বিএনপিকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান

  নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের জন্য বিএনপিকে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে স্বাস্থ্য সহকারীদের মহাসমাবেশে তিনি বিএনপিকে এ পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন ঢাকা বিভাগ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘শিক্ষা গ্রহণ করুন, নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হোন। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন ফেয়ার হয়েছে। কেউ বলে নাই নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। তারপরও বিএনপি মাঝে মাঝে  বলে, যে কথা বলে সেগুলো বলতে চাই না। পরাজিত হলে তো অনেক কথাই বলে। ২০১৯ সালে নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনার অধীনে ফেয়ার হয় তা গতকালই প্রমাণ হয়েছে। তাই বেগম জিয়াকে বলবো ভুল সংশোধন করে জামায়াতকে পরিহার করে আসুন, মাঠে খেলা হবে ২০১৯ সালে।’

নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচনের আওয়ামী লীগের জয় ও বিএনপির পরাজয়ের বিষয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে নৌকা ও ধানের শীষে সরাসরি লড়াই হয়েছে। তাতে বিজয়ের মাসে আরেকটি বিজয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বিজয় হয়েছে শেখ হাসিনার।’

ধানের শীষের পরাজয়ের মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কেন ধানের শীষ ব্যর্থ হল, বিএনপি ব্যর্থ হল? তারা নৈরাজ্য করেছিল। প্রথম সুযোগেই মানুষ নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। এ ছাড়া জামায়াতকে ছাড়ে নাই খালেদা জিয়ার দল। বিজয়ের মাসেও তারা জামায়াতকে ভুলতে পারে না। ঘাতকদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলবে বলে মানুষ বিএনপিকে, ধানের শীষে ভোট দেয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা ছাড়া আমাদের বিকল্প নাই। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  এর আগে কখনো এতো বিপুল সংখ্যক নার্স নিয়োগ হয়নি। আপনারা যে দাবি তুলে ধরেছেন শিগগিরই আলোচনা করে দাবি পূরণের চেষ্টা করবো।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. আবুল ওয়ারেশ পাশা পলাশ। বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহমুদ হাসান, বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আনসারী ও সাধারণ  সম্পাদক এনায়েত রাব্বী লিটন।

%d bloggers like this: