Home > অন্যান্য > আমার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দাও : অ্যাসাঞ্জ

আমার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দাও : অ্যাসাঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাজ্য ও সুইডেনের সরকারের প্রতি বলেছেন, ‘আমার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দাও।’

লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে চার বছরের বেশি সময় ধরে বাস করছেন অ্যাসাঞ্জ। তার আশঙ্কা, দূতাবাস ত্যাগ করলে যুক্তরাজ্য সরকার তাকে সুইডেনের হাতে তুলে দেবে এবং সুইডেন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রত্যর্পণ করবে।

সুইডেনে করা যৌন হেনস্তার মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর জাতিসংঘের একটি লিগ্যাল প্যানেল তাকে মুক্ত করে দিতে বলে। কিন্তু তাকে ছাড়া হয়নি। ইকুয়েডর দূতাবাসে গৃহবন্দি ও নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে তাকে। দূতাবাসের বাইরে এলেই তাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি রাখা হয়েছে।

জাতিসংঘের লিগ্যাল প্যানেল অ্যাসাঞ্জকে মুক্ত করে দিতে বললেও যুক্তরাজ্য জানিয়েছিল, এতে তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে না।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নজরবন্দিবিষয়ক জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছিল, অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাজ্য ও সুইডেন সরকার নজরবন্দি করে রেখেছে। তাকে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

অ্যাসাঞ্জ বলেন, জাতিসংঘের ওই রায়ের এক বছর পার হলেও দুই সরকার তা আমলে নেয়নি। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাজ্য ও সুইডেন সরকারকে আমি বলব, ‘সঠিক কাজটি করুন এবং আমার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিন… এ দুটি রাষ্ট্র জাতিসংঘ ও এর মানবাধিকার বিষয়াবলিকে স্বীকৃতি দিয়ে চুক্তিসমূহে স্বাক্ষর করেছে।’

যুক্তরাজ্য ও সুইডেন সরকার জাতিসংঘ ওয়ার্কিং গ্রুপের আইনি কর্মকাণ্ড গ্রহণ করছে এবং তারা এই মামলার ওপর ১৬ মাস ধরে যে তদন্ত করছে তাও প্রত্যাহার করেনি দুই সরকার। এ বিষয়ে অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘তারা পরাজিত হয়েছিল, আপিল করেছিল এবং আবারও হেরেছে।’

অ্যাসাঞ্জ বলেন, ‘জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের এই সিদ্ধান্তে সম্মান না দেখানোর চরম মূল্য দিতে হবে… দণ্ডিত না হলেও এখন অন্য দেশগুলো যুক্তরাজ্য ও সুইডেনের নাগরিকদের বন্দি করে রাখতে পারে এবং এতে করে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়বে জাতিসংঘের মানবাধিকার বাস্তবায়ন ব্যবস্থা।’

২০১২ সালের ১৯ জুলাই থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে বাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ৫ লাখ গোপন নথি ফাঁসকারী জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এরপর বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন সামরিক তৎপরতা নিয়ে তোড়পাড় সৃষ্টি হয়।

যৌন হেনস্তার অভিযোগে সুইডেনে প্রত্যর্পণের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিলে হেরে যাওয়ার পর ইকুয়েডরের কাছে আশ্রয় চান তিনি। ইকুয়েডর দূতাবাসের একটি ছোট কক্ষে বাস করেন অ্যাসাঞ্জ। তার কক্ষে একটি বিছানা, সান ল্যাম্প, ট্রিডমিল আছে এবং রান্না ও গোসলের ব্যবস্থা রয়েছে। একটি কক্ষের চার দেয়ালের মাঝে থেকেও অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

উইকিলিকস জানিয়েছিল, চেলসি ম্যানিংয়ের সাজা মওকুফ করা হলে প্রত্যর্পণে রাজি আছেন অ্যাসাঞ্জ। চেলসি ম্যানিং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার গোপন নথি তুলে দিয়েছিল উইকিলিকসের হাতে।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতা ছাড়ার আগে চেলসি ম্যানিংয়ের সাজা কমিয়ে দিয়েছেন। ১৭ মে তিনি মুক্ত হবেন। তবে যতক্ষণ তার অধিকারের সুরক্ষা দেওয়া হবে, ততক্ষণ তিনি তার আগের প্রস্তাবেই রাজি থাকবেন। অর্থাৎ ম্যানিং মুক্ত হওয়ার পর তাকে ইকুয়েডরে প্রত্যর্পণ করা হলেও তাতে আপত্তি থাকবে না অ্যাসাঞ্জের।

আপনার ওয়েবসাইট তৈরি করতে ক্লিক করুন........
Ads by জনতার বাণী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

শিরোনামঃ