Home > রাজনীতি > শিগগিরই পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে যুবদল

শিগগিরই পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে যুবদল

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা : শিগগিরই নতুন নেতৃত্বের আদলে পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। যুবদল ছাড়াও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও সংগঠন পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পুনর্গঠন করা হবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল ও জাসাস। আর এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় প্রথমেই যুবদলের পুনর্গঠন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যুবদলের নেতৃত্বে কারা আসছেন তা এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতর সূত্র জানায়, বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামের আমলনামা বিবেচনায় রেখেই পুনর্গঠন করা হচ্ছে যুবদল। ইতিমধ্যে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যুবদলের নেতাকর্মীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর আলোকেই শিগগিরই পুনর্গঠন করা হবে জাতীয়তাবাদী যুবদল।

যুবদলের দফতর সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে সাবেক ছাত্র নেতা সানাউল হক নীরু, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিবর ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সাবেক ছাত্র নেতা কামরুজ্জামান রতন, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, মহানগর উত্তরের সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল মজনু প্রমুখ।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, আলোচনায় থাকলেও এই মুহূর্তে সানাউল হক নীরু যুবদলের নেতৃত্বে আসতে চাচ্ছেন না। কারণ, নীরুর অধীনে ছাত্র রাজনীতি করে কেউ কেউ এখন মূল দলের যুগ্ম মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তবে অনেকেই যুবদলকে গতিশীল করার জন্য এ মুহূর্তে নীরুর বিকল্প নেই বলে মত প্রকাশ করছেন।

এদিকে রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজ থাকার পরও নরসিংদীকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা বিবেচনায় নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন যুবদলের নেতৃত্বে নাও আসতে পারেন। সেক্ষেত্রে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কামরুজ্জামান রতন, সাইফুল আলম নিবর, সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর মধ্যে থেকেই যুবদলের নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

যুবদলের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে তারা শীর্ষ নিউজকে জানান, নেতৃত্ব পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। যুবদলের ভেতর যারা আছেন এরা বিগত সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে ন্যূনতম পারফরমেন্সও দেখাতে পারেননি। বলা যায়, শতভাগ ব্যর্থ। কিন্তু, এরা ভেতরে ভেতরে তদবির চালাচ্ছেন পদ আঁকড়ে রাখার জন্য। যাতে বাইরে থেকে কাউকে নেতৃত্বে না দেয়া হয় এজন্য ব্যাপক লবিং করে যাচ্ছেন।

শীর্ষ নিউজের সঙ্গে আলাকালে যুবদলের একজন নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী কর্মকা- বন্ধ করতে হলে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করতে হবে। আর এ জন্য শক্তিশালী যুবদল দরকার।

বিএনপির এ অঙ্গ সংগঠনটি শক্তিশালী করতে বেগম খালেদা জিয়া কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলেও বিশ্বাস করেন নেতারা।

পুনর্গঠনের বিষয়ে বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল শীর্ষ নিউজকে বলেন, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন নেতাকর্মীরা তা মেনে নিয়েই কাজ করবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি পুনর্গঠন করা হলে যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে যুগ্ম মহাসচিব করা হতে পারে এমন ইঙ্গিত রয়েছে দলের ভেতরে। ইতিমধ্যে যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম আজাদকে বিএনপির (ঢাকা বিভাগ) সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। সেকারণে আজাদ যুবদলের নেতৃত্বে নাও থাকতে পারেন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সভাপতি ও সাইফুল আলম নিরবকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

শীর্ষ নিউজ/

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ