Home > রাজনীতি > ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি: খালেদা

ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি: খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
জনতার বাণী,
ঢাকা: যারা আজ বড় বড় কথা
বলছেন, তাদের কী পরিণতি
হবে তা তারা বুঝতে পারছে
না বলে মন্তব্য করেছেন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম
খালেদা জিয়া।
সোমবার ইস্কাটন গার্ডেনের
লেডিস ক্লাবে জাতীয়
গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা
আয়োজিত ইফতার মাহফিলে
তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান
জানিয়ে খালেদা জিয়া
বলেন, ‘২০-দলীয় জোট আমরা
আছি। আমরা মন্ত্রী-এমপি
কিংবা বড় কিছু হওয়ার জন্য নয়,
আমরা আছি এ দেশকে রক্ষা
করার জন্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে
রক্ষায় দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
করে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র
ফিরিয়ে দিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ
হয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ
যত বড় বড় কথাই বলুক, তারা সফল
হবে না। আল্লাহ আমাদের সহায়
আছেন। পবিত্র রমযান মাসে
আল্লাহর কাছে আমরা দোয়া
করবো। আমাদের কারো কারো
দোয়া কবুল হবে। এই জালেমরা
বিদায় নেবে।’
‘কিন্তু তাদের যারা আজকে বড়
বড় কথা বলছেন, তাদের কী
পরিণতি হবে তা তারা বুঝতে
পারছেন না। যখন বুঝবেন, তখন
দেশের জনগণের কাছে না
ক্ষমা পাবেন, না আল্লাহর
কাছে ক্ষমা পাবেন। তাদের
কোথাও জায়গা হবে না’
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন
খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, ‘অবৈধ সরকার
নিজেদের ক্ষমতাকে
পাকাপোক্ত করার জন্য শুধু
সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন
বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু সাধারণ
মানুষের প্রতি তাদের কোনো
নজর নেই। গণতন্ত্রহীন দেশে
মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে
দিশেহারা। নিত্যপণ্যের দাম
বেড়েই চলছে। সাধারণ
মানুষেরা রোজা রাখছে।
কিন্তু দুই বেলা ভালোমতো
খেতে পারছে না।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘দেশের অবস্থা এমন হলেও
কিন্তু সরকারের কোনো
চিন্তা-ভাবনা নেই। তারা
আছে লুটপাট নিয়ে। কিভাবে
ক্ষমতাকে আরো পাকাপোক্ত
করবে। কিভাবে ২০-দলীয়
জোটের নেতাকর্মীদের ওপর
জুলুম অত্যাচার নির্যাতন করবে
তারা আছে এটা নিয়েই।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের
প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
‘আমাদের মহাসচিবকে জামিন
দিয়েছে আদালত। তারপরেও
তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এখন
আবার মামলা দিয়েছে। কিন্তু
তাদের দলের লোকেরা খুন
করেও ছাড়া পেয়েই যাচ্ছে।
তাদেরকে ধরাই হয় না।’
খালেদা জিয়া অভিযোগ করে
বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে
ব্যাপক পরিমাণে মাদক দ্রব্য আমদানি
করে দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস
করে দিচ্ছে। ‍আজ দেশকে ধ্বংস
করার জন্য এই আওয়ামী লীগের
লোকজনকেই নামানো হয়েছে।
‘এদের কাজ হচ্ছে লুটপাট, দখল
এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বন্ধ করে
দেয়া। একই সংঙ্গে মাদক
আমদানি করছে তারা। আওয়ামী
লীগ নিজেরা নষ্ট হয়ে গেছে,
এখন সমাজটাকে নষ্ট করতে
চাচ্ছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন,
‘আজকে মহিলারা নিরাপদ নয়;
ঘরে-বাইরে কিংবা
ইউনিভার্সিটিতে, কোথাও
তারা নিরাপদ নয়। আগে আমরা
কোথাও দেখিনি, বাসে-
ট্রেনে কোথাও মেয়েদের
ওপর নির্যাতন হতো।’
‘এখন আওয়ামী লীগ প্রচুর অবৈধ
টাকা আয় করছে। কোথাও খরচ
করবে বুঝতে পারছে না। সেই
জন্য এখন তারা গণধর্ষণের মতো
কাজ করছে। দুঃখ হয়। দেখেন,
বাংলাদেশ এখন কোন পর্যায়ে
গেছে’ যোগ করেন তিনি।
জাগপা সভাপতি শফিউল আলম
প্রধানের সভাপতিত্বে ইফতার
মাহফিলে অন্যদের মধ্যে
উপস্থিত ছিলেন, এলডিপির
চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি
আহমদ, জাতীয় পার্টির (জাফর)
চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদ,
জামায়াতে ইসলামীর নেতা
আমীনুল ইসলাম, ইসলামী
ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল
লতিফ নেজামী, খেলাফত
মজলিশের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক,
এনডিপির খন্দকার গোলাম
মূর্তজা, ন্যাপের জেবেল রহমান
গানি, লেবার পার্টির
মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ-
ভাসানীর আজহারুল ইসলাম,
বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন
প্রকাশ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ
আহমেদ, জমিয়তে উলামা
ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন
ইকরাম, পিপলস লীগের গরীবে
নেওয়াজ, ডিএল’র সাইফুদ্দিন
আহমেদ মনি, ইসলামিক পার্টির
আবু তাহের চৌধুরী, কল্যাণ
পার্টির এমএম আমিনুর রহমান,
জাতীয় দলের এহসানুল হুদা,
জাগপার সহসভাপতি রেহানা
প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার
লুৎফর রহমান প্রমুখ।
এছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা
লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ইকবাল
সিদ্দিকী, ২০-দলীয় জোটের
গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া,
মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা,
সৈয়দ মাহবুব হোসেন, আহসান
হাবিব লিংকন, এএসএম শামীম,
খালেকুজ্জামান চৌধুরী,
আসাদুর রহমান খান, শিক্ষাবিদ
অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক
সুকোমল বড়ুয়া, অধ্যাপক আসিফ
নজরুল, কবি আল মুজাহিদী
ইফতারে উপস্থিত ছিলেন।
ইফতারে বিএনপি নেতাদের
মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির
সদস্য এম কে আনোয়ার, আবদুল
মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান,
সেলিমা রহমান, আবদুল হালিম,
হায়দার আলী, ফজলুল হক মিলন,
নিতাই রায় চৌধুরী, সৈয়দ
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,
খায়রুল কবীর খোকন, হাবিবুর
রহমান হাবিব, নুরে আরা সাফা,
শিরিন সুলতানা, হেলেন
জেরিন খান, শ্যামা ওবায়েদ,
বিএনপির ‘নিখোঁজ’ সাংগঠনিক
সম্পাদক ইলিয়াস আলীর স্ত্রী
তাহসিনা রুশদি লুনা, শফিউল
আলম প্রধানের মেয়ের
ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান,
আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন
সাঈদীর ছেলে শামীম বিন
সাঈদী, আবদুল কাদের মোল্লার
ছেলে হাসান জামিল, এম
কামরুজ্জামানের ছেলে হাসান
ইমাম ওয়ামি প্রমুখ ইফতার
মাহফিলে অংশ নেন।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ