়েছে
সংগঠনটির নেতারা।
সন্ধ্যায় রাজধানীর
বারিধারায় এক ইফতার
মাহফিলে এ ঘোষণা দেন
মহানগর নেতারা।
লতিফ সিদ্দিকীর মুক্তির
প্রতিবাদে গতকাল
সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিক
বিক্ষোভ মিছিল বের করে
ইসলামী ঐক্যজোট। এই
ইস্যুতে আগামী শুক্রবার
দেশের সকল মসজিদে
বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা
করেছে তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশে
ইসলামী ঐক্যজোটের
মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ
বলেন, মুরতাদ আবদুল লতিফ
সিদ্দিকীদের বিরুদ্ধে
সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান
রেখে আইন করা না হলে
তাগুত, জাহেলিয়াতের
বিরুদ্ধে ঈমানদারদের যে
গণআন্দোলন গড়ে উঠবে
সেটা রুখবার সাধ্য কারো
হবে না।
সংগঠনের নেতা মাওলানা
যুবায়ের আহমদ বলেন, আপাত
দৃষ্টিতে
নাস্তিক্যবাদী অপশক্তি
নিজেদের যতোই
শক্তিশালী ও চিরস্থায়ী
মনে করুক না কেন, তারা
ভেতর থেকে ক্ষয়ে গিয়ে
ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রতিটা ইসলামবিরোধী,
জনবিরোধী কাজের
বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে
তুলতে হবে সাহস ও দৃঢ়তা
নিয়ে। ইসলামী শক্তিকে
বিকল্প শক্তি হিসেবে
দৃশ্যমান হতে হবে।
খেলাফত যুব আন্দোলনের
সভাপতি মুফতি ফখরুল ইসলাম
আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে
মুক্তি দেয়ার তীব্র
নিন্দা, ক্ষোভ, ধিক্কার
জানিয়ে বলেন, দেশের নবী
প্রেমিক তৌহিদী
জনতাকে ধোঁকা দিয়ে
তাকে গ্রেপ্তারের
নামে জামাই আদরে লালন
করে পবিত্র রমজান মাসে
মুক্তি দিয়ে প্রমাণ
করেছে এ সরকার
নাস্তিকদের সহযোগী।
তিনি বলেন, লতিফ
সিদ্দিকী নবী করীম (সা.),
হজ ও তাবলীগ নিয়ে যে
কটূক্তি করেছেন তা তার
নিজের থেকে করেনি মনে
হয়। সরকার পশ্চিমা
দেশগুলোকে সন্তুষ্ট
করার জন্য লতিফ
সিদ্দিকীকে দিয়ে এহেন
জঘন্য কাজ করিয়েছে। না হয়
পবিত্র রমজান মাসে তাকে
মুক্তি দিয়ে দেশের
ধর্মপ্রাণ নবীপ্রেমিক
মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত
দিতো না।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ